বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৭ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৫ জমাদিউস-সানি ১৪৪১

বিজ্ঞাপন

২৭ জানুয়ারি নির্বাচনি ইশতেহার: ইশরাক

জানুয়ারি ২৪, ২০২০ | ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আগামী ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবেন ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) ৪৬ নং ওয়ার্ডের ফরিদাবাদ জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসায় জুমার নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আগামী ২৭ জানুয়ারি আমার নির্বাচনি ইশতেহারের দিন ঠিক করেছি। আমার প্রতিপক্ষ বিন্দুমাত্র ধারণা রাখেন না যে, আমি প্রত্যেক দিনই ঢাকাবাসীর জন্য নানা পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছি। তারা হয়তো এগুলো শুনছেন না। কারণ, তারা ব্যর্থ।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘গত ১৩ বছর ধরে তাদের দল ক্ষমতায়, গত নয় বছর ধরে নগরের দায়িত্বে তারা আছেন। কিন্তু তারা নগরের কোনো পরিবর্তন করতে পারেন নি। আর কোনো ধরনের পরিবর্তন করতে পারবেন বলেও মনে হয় না। তারা জবাব দেওয়ার কোনো প্রয়োজন মনে করেন না। কারণ, তারা জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেননি। সুতরাং তারা এই নগরের জন্য, জনগণের জন্য কিছুই করতে পারবেন বলে আমরা মনে করি না।’

শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সাদেক হোসেন খোকা দেশে মৃত্যুবরণ করতে পারেননি অভিযোগ করে ইশরাক বলেন, ‘আজ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। আমি ওনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। উনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। তিনি দেশে মৃত্যুবরণ করতে পারেন নি। তিনি মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ওনার পরিবারের দুঃখটা আমি খুব ভাল করে বুঝি। কারণ আমার বাবাও একই ধরনের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। ওনাকেও এই বাংলাদেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে দেওয়া হয় নি শুধুমাত্র বিরোধী দলের রাজনীতি করার কারণে।’

তিনি বলেন, ‘চারদিকে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার শুরু হয়েছে। দুঃশাসনের বিপক্ষে গণজোয়ার শুরু হয়েছে। এই দুঃশাসনের বিপক্ষে আপনারা আগামি ১ ফেব্রুয়ারি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে যাবেন এবং ধানের শীষে ভোট দেবেন। এই জনস্রোত দেখে নির্বাচন এবং বিএনপি'র বিজয়কে বানচাল করার যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে সেটা কখনোই সফল হবে না ‘

নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনে কোনো নোটিশ পেয়েছেন কিনা— এমন প্রশ্নে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ‘আমি এ ধরনের কোন নোটিশ পাইনি। আমার আইনজীবী যারা কাজ করছেন তাদের সঙ্গে আমার প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হচ্ছে। সেখান থেকে জানতে পারছি এখন পর্যন্ত আমরা কোনো নোটিশ আসেনি।’

ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর উন্নয়নে আপনি কী ধরনের উদ্যোগ নেবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, ‘আমি আমার বাবার রাজনৈতিক আদর্শটাকে মনে-প্রাণে ধারণ করি। আমি বলতে চাই, আমরা অসাম্প্রদায়িক দেশে বসবাস করি। অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিশ্বাস করি। দীর্ঘকাল ধরে এই এলাকায় আমরা হিন্দু এবং মুসলমান এক সাথে বসবাস করে আসছি। এই জায়গায় আমরা কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে স্থান দেইনি। আগামীতেও দেব না।’

পরে ফরিদাবাদে দয়াল বাবা মোতালেব শাহ (রঃ)-এর মাজার জিয়ারত করে ১৫তম দিনের প্রচারণা শুরু করেন ইশরাক। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে ৪৫ ও ৪০ নং ওয়ার্ড এবং ওয়ারী থানাধীন ৩৯ নং ওয়ার্ডে প্রচারণা ও গণসংযোগ করে গোপীবাগ বাসভবনে এসে দিনের প্রচারণা শেষ করবেন বিএনপির এই প্রার্থী।

প্রচারণায় অংশ নিতে সকাল থেকেই দলীয় কর্মী সমর্থকরা বাংলা বাজার ও ফরিদাবাদ এলাকায় জড়ো হন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

সারাবাংলা/এজেড/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন