বিজ্ঞাপন

‘নেপাল-ভুটানকেও পণ্য পরিবহন সুবিধা দিতে রাজি বাংলাদেশ’

February 2, 2020 | 8:38 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

সংসদ ভবন থেকে: বর্তমান সরকার প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বাসী। আর তাই সড়ক ও রেলপথে নেপাল এবং ভুটানকে পণ্য পরিবহন সুবিধা দিতে রাজি বাংলাদেশ। একথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ কে আবদুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি কৌশলগত অবস্থানে এবং দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মিলনস্থলে অবস্থিত হওয়ায় আন্তঃসংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশেরই উপকৃত হবার সুযোগ বেশি বলে প্রতীয়মান হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই ফলশ্রুতিতে, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতকে সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহনে সুবিধা দিতে বাংলাদেশ সম্মত হয়। একই রকম সুবিধা প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল ও ভুটানকে প্রদানেও বাংলাদেশ সম্মত আছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এছাড়াও নেপাল, ভুটানকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহার করতে দিতেও বাংলাদেশ সম্মতি প্রকাশ করেছে। আন্তঃসংযোগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য রাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত করার ব্যাপারে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এটি এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্যিক কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার গত ১০ বছরে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এ সকল উদ্যোগ গ্রহণের ফলে ভারত-নেপাল-ভুটানসহ প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে গত বছরে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলারের সীমারেখা অতিক্রম করেছে এবং আমরা আশা করছি এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের প্রশ্নের লিখিতজবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের মধ্যে বিশ্বের ২১টি মিশনে চ্যান্সারি ও রাষ্ট্রদূত ভবন নির্মাণ করা হবে। যে সকল দেশে বাংলাদেশের চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সে সকল দেশে চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণ/ক্রয়ের নিমিত্তে স্ট্যান্ডার্ড ডিজাইন ভিত্তিক একটি বৃহৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী আরও জানান, বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহের প্রস্তাব এবং দূতাবাসসমূহের কূটনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মাণ, নিজস্ব জমি না থাকলে জমি ক্রয় করে ভবন নির্মাণ/আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী হলে জমিসহ তৈরি ভবন ক্রয়ের জন্য একটি তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০১৬ সাল হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনটি পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে ৩১টি মিশনে নিজস্ব চ্যান্সারি ও রাষ্ট্রদূত ভবন নির্মাণ/ক্রয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম পর্যায়ে রিয়াদ ও টোকিওতে নিজস্ব চ্যান্সারি ও রাষ্ট্রদূত ভবন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/এনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন