বিজ্ঞাপন

দেশে প্রতিবছর লক্ষাধিক শিশু জন্ম নেয় অন্ধত্বের ঝুঁকি নিয়ে

জানুয়ারি ২৮, ২০২০ | ১১:০২ অপরাহ্ণ

সারাবাংলা ডেস্ক

ঢাকা: বাংলাদেশে প্রতিবছর লক্ষাধিক শিশু জন্মগ্রহণ করে অন্ধত্বের ঝুঁকি নিয়ে এবং সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না করালে এসব শিশু সারাজীবনের জন্য অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (পিআইবি) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকরা এ চিত্র তুলে ধরেন।

পিআইবি ও অরবিস ইন্টারন্যাশনাল ’অপরিণত শিশুঅন্ধত্ব প্রতিরোধ ও চিকিৎসা: সুযোগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক অরবিস ইন্টারন্যাশনালের ঊর্ধ্বতন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডা. লুৎফুল হোসেন জাতিসংঘের উপাত্তের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ৩০ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করে। এদের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ বা ৬ লাখ শিশুর জন্ম হয় অপরিণত অবস্থায়। অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া এসব শিশুদের মধ্যে আবার ২০ থেকে ২২ শতাংশ রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচুরিটির (আরওপি বা অপরিণত শিশু অন্ধত্ব) ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনীর আহমেদ, প্রসূতি ও গাইনি সোসাইটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রওশন আরা, বাংলাদেশ চক্ষু হাসপাতালের পরামর্শক ডা. কাজী শাব্বির আনোয়ার এবং দি এশিয়ান এইজের নির্বাহী সম্পাদক শিয়াবুর রহমান শিহাব।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আলোচনায় জানান, আরওপি হলো চোখের রেটিনার এমন একটি অস্বাভাকিতা যাতে কোনো শিশু আক্রান্ত হতে পারে ৩৪ সপ্তাহের আগে জন্মালে। তাদের মতে, একটি শিশু আরওপিতে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার জন্য জন্মের ৩০ দিনের মধ্যেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এ রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু না করা গেলে অন্ধত্ব এড়ানো যায় না।

ডা. লুৎফুল হোসেন তার মূল প্রবন্ধে জানান, বর্তমানে আরওপি সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে কেবল বিভাগীয় ও বড় বড় জেলা শহরগুলোতে–এর বাইরে এখনো এ সেবা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এ সেবা সারাদেশে সম্প্রসারিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিএমডিসি সভাপতি অধ্যাপক শহিদুল্লাহ আরওপি চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে অবকাঠামোর পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অপ্রতুলতার চিত্র তুলে ধরেন এবং সেগুলো মোকাবিলায় একটি কৌশল প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘যতদিন এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না, ততদিন সংশ্লিষ্ট অন্য ক্ষেত্রের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এ চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে।’

ডা. মুনীর বলেন, ‘আরওপি মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আরওপি চিকিৎসার যে সুবিধা সৃষ্টি করেছে, তাও কোনো কাজে আসবে না যদি সম্ভাব্য সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি না হয়।’

জাফর ওয়াজেদ সচেতনা সৃষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য সংবাদমাধ্যম ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন এবং এ ব্যাপারে তিনি পিআিইবির তরফ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে আরওপিতে আক্রান্ত এক শিশুর পিতা তার সন্তানের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

শীর্ষস্থানীয় চক্ষু চিকিৎসক, নবজাতক বিশেষজ্ঞ, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, চক্ষুরোগের সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা, সংবাদমাধ্যমের ও অন্যান্য অংশীজনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক দীপক কুমার নাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহযোগী অধ্যাপক নুজহাত চৌধুরী, বারডেম-এর সহযোগী অধ্যাপক ফেরদৌস আক্তার জলি, ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক নাজমুন নাহার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহকারী অধ্যাপক তারিক রেজা আলী, অরবিস ইন্টান্যাশনালের পরিচালক (প্রোগ্রামস) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শামিনা শারমিন, রংপুর ডিইসিএফ-এর নির্বাহী পরিচালক ডা. খাইরুল ইসলাম এবং ময়মনসিংহ ডা. কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ কৃপা চক্রবর্তী।

সারাবাংলা/এমআই

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন