সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ২২ জমাদিউস-সানি ১৪৪১

২ সাংবাদিককে মারধর করা সেই এএসআই প্রত্যাহার

জানুয়ারি ২৭, ২০২০ | ১১:২৮ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দুই সাংবাদিককে মারধর করে হত্যার হুমকি দেওয়া শাহবাগ থানার সহকারি উপরিদর্শক (এএসআই) মামুন হোসনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমানকে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান সারাবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত এএসআই মামুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক শেখ জাহাঙ্গীর আলম (৩০)। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার থেকে মোটরসাইকেলে করে পান্থপথে কর্মস্থল বাংলা ট্রিবিউন অফিসে যাচ্ছিলেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার (ক্রাইম) সাজ্জাদ মাহমুদ খান ওরফে সাজ্জাদ হোসেন। তারা পরীবাগ লিংক রোড দিয়ে যাওয়ার সময় যানজটের মধ্যে আটকা পড়েন। বিপরীত দিক থেকে মোটরসাইকেলে করে শাহবাগ থানার এএসআই মামুন হোসেন দ্রুতগতিতে জাহাঙ্গীরের ডান পায়ে চাপা দেয়। জাহাঙ্গীর ও সাজ্জাদ এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে এএসআই মামুন ইচ্ছাকৃতভাবে আরও দুই-তিন বার মোটরসাইকেলের পিকআপ বাড়িয়ে তাদের পায়ের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল তুলে দেন। তারা ফের প্রতিবাদ করলে এএসআই মামুন তাদের হত্যার হুমকিও দেন।

বিজ্ঞাপন

জাহাঙ্গীর ও সাজ্জাদ জানান, প্রতিবাদ করায় এএসআই মামুন অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে হুমকি দিয়ে বলতে থাকেন, ‘আমি নামলে কিন্তু মারব। তোকে পিষে ফেলব। তাড়াতাড়ি গাড়ি সরা, নাইলে মারব।’ এসময় পথচারী ও আশপাশের দোকানদাররা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে জাহাঙ্গীরকে লাত্থি মেরে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন মামুন।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্ত এএসআই মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করতেন এএসআই মামুন

এদিকে, এএসআই মামুনের বিষয়ে খোঁজ করতে গিয়ে জানা গেছে, ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে জালিয়াতি করে ডিএমপি কমিশনারের নামে রেজিস্ট্রেশন করা মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট ব্যবহার করতেন তিনি। ঘটনার পর ওই নম্বর প্লেটের (ঢাকা মেট্রো হ-১২-৭৫০৫) সূত্র ধরে বিআরটিএতে অনুসন্ধান করে জানা যায়, গাড়িটি ডিএমপি কমিশনারের নামে নিবন্ধন করা। ডিএমপির ট্রাফিক (পূর্ব) বিভাগের এটিএসআই আলী আফজাল ওই মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করেন। পরে যোগাযোগ করা হলে আলী আফজালের গাড়িটি রাজারবাগ ট্রাফিক ব্যারাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এএসআই মামুনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এটিএসআই আলী আফজালের সরকারি মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটটি জালিয়াতি করে নিজের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন।

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও সাজ্জাদ মাহমুদ খান বলেন, আমরা ন্যায় বিচারের জন্য কমিশনারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হয়ে এএসআই মামুন যে ব্যবহার করেছেন, তা অপেশাদার। আমরা তার শাস্তির দাবি জানাই, যেন যাতে ভবিষ্যতে কোনো পুলিশ সাধারণ মানুষের সঙ্গে এ ধরনের অপেশাদার আচরণ করতে না পারে।

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন