বিজ্ঞাপন

‘সিটি নির্বাচনের জয়ে আত্মতুষ্টি নয়, ভোট বোধোদয় আ.লীগের’

February 7, 2020 | 9:19 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিজয় হলেও বিজয় নিয়ে আত্মতুষ্টি নয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বরং ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম ও ভোটের হার কম হওয়া নিয়ে ফলাফল আত্মবিশ্লেষণের বোধোদয় হয়েছে টানা তিন মেয়াদে সরকার গঠন করা দলটির।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডি কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সভা শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও ঢাকার দুই সিটির বিজয় নিয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে আত্মবিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে জানান।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সামনে মুজিববর্ষ বছরব্যাপী উদযাপিত হবে। এই মুজিববর্ষে উদযাপনে আমাদের প্রস্তুতি এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, স্ট্রিমলাইন করা, সুশৃংখল করা; এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। সদ্য সমাপ্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও আমাদের আমাদের বিজয় হয়েছে, তারপরও আমাদের কিছু আত্মবিশ্লেষণ, আত্মসমালোচনা করা দরকার। আমরা আমাদের দুর্বলতা এবং ঘাটতিগুলো ভবিষ্যৎতে যাতে এড়াতে পারি, সংগঠনকে আরও মর্ডানাইজ, স্ট্রং করতে পারি সময়ের চাহিদার সঙ্গে, সেটা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। আমাদের ভুলক্রটি নিয়েও আলোচনা করেছি।’

সিটি নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি কম হওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি ঠিক এভাবে বলব না। কিছু কিছু বিষয় এখানে আছে যেগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণের দরকার। হুট করে আমি একটা মন্তব্য দিতে পারি না।’

বিজ্ঞাপন

‘এটা নিয়ে আমাদের দলের ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। নির্বাচনের সকল টার্ম, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির ভূমিকা সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টা নিয়ে আমি আশাকরি আমাদের পরবর্তী ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে নেত্রীর উপস্থিতিতে আলোচনা হবে’- বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

আগামী দিনে অতীতের ভুলত্রুটি পেরিয়ে ভবিষ্যতে নবতর পথে যাত্রা শুরু করা হবে বলেও জানান ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংগঠনিক এই নেতা।

বিজ্ঞাপন

এ লক্ষ্যে আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার বিকেল ৪টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডি কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরের অন্তর্গত দলীয় সংসদ সদস্য এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী মেয়রদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আহ্বান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য আওয়ামী লীগ শক্তিশালী বিরোধী দল চায় কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বিরোধীদল শক্তিশালী থাকুক, তারা জয়ী হোক এটা আমরা চাই। সে দায়িত্বটা যদি বিরোধীদল পালন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তারা তো নির্বাচনে পরাজিত হবে; রাজনীতিতেও তারা পরাজিত হবে।’

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বিএনপি হতাশায় ভুগছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘তারা নিজেরাই ঐক্যবদ্ধ না, জনগনকে কিভাবে ঐক্যবদ্ধ করবে কিভাবে?’

আগামীকাল শনিবার কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুবছর পূর্তিতে ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি। সমাবেশ থেকে তাদের নেত্রীর মুক্তির কঠোর বার্তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহমান। বর্তমান প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে এবং বিশ্বাস করে। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। এ অবস্থায় যতদিন বিএনপি এই সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়বে না, ততদিন আন্দোলন ও রাজনীতি সফল হবে না। নেতিবাচক, সাম্প্রদায়িক, জঙ্গিবাদী উগ্রপন্থীরা আন্দোলনে ও নির্বাচনেও সফল হবে না।’

এসময় বিগত দিনে যেসকল সহযোগী সংগঠন এবং ঢাকার দুই সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাদের চলতি মাসের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে আওয়ামী লীগ সভাপতির দফতরে নির্দেশ বলে এসময় জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

এছাড়া যেসকল সহযোগী সংগঠন এবং সাংগঠনিক জেলার কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে এপ্রিল মাসের মধ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান কাদের।

মতবিনিময় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, উপ দফতর সম্পাদক সায়েম খান, আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন, শাহাবুদ্দিন ফরাজী, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুন, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি লেখক ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক আল নাহিয়ান জয়সহ অনেকে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন