বিজ্ঞাপন

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত সিটি গড়ার অঙ্গীকার আতিকুলের

January 14, 2020 | 11:38 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত সিটি গড়ার অঙ্গীকার করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, নির্বাচনে আমিসহ আমার কাউন্সিলররা বিজয়ী হলে আমরা প্রতিবছর আয়ের হিসাব দেবো। স্বচ্ছতা ও জবাবহিদিতার জন্য এবং দুর্নীতিমুক্ত সিটি গড়ার জন্য আমি তা নিশ্চিত করব।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে আগারগাঁও তালতলা শতদল কমপ্লেক্স মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি প্রচারণা অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আতিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত হলে শুধুমাত্র আয়-ব্যয়ের হিসাবই নয়, প্রতিবছর একটি করে স্মৃতি হল মিটিং করার চেষ্টা করব। সেটা হবে জবাবদিহিতার মিটিং, নিজেদের আয়ের হিসাব দাখিলের মিটিং।

নৌকা প্রতীকের এই মেয়রপ্রার্থী আরও বলেন, আমাদের চ্যালেঞ্জ অনেক। কিন্তু আমরা মনে করি ইম্পসিবল বলে দুনিয়াতে কিছু নেই। সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করতে পারি, আমরা সম্ভব করে ফেলব। আমাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আগামী ৩০ জানুয়ারির নির্বাচন। এজন্য আমি নেতাকর্মীদের সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা প্রত্যেকে মানুষের দ্বারে দ্বারে যান, সেখানে গিয়ে উন্নয়নের কথা বলুন।

৯ মাস ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র থাকাকালীন উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে আতিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোতে ছিল সড়কে সাইকেল লেন স্থাপনের কথা। সেটা আমরা শুরু করতে পেরেছি, কাজ শুরু করে দিয়েছি। সেটা বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই এলাকায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা করেছি, যেখানে আলাদা সাইকেল লেন স্থাপন করা হয়েছে। গাড়ি পার্কিং, সাইকেল লেন, বাগান— সবই থাকবে।

এছাড়াও মোহাম্মদপুরে সাতটি পার্কের আধুনিকায়ন করেছেন বলে জানান আতিকুল। আগারগাঁওয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের চেয়েও বড় সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, এই এলাকার মানুষজন এই সড়কে বিনোদন পাবেন, হাঁটতে পারবেন।

ওয়ার্ডভিত্তিক সব সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি আরও কিছু সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দেন মেয়রপ্রার্থী আতিকুল। তিনি বলেন, খেলার মাঠ যত বেশি থাকবে, তত বেশি আমাদের তরুণ ও যুবকরা খেলাধুলার সুযোগ পাবে। তখন সবাই মাদক থেকে দূরে থাকবে। সবাইকে অনুরোধ করব, আসুন, মাদককে আমরা প্রতিরোধ করি, যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করি। আমাদেরকে মাদকের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করতে হবে। কোনো কিছুই সফল হবে না যদি আমরা মাদক প্রতিরোধ করতে না পারি।

সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন— এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আতিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল, বিএনপির প্রতিদিনের কাজই হচ্ছে অভিযোগ করা, মিথ্যা কথা বলা। আমরা যেমন প্রতিদিন সকালে নাস্তা করি, ব্যায়াম করি, তেমনি বিএনপি প্রতিদিন সকালে উঠে একটি কথা বলে যে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। আমি আমার নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীকে অনুরোধ করব— এ ধরনের মিথ্যা কথা, মিথ্যা প্রচার থেকে বিরত থাকবেন।

আতিকুল বলেন, গতকাল (সোমবার) আমি খিলগাঁও তালতলা এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছি। সেখানে তারা রিকশায় ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। আমার নির্বাচনি প্রচারণা দল থেকে সেখানে হামলা চালানো হয়নি, বরং আমি হাততালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছি। তারা ফার্মগেট এলাকায় নির্বাচনি ক্যাম্পেইন করেছে, উত্তরায় ক্যাম্পেইন করেছে। তারা সব জায়গায় নির্বিঘ্নে নির্বাচনি ক্যাম্পেইন চালিয়েছে। একটি জায়গাতেও তাদের ওপর হামলা হয়নি।

নির্বাচনি প্রচারণায় প্রার্থীর সঙ্গে সংসদ সদস্যদের ভোট চাওয়ার নিয়ম না থাকলেও মঙ্গলবার আগারগাঁও তালতলা শতদল কমপ্লেক্স মাঠে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাদেক খানকে নির্বাচনি প্রচারণায় দেখা গেছে। এটি নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন কি না— তা জানতে চাইলে আতিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যে জেনেছি, এমপি-মন্ত্রীরা প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। আমি এখানে আসার পরে কোনো সংসদ সদস্যকে কি কেউ দেখেছেন? আমি দেখিনি। বাস্তবতা হলো— এটা তার সংসদীয় এলাকা। এখানে অন্য কোনো কাজে তিনি আসতেই পারেন। তবে নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি যে অংশ নেননি, সেটা তো আপনারাই দেখেছেন।

চোখের সমস্যার জন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়ায় এদিন নির্বাচনি প্রচারণায় কিছুটা দেরিতে আসেন আতিকুল ইসলাম। বিষয়টি সবাইকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

এ নির্বাচনি প্রচারণা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বেলায়েত হোসেন খান। এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ফোরকান হোসেন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী হামিদা আক্তার মিতা।

সারাবাংলা/এসবি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন