বিজ্ঞাপন

অতিরিক্ত সময়ের নাটকে প্রথম দল হিসেবে সেমিতে ফিলিস্তিন

January 17, 2020 | 10:26 pm

স্পোর্টস ডেস্ক

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের শুরুটা হয়েছিলো বাংলাদেশকে ২-০ গোলে হারিয়ে। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) শ্রীলঙ্কাকে একই ব্যবধানে নাটকীয় ভাবে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে প্রথম দল হিসেবে নাম লেখালো ফিলিস্তিন।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠ জুড়ে একচেটিয়া রাজত্ব চালাচ্ছিলো ফিলিস্তিন। কিন্তু প্রতিবারই তাদের আক্রমণে বাঁধ সাধছিলেন লঙ্কান গোলবারের নিচে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকা গোলরক্ষক প্রবাদ অরুনাশ্রি। প্রতিপক্ষের প্রতিটি আক্রমণের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন বারবার তিনি।

ম্যাচের ৮ মিনিটেই এগিয়ে যাবার সুযোগ এসেছিলো ফিলিস্তিনের। কিন্তু তায়ের জবুবের বিদ্যুৎ গতির পাস পায়ে ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন স্ট্রাইকার রিয়েবেল দাহামসি। বলটি ঠেকিয়ে দিয়ে সেবারের মতো লঙ্কানদের রক্ষা করেন অরুনাশ্রি।

বিজ্ঞাপন

১৭ মিনিটে আসে ফিলিস্তিন পেয়েছিলো একটি নিশ্চিত সুযোগ। আক্রমণভাগের খেলোয়াড় দাহামসিকে ফাউলের সুবাদে ফ্রি কিক পায় ফিলিস্তিন। ডি বক্সের বাহিরে থেকে নেয়া তায়ের জবুরের সেই শট হেড করতে ব্যর্থ হন দাহামসি। এভাবেই আক্রমণ প্রতিহত করতে করতেই প্রথমার্ধ শেষ করে দুই দল।

বিরতির পর নতুন উদ্যমে মাঠে নামে ফিলিস্তিন। বাড়িয়ে দেয় আক্রমণের ধাঁর। ম্যাচের ৫৫ তম মিনিটে দুর্দান্ত এক হেড দিয়ে বসেন রামি আলমাসালমা। পরাস্থ করে ফেলেছিলেন লঙ্কান গোলরক্ষক অরুনাশ্রিকেও। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাঁধ সাধেন শ্রীলঙ্কার ডিফেন্ডার আসমাইল খালিদ। গোল লাইন থেকে পাল্টা হেডে বল ফিরিয়ে লঙ্কানদের গোলবার রক্ষা করেন তিনি।

এরপর ৫৭ এবং ৭০ মিনিটে আরও দুইটি সুযোগ হাতছাড়া করে মধ্যপ্রচ্যের দেশটি। এরপর বেশ কিছু আক্রমণ চালালেও কোনোটি হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট আবার কোনোটি প্রতিহত করে দেন শ্রীলঙ্কার গোলরক্ষক। এতে করে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূণ্য থাকে ম্যাচের স্কোরলাইন।

এহেন পরিস্থিতি কাপন ধরিয়ে দিয়েছিলো বাংলাদেশের সমর্থকদের বুকে। কেননা ফিলিস্তিন যদি শ্রীলঙ্কার সাথে ড্র করে তবে রবিবার (১৯ জানুয়ারি) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য জীবন মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। জিততেই হবে এমন চাপ নিয়ে মাঠে নামতে হবে লাল সবুজের প্রতিনিধিদের।

কিন্তু ম্যাচের দৃশ্যপট পাল্টে যায় যোগ করা অতিরিক্ত ৬ মিনিটে। ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে ফিলিস্তিনের সাথে সাথে বাংলাদেশের দর্শকদের স্বস্তি এনে দেন ফিলিস্তিন দলপতি মাহমুদ আবুজারদা। বদলী মিডফিল্ডার সামেহ মারাবার ক্রস ঝাপিয়ে পড়ে হেড দিয়ে লঙ্কানদের জালে বল জড়ান তিনি।

এখানেই হয়তো শেষ হতে পারতো ফিলিস্তিনের নাটক। ৯৫ তম মিনিটে আবারো আক্রমণে বর্তমান চ্যাম্পিয়নেরা। এবার ভিত গড়েন খাদেম সালেম। গুছানো আক্রমণে বল নিয়ে চলে যান ডি বক্সের কাছাকাছি। কিছুটা এগিয়ে এসে তাঁকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন লঙ্কান গোলরক্ষক অরুনাশ্রি। সেই সুযোগটা কাজে লাগান সালেম। ডি বক্সের সামান্য বাহিরে থেকে অরুনাশ্রিকে কাটিয়ে শ্রীলঙ্কার জালে দ্বিতীয় বারের মতো বল জড়ান তিনি।

ফলে ২-০ গোলের জয় নিয়ে অপরাজিত থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে শেষ চার নিশ্চিত করে ফিলিস্তিন।

আগামী রবিবার (১৯ জানুয়ারি) গ্রুপ পর্বের নিজেদের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা। যেখানে সেমি নিশ্চিত জয় ব্যতিত অন্য পথ খোলা নেই দুই দলেরই। ম্যাচ শেষ সময় পর্যন্ত ড্র থাকলে টাইব্রেকারের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে জয় পরাজয়।

সারাবাংলা/এনএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন