বিজ্ঞাপন

মেদমুক্ত পেট, সুস্থ হৃদয়

January 24, 2020 | 10:00 am

লাইফস্টাইল ডেস্ক

শরীরের মোট ওজনের চেয়েও কোমরের আকারের উপর হৃৎপিণ্ডের সুস্থতা নির্ভর করে। দেখা গেছে একবার হার্ট অ্যাটাকের পর সুস্থ হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের কোমরে জমা মেদে হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে কোমরের মাপ ৩৭.৬ ইঞ্চি বা ৯৪ সেমি বা তার বেশি ও নারীদের ক্ষেত্রে ৩২ ইঞ্চি বা ৮০ সেমির বেশি হলে তা কোমরের স্থূলতা হিসেবে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

পেটে চর্বির আধিক্য আছে এমন ব্যক্তিদের শরীরের অন্যান্য অংশ যত শুকনাই হোক না কেন, তারা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে রয়েছেন। সোমবার (২০ জানুয়ারি) ইউরোপিয়ান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজিতে এ সম্পর্কিত একটি গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এতে দেখা গেছে পেটে অত্যধিক চর্বি থাকলে একের অধিক হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি দেখা যায়।

স্টকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের ড. হ্যানেই মোহাম্মাদী সম্প্রতি প্রকশিত একটি নিউজ রিলিজে বলেন, স্থূল কোমর শুধুমাত্র প্রথমবারের মত হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং প্রথমবার হার্ট অ্যাটাকের পর আরও একটি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।

তিনি আরও বলেন, আপনি যতই ওষুধ খান অথবা রক্তচাপের রিপোর্ট স্বাভাবিক আসুক না কেন কোমরের আকার বাড়তে না দেওয়া জরুরী।

বিজ্ঞাপন

পেটে জমা মেদের সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক খুঁজে দেখার জন্য একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে এমন ২২ হাজার সুইডিশ নাগরিকের উপর পরিক্ষাটি চালানো হয়। প্রায় চারবছর ধরে তাদের প্রত্যেকের কোমরের মাপ নেওয়া হয় ও হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন শির ও ধমনীতে কোন বদ্ধতা আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হয়।

দেখা গেছে এদের মধ্যে ১,২৩২ (৭.৩ শতাংশ) পুরুষ ও ৪৬৯ (৭.৯ শতাংশ) নারী আবারও হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকে আকান্ত ৭৮ শতাংশ পুরুষ ও ৯০ শতাংশ নারীর পেটে চর্বির আধিক্য দেখা গেছে।

এই গবেষণায় আরও বলা হয়েছে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ক্ষেত্রে কোমরের স্থুলতা স্বাধীনভাবে কাজ করে। অর্থাৎ হৃদরোগের বাকি ঝুঁকিসমুহের অন্যতম ধূমপান, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন ও বিএমআই (বডি মাস ইনডেক্স) ইত্যাদির সঙ্গে এর সম্পর্ক নাই। এর থেকে চিকিৎসকরা এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, সমস্ত শরীরের ওজনের চেয়েও হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ণয়ে পেটে জমা মেদের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাই হৃদরোগের ঝুঁকি নিরসনে পেটের চর্বি বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

নারী ও পুরুষের পেটে জমা হওয়া চর্বির ধরণকে হৃদরোগের ঝুঁকির কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়েছে। আর পুরুষদের জন্য এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। মোহাম্মাদী বলেন, বেশ কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে পুরুষদের পেটে জমা চর্বিতে ভিসেরাল ফ্যাটের আধিক্য থাকতে পারে যা শরীরের অনেক গভীরে ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে পৌঁছে। এই চর্বিই পরে কোলেস্টেরলে রূপান্তরিত হয়ে ধমনীকে কঠিন তোলে যা একসময় হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। আর নারীদের ক্ষেত্রে  পেটে বা কোমরে জমা চর্বির অনেকটাই ত্বকের নীচের স্তরে থাকে যা তুলনামুলক কম বিপদজনক।

তবে এই বিষয়ে আরও পরীক্ষা হওয়া প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

পেটের চর্বি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে গবেষকরা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও প্রতিদিন ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন। বেশ কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে প্রতিদিন হালকা কার্ডিও ধরণের ব্যায়াম যেমন দিনে অন্তত তিরিশ মিনিট হাটলে পেটে চর্বি জমার ঝুঁকি কমে। ওয়েট লিফটিং ধরণের স্ট্রেন্থেনিং ব্যায়াম পেটের চর্বি ঝরাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে একজায়গায় দাঁড়িয়ে ওঠা-বসা করলে পেটের পেশী শক্ত হবে। এতে শরীরের মধ্যাঞ্চলে সহজে চর্বি জমতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

তাই নিয়মিত শুধু ওজন মাপলেই চলবে না, প্রয়োজন কোমরের মাপ নেওয়াও। মেদমুক্ত পেট হতে পারে হৃৎপিণ্ডের রোগ থেকে বাঁচার উপায়।

সারাবাংলা/আরএফ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন