বিজ্ঞাপন

‘আইসিজের রায় বাস্তবায়ন ও রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে মিয়ানমার’

February 10, 2020 | 6:15 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

সংসদ ভবন থেকে: রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)-এর রায় বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকার উদ্যোগ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই মিয়ানমার তাদের ফেরত নেবে বলে আশা করছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক।

বিজ্ঞাপন

লিখিত জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, যেকোনো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াই জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী। রাখাইন রাজ্যে যথাযথ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলকে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারকে রাজি করানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ শিগগিরই রাখাইন রাজ্যে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে এবং দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

একই প্রশ্নের জবাবে এ কে আব্দুল মোমেন জানান, ওআইসির পক্ষ থেকে গাম্বিয়া জেনোসাইড কনভেনশনের আওতায় জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) মায়ানমারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলার শুনানি শেষে গত ২৩ জানুয়ারি রায় প্রদান করা হয়েছে। আইসিজেতে শুনানিকালে মিয়ানমারের সর্বোচ্চ নেতা অং সান সুচি তার দেশের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযাগ অস্বীকার করলেও জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ আদালত রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা প্রতিরোধে মিয়ানমারকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আইসিজের দেওয়া ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন রোহিঙ্গা প্রর্ত্যাবাসনের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে। একইসঙ্গে সেখানে রাখাইন নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ফলে বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে আস্থা জোগাবে। তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পাশাপাশি অন্যান্য দেশ ও ফোরামে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে পঞ্চম যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে মিয়ানমারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যা বিদ্যমান সমস্যা সামাধনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে পররাাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩ থেকে ৬ অক্টোবর ভারত সফর করেন। গত ৫ অক্টোবর দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া, সংস্কৃতি, নৌপরিবহন, অর্থনীতি, অডিন্ন নদীর পানি বণ্টন, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি সংক্রান্ত সাতটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন