শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬, ৪ রজব ১৪৪১

বিজ্ঞাপন

সিপিবি সমাবেশে বোমা হামলার ১৯তম বর্ষপূর্তি আজ, মামলার রায়ও আজই

জানুয়ারি ২০, ২০২০ | ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

আরিফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি। রাজধানীর পল্টন ময়দানে সমাবেশ করছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। ওই সমাবেশেই হামলে পড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) সদস্যরা। বোমা বিস্ফোরণে এক নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় পল্টন ময়দানে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চার জন, পরে হাসপাতালে মারা যান আরও একজন। বোমার স্প্লিন্টারে আহত হন ২০ জন। ওই হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা দায়েরের পর দেড় যুগেরও বেশি সময় চলে গেছে। অবশেষ হামলার ১৯ বছর পর অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ঠিক যে দিনটিতে হুজি জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছিল সিপিবি’র সমাবেশে, ১৯ বছর পরের ঠিক একই দিনে মামলাটির রায় ঘোষণা করবেন বিচারিক আদালত।

বিজ্ঞাপন

আজ সোমবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার এ তারিখ নির্ধারণ করেন তিনি।

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আব্দুল্লাহ আবু জানান, সাক্ষী ও আসামিদের গরহাজিরের কারণে মামলাটির বিচার কাজে দেরি হয়েছে। মামলাটিতে আমরা ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করছি।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মাদ সালাহউদ্দিন হাওলাদারও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। মামলাটির পলাতক ও আটক সব আসামির মৃত্যুদণ্ড হবে বলে আশা করছি।

রায় প্রসঙ্গে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর পর অবশেষে মামলাটির রায় হচ্ছে। এ রায়ে প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করছি। সেইসঙ্গে হামলার পেছনের ইন্ধনদাতাদেরও চিহ্নিত করতে হবে। তাদেরও আইনের আওতায় এনে সাজার ব্যবস্থা করতে হবে।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির করতে সক্ষম হয়নি। আসামিরা নির্দোষ। আশা করি রায়ে আসামিরা খালাস পাবেন।

রাজধানীর পল্টন ময়দানে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি সিপিবির লাল পাতাকা সমাবেশে বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ হামলায় ঢাকার ডেমরার লতিফ বাওয়ানি জুটমিলের শ্রমিক নেতা আবুল হাসেম, খুলনার রূপসা উপজেলার সিপিবি নেতা ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ, বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল ও মাদারীপুরের কর্মী মোক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস রায়। হামলায় আহত হন অনেকে।

হামলার পর ওই সময়কার সিপিবি সভাপতি মনজুরুল আহসান খান মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। দুই বছর পরই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছিল পুলিশ। তবে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ওই বছরের এপ্রিলেই রমনার বটমূলে বঙ্গাব্দ বরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। ২০০৫ সালে সারাদেশে একযোগে চালানো হয় সিরিজ বোমা হামলা। জানা যায়, এসব হামলায় জঙ্গিরা জড়িত। এরপর ২০০৫ সালে মামলাটি ফের পুনঃতদন্তের আদেশ দেন আদালত।

পরে সাত সাতবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর মামলাটি পুনঃতদন্তের পর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে চার্জশিট দাখিল করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মৃণাল কান্তি সাহা। ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত। এরও পাঁচ বছর পর মামলাটি রায়ের পর্যায়ে এসে পৌঁছাল।

মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন— মুফতি আব্দুল হান্নান, মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মো. মশিউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিরাজ ও নুর ইসলাম।

আসামিদের মধ্যে শেষ সাত জন পলাতক রয়েছে। বাকি ছয় জনের মধ্যে অন্য মামলায় জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এই মামলার অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে, পল্টন সমাবেশে বোমা হামলার ১৯তম বার্ষিকীতে আগের বছরগুলোর মতোই কর্মসূচি পালন করবে সিপিবি। সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তি ভবনের সামনে শহীদ স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে ফুল দেওয়া হবে। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশও অনুষ্ঠিত হবে।

সারাবাংলা/এআই/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন