বিজ্ঞাপন

ঢামেকে টিকিট কেটে অপেক্ষা, দেখা মেলে না চিকিৎসকের

February 10, 2020 | 5:51 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ। সকাল ৮টার সময় চিকিৎসকদের ডিউটি শুরু হলেও অধিকাংশ দিনই সকাল সাড়ে ৯টায়ও তারা আসেন না। দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিত্যদিনের চিত্র এটি। বহির্বিভাগের মেডিসিন বিভাগ, গাইনি বিভাগ, সার্জারি বিভাগ, শিশু বিভাগসহ প্রায় সব বিভাগে অবস্থা একই।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অনেক কক্ষেই চিকিৎসক নেই। মেডিসিন বিভাগ, গাইনি বিভাগ, সার্জারি বিভাগ, শিশু বিভাগে একই অবস্থা।

ঢামেকে টিকিট কেটে অপেক্ষা, দেখা মেলে না চিকিৎসকের

বিজ্ঞাপন

মেডিসিন বিভাগে দেখা গেল পুরুষ ও নারী রোগীদের ভিড়। সেখানকার এক টিকিট বিক্রেতা বলেন, ‘এটি আমাদের প্রতিদিনের চিত্র। সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এক ঘণ্টায় টিকিট নিয়েছেন ৮২ জন নারী আর ৮০ জন পুরুষ। সবাই সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু অনেক ডাক্তার সাড়ে ৯টার আগে হাসপাতালে আসেন না।’

গাইনি বিভাগের চিত্রও একই। ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা কোনো ডাক্তারের দেখা মেলেনি সেখানে। সেখানকার আবাসিক চিকিৎসক ডা. রওশন আরার রুমও ফাঁকা দেখা গেল।

বিজ্ঞাপন

গাইনি বিভাগেও ডাক্তারের রুমের সামনে দেখা গেল নারী রোগীদের ভিড়। টিকিট বিক্রেতা মো. জনি জানালেন, এক ঘণ্টায় ৮২ জন টিকিট নিয়েছেন। কিন্তু সকাল ৯টার পরও সেখানে দেখা মেলেনি ডা. রওশন আরার। কর্তব্যরত সহকারী রত্নার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডা. রওশন ১১টার সময় আসেন।’

এই বিভাগেই যাত্রাবাড়ী থেকে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন জাহানার বেগম। তিনি বলেন, গাইনি সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে। সাড়ে ৯টা বেজে গেছে, এখনো ডাক্তার পাইনি।

বিজ্ঞাপন

মেডিসিন ওয়ার্ডে এসেছিলেন জুবায়ের আহমেদ। মিরপুর থেকে এসেছেন তিনি। বললেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই পেটের সমস্যা ও জ্বরে ভুগছেন। রাস্তায় জ্যাম থাকায় সকাল ৮টার আগেই তিনি হাসপাতালে এসেছেন। কিন্তু এখানে এসে দেখেন আরেক সমস্যা। রোগীরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু এক-দেড় ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ডাক্তারের দেখা নেই।

বাড্ডার বেরাইদ থেকে আসা রোগী সালেহা বেগম দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না। মেডিসিন বিভাগের মেঝেতেই বসে পড়েন। চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষমাণ সালেহা বেগমকেও কেউ আশ্বস্ত করতে পারছেন না, ডাক্তারের দেখা মিলবে কখন।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে দেখা হয় কবির হোসেনের সঙ্গে। হাজারীবাগ থেকে এসেছেন তিনি। জানান, তার পায়ের সমস্যার কারণে হাসপাতালে এসেছেন। রাস্তায় জ্যাম থাকায় সকাল সকাল হাসপাতালে পৌঁছান তিনি। কিন্তু এখানে এসে পড়েন আরেক বিপাকে, টিকিট কেটে অপেক্ষা করছেন। সেখানকার আবাসিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ মাহবুব এলাহী। সার্জারি বিভাগের দায়িত্বরত একজন তাকে জানিয়েছেন, তিনি ১১টার দিতে আসবেন। ওই সময় কবির হোসেনকে আসতে বলেন দায়িত্বরত ওই ব্যক্তি।

বহির্বিভাগে এরকম নির্দিষ্ট সময়ে চিকিৎসকের দেখা না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাসির উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘হাসপাতালের বহির্বিভাগ সাকাল ৮টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত চালু থাকে। চিকিৎসকদের সকাল ৮টার সময়ই আসার কথা। অনেক সময় রাস্তায় জ্যামের কারণে দেরি হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন দেরি হওয়ার কথা না। সকাল ৮টার সময়ই কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার কথা তাদের।’

বহির্বিভাগের আজকের চিত্রই তুলে ধরে জানতে চাইলে ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি দেখব।

সারাবাংলা/এসএসআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন