বিজ্ঞাপন

কালোবাজারিদের দাপটে পরাভূত ক্রিকেট

January 17, 2020 | 5:09 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ভদ্রলোকের নাম ফারুক। বয়স ৩৭ কি ৩৮ হবে। টঙ্গীতে ছোট খাট ব্যবসা করেন। থাকেনও ওখানে। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের বেশ কয়েকটি ম্যাচ শের-ই-বাংলার গ্যালারিতে বসে দেখেছেন। কাজেই বিপিএল ফাইনাল দেখার প্রয়াস তার ভেতরে ছিল। তবে এটাও জানতেন অন্য আট দশটি ম্যাচের মত বিপিএল ফাইনালের টিকিট পাওয়া সহজ হবে না।

বিজ্ঞাপন

সেই ভাবনা থেকেই কাকা ডাকা ভোরে ঢাকায় এসেছেন। ইচ্ছে ছিল মিরপুরের টিকিট বুথ থেকে টিকিট নিয়ে খেলা দেখবেন। কিন্তু হায়! সকাল গড়িয়ে দুপুর শেষ হয়ে বিকেল ঘনিয়ে এলো। কিন্তু এখনো টিকিটের সঙ্গে তার দেখা মেলেনি তার।

বিজ্ঞাপন
কালোবাজারিদের দাপটে পরাভূত ক্রিকেট

দেখা হবে কি করে? টিকিটই যে নেই! টিকিট সব বলতে গেলে কালোবাজারিদের দখলে। কালোবাজারিরা ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে হাজার হাজার টিকিট কিনে মজুদ করে এখন তা হাঁকাচ্ছে চড়া দামে। ৩শ টাকার টিকিটের দাম চাইছেন ৮শ টাকা। আর ৪শ টাকার টিকিট বিক্রি করছেন ১২শ টাকা দামে। কেউ কেউ নাকি ১৫শ টাকাতেও কিনছেন ফাইনালের টিকিট! যাদের কাছে টাকা আছে তাদের কথা আলাদা। সাপ্তাহিক ছুটির দিনের বিনোদনের দাম যাই হোক না কেনো কিনে নিচ্ছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু ফারুকের মত স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে তো আর এত দাম দিয়ে ক্রিকেটের আনন্দে শামিল হওয়া সম্ভব নয়। একটি টিকিট পেতে ক্রিকেটের এই নিখাঁদ ভক্ত কি করেননি?

ঘণ্টার পর ঘণ্টা বুথের লাইনে দাঁড়িয়ে যখন ব্যর্থ হয়েছেন তখন শরণাপন্ন হয়েছেন পুলিশের। সেখানেও যখন ব্যর্থ হয়েছেন কালোবাজারিদের মুখাপেক্ষী হয়েছেন। কিন্তু দাম শুনে থমকে গেছেন। এখন তাই মলিন মুখে স্টেডিয়ামের দিকে তাকিয়ে আছেন। যেন কালোবাজারিরা তার ক্রিকেট সত্তাটিকেই গলা টিপে হত্যা করেছে। কিন্তু বলার কেউ নেই, দেখারও কেউ নেই।

বিজ্ঞাপন

কালোবাজারিদের দাপটে পরাভূত ক্রিকেট

সারাবাংলাকে পেয়ে ভেতরে সেই কষ্ট যেন উগড়ে দিলেন ফারুক।

বিজ্ঞাপন

‘আমি জানতাম ফাইনালের টিকিট পাওয়া সহজ হবে না। তাই সেই ভোর ৬টায় এসেছি। সকাল ৮টায় সবার আগে লাইনে দাঁড়িয়েছি। বুথ থেকে বলে টিকিট শেষ। পুলিশের কাছে বললাল, ভাই আমাকে একটা টিকিট কিনে দেন। তারা দিল না। কালোবাজারিদের কাছে গেলাম তারা ৩শ টাকার টিকিট ৮শ টাকা চায়। ৪ শ টাকার টিকিট নূন্যতম ১২শ টাকায় বিক্রি করছে। কেউ কেউ ১৫শ টাকা দিয়েও তা কিনছে। ম্যাচটি দেখা হলো না, ভাই।’

শুধু ফারুকই নন, তার মত এমন হাজার হাজার ভক্ত আছেন যারা স্রেফ কালোবাজারিদের দাপটে ক্রিকেটের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের চত্বরে সরেজমিনে ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা গেল।

বড় কোন সিরিজ বা টুর্নামেন্ট এলে টিকিট নিয়ে এমন হাহাকার এ দেশে নতুন কোন ঘটনা নয়। বিশেষ করে শের-ই-বাংলায়। এর পেছনে অবশ্য কারণও আছে।

প্রায় তিন কোটি মানুষের বসবাসের এই শহরে দেশের হোম ভেন্যুর গ্যালারির দর্শক ধারণক্ষমতা মাত্র ২৬ হাজার। এর পুরোটা আবার স্রেফ দর্শকদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। ভিআইপি, সিআইপি, বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সংশ্লিষ্টরাও মাঠের বিনোদন নিতে ছুটে আসেন। তাদের দিয়ে যা থাকে তা দর্শকদের জন্য বাজারে ছাড়া হয়।

তবে বঞ্চিতদের জন্য সুখবর হল, অচিরেই তাদের কষ্টের দিন শেষ হয়ে আসছে। পূর্বাচলে প্রায় ৫০ হাজার দর্শক সম্পন্ন শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম উন্মুক্ত হলে গ্যালারিতে বসেই এ জাতীয় ম্যাচের উত্তাপ নিতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, সন্ধ্যা ৭টায় মিরপুর শের-ই-বাংলায় গড়াচ্ছে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনাল ম্যাচটি। যেখানে মুশফিকুর রহিমের খুলনা টাইগার্সকে মোকাবেলা করবে লিটন, আফিফের রাজশাহী রয়্যালস।

সারাবাংলা/এমআরএফ/এনএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন