বিজ্ঞাপন

ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের সংখ্যা বাড়াতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

January 19, 2020 | 8:41 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

সরকারের চলমান ১০টি মেগা প্রকল্পের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্পকে ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মনিটরিং কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কয়েকটি (১০টি) প্রকল্পকে ফাস্ট ট্র্যাক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছি। প্রকল্পগুলোর সামগ্রিক বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছি। কমিটির (ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটি) আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রকল্প পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প’ মনিটরিং কমিটির পঞ্চম সভায় এ কথা বলেন তিনি। সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন।

বিজ্ঞাপন

ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত ১০টি প্রকল্প ছাড়াও অন্যান্য বড় প্রকল্পগুলো মনিটর করতে মনিটরিং কমিটিকে নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে প্রকল্পগুলো আছে (ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প), সেগুলো তো আমরা মনিটর করবই। ভবিষ্যতে আমার মনে হয় এই কমিটি থেকে শুধু এই কয়েকটি প্রকল্প দেখলে হবে না, আরও অনেক প্রকল্প আছে, সেগুলোও দেখতে হবে।’

সরকারের ধারাবাহিকতার সুফল তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এই ধারবাহিকতা না থাকলে সরকার পরিবর্তন হলে কাজের ধারাও নষ্ট হয়ে যায়। আমি জনগণের কাছে কৃতজ্ঞ যে অন্তত তারা আমাদের এটুকু সুযোগ দিয়েছে এবং এবার নিয়ে আমরা পর পর তৃতীয় বার এসেছি (রাষ্ট্র পরিচালনায়)। তাতে আমাদের উন্নয়নের কাজগুলো বাস্তবায়নও করতে পারছি এবং মানসম্মতও করতে পারছি।

বিজ্ঞাপন

পদ্মা বহুমুখী মূল সেতুর নির্মাণ কাজ ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় ফাস্ট ট্র্যাক মনিটরিং কমিটি। পদ্মা সেতুসহ ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত ১০টি প্রকল্পের প্রতিটির অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয় এ সভায়।

১০টি ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প হচ্ছে— পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল), মহেশখালি-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম, ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, পদ্মাসেতু রেল সংযোগ এবং দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মায়ানমারের নিকটবর্তী ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

বিজ্ঞাপন

পদ্মা বহুমুখী প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে সভায় জানানো হয়, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৯১ শতাংশ, মাওয়া প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ শতভাগ, সার্ভিস এরিয়া (২) শতভাগ এবং মূল সেতুর নির্মাণ কাজ ৮৫ দশমিক ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এছাড়া নদীশাসনের কাজ ৬৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

সভায় ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত অন্য প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির চিত্রও তুলে ধরা হয়। বাসস।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন