বিজ্ঞাপন

দুই সিটির নির্বাচনে ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে পুলিশ

January 22, 2020 | 4:05 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আগামী ১ ফ্রেবুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পুলিশ বাহিনীর জন্য ২৬ কোটি ৪২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনের জন্য ১৩ কোটি ৮৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের জন্য ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। নির্বাচন কমিশন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ইসি সূত্র জানায়, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে ৪০ কোটি টাকা বাজেট ধরছে। বাজেটটি প্রথমত দুটি অংশে ভাগ করা হয়েছে। একটি হলো নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় এবং অপরটি হলো নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য।

এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় বাবদ রাখা হয়েছে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অবশিষ্ট ২১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য। কিন্তু পুলিশ বাহিনীর জন্য ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়ায় দুই সিটির নির্বাচনি ব্যয় এখন ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে বুধবার ২২ জানুয়ারি বিকেল ৩টায় ইসির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৈঠকে তা চূড়ান্ত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

ইসি সূত্র জানায়, দুই সিটি নির্বাচনে আলাদাভাবে ঢাকা উত্তর সিটিতে পুলিশের জন্য চাওয়া হয়েছে ১৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ১০ কোটি ৪৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ৮১ লাখ ৩ হাজার টাকা, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ৫৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর জন্য ২ কোটি ২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা চাহিদার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে পুলিশের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে ডিএমপির জন্য ৯ কোটি ৬১ লাখ ১৬ হাজার টাকা, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর জন্য ৭০ লাখ ৭০ হাজার টাকা, এসবি ৪৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকা এবং র‌্যাবের জন্য ১ কোটি ৭৭ লাখ ৩ হাজার টাকা ইসির কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ইসির বাজেট শাখার উপ-সচিব মো. এনামুল হক সারাবাংলাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে দুই সিটির নির্বাচনি ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত বাজেট কত হবে তা ২২ জানুয়ারি কমিশনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠকে চূড়ান্ত হবে। তিনি আরও বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন বাহিনীর পক্ষ থেকে নির্বাচনি বাজেট উপস্থাপন করা হলে নির্বাচনি ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসির বাজেট শাখা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে পরিচালনা খাতের ব্যয়ের মধ্যে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের জন্যই বরাদ্দ থাকছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে প্রত্যেক প্রিজাইডিং অফিসারের জন্য চার হাজার টাকা, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৩ হাজার টাকা এবং প্রত্যক পুলিং এজেন্ট ২ হাজার টাকা। এছাড়া নির্বাচন উপলক্ষে দুই সিটির ১২৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোট ৩৬ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। প্রত্যক নির্বাহী ম্যাজিস্টে প্রতিদিনের জন্য পাবেন ৬ হাজার টাকা। ফলে তাদের পিছনে ব্যয় হবে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। নির্বাচনে কাজে মনিহারি দ্রব্যের জন্য ১ কোটি টাকা, ফুয়েলসহ পরিবহনের জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য খরচ হবে ২৫ লাখ টাকা।

এছাড়াও নির্বাচনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং (ইভিএম) মেশিনের টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিতে দুইজন করে সেনাবাহিনীর সদস্য থাকবেন। তাদের জন্য পরিচালনা খাত থেকেই বরাদ্দ রাখা হবে। এদের জন্য লাগবে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। এছাড়া অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র নির্মাণ, মালামাল পরিবহনসহ অনুষাঙ্গিক ব্যয় ৮০ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভিক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল বিভক্ত ঢাকার দুই সিটির প্রথম নির্বাচনে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৮ কোটি টাকা। আগামী ১ ফ্রেবুয়ারি দুই সিটি নির্বাচনে প্রাথমিক ব্যয় ধর হয়েছে ৪০ কোটি টাকা।

সারাবাংলা/জিএস/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন