শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ৩ রজব ১৪৪১

বিজ্ঞাপন

খালেদাকে বিদেশ নেওয়ার সুপারিশ চেয়ে বিএসএমএমইউ ভিসির কাছে আবেদন

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০ | ৮:৩৮ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দিতে সরকারের কাছে সুপারিশ করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্যের (ভিসি) কাছে আবেদন করেছেন তার স্বজনরা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার স্বজনদের পক্ষ থেকে এ আবেদন করেন। চিঠিতে গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশের আবেদন জানানো হয়।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন তার স্বজনরা। তার স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ওই সময়ই বিএসএমএমইউ উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়ার কাছে আবেদন করেন শামীম ইস্কান্দার। এরপর তার সেজো বোন সেলিমা ইসলাম অন্যদের নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থা প্রতিনিয়ত খারাপ হচ্ছে। এ কারণে তার বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে হলেও মুক্তি চান তারা।

বিজ্ঞাপন

খালেদা জিয়ার স্বজনদের পক্ষ থেকে আবেদনের কথা স্বীকার করে বিএসএমএমইউ উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি আবেদনটি মেডিকেল বোর্ডের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। এর আগে মেডিকেল বোর্ড তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর কোনো সুপারিশ করেনি। পরিবারের আবেদন মেডিকেল বোর্ডকে দেবো, বোর্ড পরীক্ষা করে কী সাজেশন দেয়, সেটা আমরা পরে জানাব।

এদিকে, সেলিমা ইসলাম খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নিতে বিএসএমএমইউ ভিসির কাছে আবেদনের কথা স্বীকার করে বলেন, আবেদনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চেয়েছি। আর বলেছি, তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে। কারণ এটা মিথ্যা মামলা। সেজন্য আমরা নিঃশর্ত মুক্তির জন্য বলেছি। আবেদন বিবেচনা করা হবে বলে আশা করছি।

সেলিমা ইসলাম আরও বলেন, আমরা চাচ্ছি সরকার বিবেচনা করুক। যেভাবেই হোক, তাকে বিদেশে নেওয়ার জন্য আমাদের পারমিশন দিক। প্যারোলে দিলেও দিতে পারে। কারণ তার অবস্থা খুবই খারাপ।

খালেদা জিয়ার এই বোন বলেন, উনার সম্মতি থাকবে। উনার অবস্থা এতই খারাপ হয়ে গিয়েছে যে পাঁচ মিনিটও দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। বাম হাত সম্পূর্ণ বেঁকে গেছে। ডান হাতেরও খারাপ অবস্থা। তার চোখ দিয়েও অনবরত পানি পড়ছে। পায়ে কোনো সাপোর্ট রাখতে পারছে না। এই অবস্থায় একটা মানুষ তো চিকিৎসার জন্য যেখানেই হোক যেতে চাইবে।

দুই বছর ধরে কারাগারে আবদ্ধ থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার কথা বলা হলেও এই প্রথম তার স্বজনদের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন করা হলো।

বিএসএমএমইউ’র সূত্রে জানা যায়, লিখিত আবেদনে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই ইঞ্জিনিয়ার শামীম ইস্কান্দার লিখেছেন, খালেদা জিয়ার দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্যের পরিপ্রেক্ষিতে যেকোনো অপূরণীয় ক্ষতি এড়াতে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বিদেশি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন। খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যয় বহন করে এবং তাদের দায়িত্বে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতাও চাওয়া হয় আবেদনে।

এদিকে, উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য আবেদন করা হয়েছে কি না— জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। গতকাল (মঙ্গলবার) ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) স্বজনরা হাসপাতালে উনাকে দেখতে গিয়েছেন। আমি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের নির্দেশে মিডিয়া সমন্বয় করতে সেখানে গিয়েছি। সেখানে শামীম ইস্কান্দার সাহেব বা ম্যাডামের পরিবারের কেউ আবেদন করেছেনি কি না, তা আমার জানা নেই।

দিদার পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, আবেদনটা করলেন কখন? আমরা তো একসঙ্গেই ছিলাম। আমি এ বিষয়ে কিছু দেখিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি বলে থাকে, তাহলে তারা আবেদনটি প্রকাশ করুক।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে কারাগার বা হাসপাতালে তার স্বজনরা সাক্ষাৎ করতে গেলে শামসুদ্দিন দিদার নিয়মিত গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয় করে থাকেন। তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বজন বা পরিবারের সঙ্গে আমার কখনো যোগাযোগ হয় না। আমি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিবের নির্দেশেই আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আমার কিছু জানা নেই। আমি জানি না। তাছাড়া, মহাসচিব তো আজকেই এ বিষয়ে আপনাদের (গণমাধ্যমে) জানিয়েছেন। মহাসচিব বলেছেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তার পরিবার আবেদন করেছে কি না, তা বিএনপির জানা নেই।

জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৭ বছরের সাজা নিয়ে জেল খাটার দুই বছর পুরো হয়েছে গত ৮ ফেব্রুয়ারি। এর মাঝে প্রায় ১০ মাস ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিছুদিন আগে সুপ্রিম কোর্ট থেকে তার জামিন আবেদন নাকচ হয়েছে। তার মুক্তি না পাওয়ার বিষয়কে আইনি বলে সরকার দাবি করে আসছে।

সারাবাংলা/এজেড/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন