রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৮ জমাদিউস-সানি ১৪৪১

বিজ্ঞাপন

যৌনকর্মী পেলেন জানাজা, একখণ্ড কবর

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০ | ৮:২৭ অপরাহ্ণ

সারাবাংলা ডেস্ক

যৌনকর্মী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করাকে অসম্মানের চোখে দেখা হয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে। মৃত্যুর পর এসব নারীরা পান না সম্মানজনক সৎকার। সমাজে রীতি নেই তাদের মরদেহের জানাজা পড়ানোর। হয়তো লাশ পুঁতে ফেলা হয়, নয়তো ভাসিয়ে দেওয়া হয় নদীতে। তবে এবার তার ব্যতিক্রমই ঘটেছে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে হামিদা বেগম (৬৫) নামের এক যৌনকর্মীর জানাজা পড়ানো হয়েছে। এরপর ইসলামী রীতিতেই দেওয়া হয়েছে কবর।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দৌলতদিয়ার যৌনকর্মীরা হামিদার সম্মানজনক সৎকারের দাবি নিয়ে এলে, পুরো বিষয়টি মধ্যস্থতা করেন স্থানীয় পুলিশ অফিসার আশিকুর রহমান। তিনি এলাকার ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন। কারণ মৃত যৌনকর্মীর জানাজা পড়ানো মুসলিম সমাজে অনৈতিক হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আশিকুর রহমান বলেন, প্রথমে ইমাম রাজি হচ্ছিলেন না। যখন আমরা জানতে চাইলাম ইসলামে কারও নামাজে জানাজা পড়ানো নিষেধ কি না, তখন তিনি কিছু বলতে পারেননি।

এরপর, অন্তত দুই শ লোকের উপস্থিতি গত ৬ ফেব্রুয়ারি হামিদার জানাজা নামাজ পড়ানো হয়। এছাড়া তার কুলখানিতে ৪০০ লোকের সমাগম ঘটে।

আশিক জানান, এমনটা কেউ প্রত্যাশা করেনি। অনেকেই প্রার্থনার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে। এমনটা দেখে অন্য যৌনকর্মীদের চোখ আনন্দ-অশ্রুতে সিক্ত হয়।

মকুল শেখ নামের এক ছেলে ও লক্ষ্মী (৩৫) নামের এক মেয়েকে রেখে গেছেন হামিদা বানু। লক্ষ্মীও দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে কাজ করে। লক্ষ্মী বলেন, ‘মাকে এমন সম্মানজনক বিদায় জানাতে পারব, তা আমরা ভাবতে পারিনি। মাকে অন্যদের মতো মানুষই ভাবা হয়েছে।’

যৌনকর্মীদের প্রতিনিধি ঝুমুর বেগম বলেন, ‘আমি আশা করি এখন থেকে আমিসহ এখানের সব নারীরা জানাজা নামাজের সম্মান পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মৃত নারীদের সৎকার করতে চাইলে গ্রামের মানুষ বাঁশ নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালাত।’

প্রসঙ্গত, দৌলতদিয়াসহ বাংলাদেশের ১২টি বৈধ যৌনপল্লি রয়েছে।

সারবাংলা/ এনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন