বিজ্ঞাপন

‘ঢাকা সিটি নির্বাচনে কোনো জালিয়াতি হয়নি’

February 5, 2020 | 5:34 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো জালিয়াতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে ভোট কারচুপি কিংবা জালিয়াতির বিষয় কোনো পর্যবেক্ষকও দেখাতে পারবেন না।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এক সংবাদ ব্রিফিং তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় দাগের সংঘাতও হয়। কিন্তু এবার বিচ্ছিন্ন দুয়েকটা ঘটনা ছাড়া নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ, কারচুপি ও জালিয়াতি মুক্ত। কারচুপির কোনো সুযোগও ছিল না। তবে কোথাও কোথাও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) সমস্যা হয়েছে। কিন্তু এ মেশিনে কারচুপি করা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। এতে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে জালিয়াতি ও কারচুপিমুক্ত নির্বাচন করার জন্য। এটা বিএনপির কেন পছন্দ হয় না, তা বোধগম্য নয়।’

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেভাবে আশঙ্কা করা হয়েছিল এই নির্বাচনে বিদ্রোহীদের জয় জয়কার হবে। কার্যত সে অবস্থা হয়নি। আমাদের হিসেব মতে ১৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছে। বিদ্রোহীরা যে সুবিধা করতে পেরেছে, তা কিন্তু নয়। আমরা দল থেকে যেসব কাউন্সিলরদের সমর্থন দিয়েছি তাদের বেশির ভাগই নির্বাচিত হয়েছেন।‘

এ সময় হেরে যাওয়াদের অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হেরে গেলে অভিযোগ উঠতেই পারে। যিনি হেরে যান তিনি কি হার মেনে নেন? বিএনপিও মানছে না। যারা হেরে গেছেন তারা কেউই মানছেন না। তারা কাছে মনে হবে সে আরও ভালো করতো, নির্বাচনে জয়ী হতো। ফলাফল পাল্টে দেওয়ার সুযোগ ইভিএম পদ্ধতিতে নেই। ইভিএম করা হয়েছে কারচুপি ও জালিয়াতি ঠেকাতে। সেদিক থেকে নির্বাচন কমিশন সফল।’

বিজ্ঞাপন

তাবিথ আউয়ালের ফলাফল প্রত্যাখান প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারাতো জিততে না পারলে ফলাফলকে প্রত্যাখান করবে। প্রত্যাখান করে জনগণের প্রতিফলনটা তারা দেখতে চেয়েছে হরতাল ডেকে। ঢাকা সিটিতে কেউ কোথাও হারতাল দেখেনি। তার মানে হচ্ছে, তারা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করেছে আর জনগণ তাদের ফলাফল প্রত্যাখানের হরতালকে প্রত্যাখান করেছে। যে নেতারা ঢাকা শহরে হরতাল ডেকেছে তাদের একজন নেতাকেও কোথাও দেখা যায়নি।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়- এর প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। বলেন, এই যে নির্বাচনটা হলো এটাকি একনায়কতন্ত্রের প্রমাণ। আমাদের গণতন্ত্র সঠিক। গণতন্ত্র প্রতিনিয়তই বিকাশমান। আমরা বলব না যে, আমরা একটি সঠিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি। অনেক উন্নত দেশও সঠিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে দাবি করতে পারবে না। গণতন্ত্র হলো ক্রমবিকাশমান প্রক্রিয়া। আমরা সেই বিকাশধারার মধ্যে আছি। নির্বাচনটা মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত হয়েছে। এবারের নির্বাচন নিয়ে যেভাবে অপপ্রচার হয়েছে, নির্বাচন নিয়ে যে সংঙ্কা ছিল সেটা কিন্তু হয়নি।’

বিজ্ঞাপন

‘ঐক্যফ্রন্ট আবার মাঠে নামতে চায়’- এ নিয়ে কি ভাবেছেন, জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি এইটুকু বুঝি এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এতে জনমতের যে প্রতিফলন তাতে মনে হয়, সামনের দিনগুলো বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামোয় থাকলে তারা আরও হতাশায় ভুগবে।’

সারাবাংলা/জেআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন