শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬, ৪ রজব ১৪৪১

বিজ্ঞাপন

সোনার বাংলা গড়ার কারিগর তৈরি হচ্ছে কি না, প্রশ্ন তৌফিক ইমামের

জানুয়ারি ২৪, ২০২০ | ১০:৪২ অপরাহ্ণ

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে যে ধরনের কারিগর দরকার, শিক্ষিতরা সেভাবে তৈরি হচ্ছে কি না সে ব্যাপারে প্রশ্ন ছুড়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমাম। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণে গোলদ আছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরে মুজিববর্ষ ও ৩১তম বিসিএস ক্যাডার এ্যাসোসিয়েশনের ৭ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘বাঙালীর আত্মাউপলব্ধি ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে যে ধরনের কারিগর দরকার, আমাদের শিক্ষিতরা কি সেইভাবে তৈরি হচ্ছে? আমার মনে হচ্ছে আমাদের শিক্ষা বা প্রশিক্ষণে বড় একটা গলদ থেকে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এইচ টি ইমাম আরও বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে যে ধরনের কারিগর চাই, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ যেখানে গিয়ে পৌঁছাবে, যারা আমাদের দেশকে সেখানে নিয়ে যাবে, সেই কারিগররা সত্যি কি প্রস্তুত হচ্ছে? একটি প্রশ্ন রেখে গেলাম আজ।

বাঙালি জাতি গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা এ তিনটি আমার কাছে একই সূত্রে গাঁথা এবং এগুলো সমার্থক শব্দ বলে মনে করি আমি। বঙ্গবন্ধুই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি আমাদের ভিন্ন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বাঙালি জাতিসত্তা তুলে ধরেছেন এবং আমাদের মাঝে সেগুলো প্রোথিত করে দিয়েছেন। যার ফলে আমরা নিজেদের স্বতন্ত্র ভাবতে শুরু করেছি, তখন আমরা বুঝতে পেরেছি আমাদের ভিন্ন রাষ্ট্র হওয়া প্রয়োজন এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। তিনি বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুকে নানাভাবে শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে তখনই, যখন আমরা তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারি। আমরা যতই শ্রদ্ধা দেখাই না কেন, আমরা অনেকে মনে প্রাণে তার সেই স্বপ্ন লালন করি না। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই তার বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য লড়ে যাচ্ছেন, প্রতি মুহূর্তে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তার পাশে খুব বেশি সংখ্যক মানুষ নাই। অথচ যদি তার আশেপাশে আর দুয়েকটা লোক থাকতেন, সংখ্যায় তা যদি একটু বেশি হতো, তাহলে এ দেশটাকে খুব দ্রুতই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হত।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল (বিইউপি) ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু জাতির পিতাই নন, তিনি বাংলাদেশের সাংবিধানিক জাতির পিতা। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, মুদ্রা, ব্যাংক, রাষ্ট্রীয় তোষাখানা, সীমান্ত সব কিছুই তার চিন্তার ফসল। তিনি বলে গেছেন শোষিতদের জন্য গণতন্ত্র।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ৩১তম বিসিএস ক্যাডার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হাদি। এতে ৩১তম বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারে যোগদানকারী কর্মকর্তা, তাদের পরিবার ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে পরিবেশিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী অঞ্জন দত্ত ও তার গাণের দল ‘সর্বনাম’ গান পরিবেশন করেন।

সারাবাংলা/এনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন