বিজ্ঞাপন

পেঁয়াজ নিয়ে আর সংকট হবে না, সংসদে আশাবাদ কৃষিমন্ত্রীর

January 16, 2020 | 6:48 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

সংসদ ভবন থেকে: পেঁয়াজের দাম বাড়তি হলেও স্থিতিশীল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। এ বছর পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লেও ভবিষ্যতে পেঁয়াজ নিয়ে দেশে কোনো সংকট তৈরি হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

কৃষিমন্ত্রী বলেন, এখন পেঁয়াজের মৌসুম। ভারত এরই মধ্যেই পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। দেশটি থেকে পেঁয়াজ আসছে। অন্যান্য দেশ থেকেও পেঁয়াজ আসবে। কোনোভাবেই পেঁয়াজের দাম ১১০ টাকা কেজি থাকবে না। ভবিষ্যতে পেঁয়াজ নিয়ে কোনো সংকটও থাকবে না।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শিরিন আখতারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদে এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে দাম কিছুটা বাড়তি থাকলেও স্থিতিশীল রয়েছে। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে আগামীতে পেঁয়াজ নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হবে না। যদি আমদানি করতেই হয়, তবে আগে থেকেই আমদানির ব্যবস্থা করা হবে। কৃষকরা যেন পেঁয়াজ উৎপাদন করে ন্যায্যমূল্য পান, তার জন্য স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ড. আব্দুর রাজ্জাক সংসদকে জানান, দেশে ২৩ থেকে ২৪ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, কিন্তু চাহিদা ৩০ থেকে ৩২ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদা পূরণে বাকি পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। গত মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে জমিতেই পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ঘাটতি বেড়ে যায়। এর মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমদানি বাজার ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে দেশে হু হু করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়, আমরা বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। পরে সরকার দ্রুত চীন, মিশরসহ কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

বিজ্ঞাপন

ভবিষ্যতে পেঁয়াজের সংকট ঠেকাতে সরকার পেঁয়াজকে গুরুত্ব দিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাঠ পর্যায়ে প্রণোদনার কারণে আগের তুলনায় এবার পেঁয়াজের উৎপাদন হবে বেশি। সে ক্ষেত্রে আমদানি বন্ধ করে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করব। কারণ পেঁয়াজ পচনশীল। ভরা মৌসুমে কৃষকরা পেঁয়াজ খুব অল্পমূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এতে পেঁয়াজ উৎপাদনে তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। আগামীতে এটা যেন না হয়, সে বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা পেঁয়াজ নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা করেছি। বিজ্ঞানীরা অনেক উন্নতমানের জাত আবিষ্কার করেছেন। এসব জাতের বীজ থৈকে হেক্টরে ৩০ টন পর্যন্ত পেঁয়াজ উৎপাদন করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

মসলায় গুরুত্ব দিয়েছে সরকার

সরকার মসলা উৎপাদনকেও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বলে সংসদকে জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক কারণে সব মসলা বাংলাদেশে হয় না। অনেক মসলা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তবে বগুড়াতে একটি গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। এখন অনেক মসলা বাংলাদেশেও উৎপাদিত হবে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, আর্ন্তজাতিক বাজারে এলাচিসহ মসলার দাম বাড়তি। তবে আমরা মসলা উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছি। এ জাতীয় মসলা যারা আবাদ করবে, তাদের জন্য ৪ শতাংশ সুদ হারে ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ কৃষকরা যদি মসলা বা পেঁয়াজ উৎপাদন করে, তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবে। এটি তাদের জন্য প্রণোদনা।

এ বছর সবজির দামও তুলনামূলকভাবে বেশি। এ নিয়ে উভয় সংকটের কথা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সবজি আবাদ করতে যে খরচ হয়, সে অনুযায়ী কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। অন্যদিকে বাজারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তি। আমরা এমন একটা জায়গায় আছি, আমাদের জন্য উভয় সংকট। দাম বেশি হলে নিম্ন আয়ের মানুষদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক কষ্ট হয়, অন্যদিকে দাম একদম কমে গেলে চাষিরা ফসল বিক্রি করে সংসার চালাতে পারেন না। তাই দাম অবশ্যই সহনশীল পর্যায়ে থাকতে হবে। তবে এটাও মানতে হবে, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে খরচ অনেক বেশি।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন