বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক, গবেষক, লেখক— তিন গুণে অসাধারণ আহমদ শরীফ

February 13, 2020 | 10:49 pm

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

ঢাবি: নানান গুণে গুণান্বিত ছিলেন অধ্যাপক আহমদ শরীফ। অধ্যাপক, গবেষক ও লেখক— এই তিনটি বিশিষ্ট পরিচয়ে তিনি ছিলেন অসাধারণ। এগুলোর যেকোনো একটি থাকলেই একজন মানুষ অনেক বড় ও স্মরণীয় হতে পারেন এবং ইতিহাসে তার স্থান থাকে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অধ্যাপক আহমদ শরীফ ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠ।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আহমদ শরীফের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরিটাস অধ্যাপাক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এসব কথা বলেন। অধ্যাপক আহমদ শরীফের জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে স্বদেশ চিন্তা সঙ্ঘ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

প্রাবন্ধিক, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের সভাপতিতে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) নেতা বদরুদ্দীন উমর। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী খালেকুজ্জামান, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিসহ অন্যরা।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এই পরিচয়গুলো ছাড়াও আহমদ শরীফের ছিল দৃষ্টিভঙ্গী, যা না থাকলে তিনি আহমদ শরীফ হতেন না। পুঁথিসাহিত্য নিয়ে গবেষণা করলেও সাহিত্য হিসেবে সেগুলোকে তিনি উচ্চমূল্যের মনে করতেন না, কিন্তু এর ভেতরে তিনি ইতিহাস দেখতে পেয়েছিলেন। এই ইতিহাসচেতনাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসের ওপর তাঁর অনেক কাজ আছে। জীবনের শেষ দিকে তিনি একজন প্রতিবাদী বুদ্ধিজীবী হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত হয়েছিলেন। ’

বিজ্ঞাপন

বদরুদ্দীন উমর বলেন, ‘আহমদ শরীফ একজন পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন। শিক্ষক হিসেবে ছিলেন খুব জনপ্রিয় ও সফল। ‘মধ্যযুগের সাহিত্য’ তার কাজের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসের ওপর তার অনেক কাজ আছে। দেশের যত রকম নেতিবাচক বিষয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে তিনি একজন প্রতিবাদী কণ্ঠ ছিলেন।’

চৌধুরী খালেকুজ্জামান বলেন, ‘এই দেশের মূলবোধ, মানবিকতা ও স্বাধীনতার চিন্তা ধ্বংসের পথে। এজন্য তার চিন্তাকে নবপ্রজন্মের সামনে তুলে আনতে হবে।’

টিপু বিশ্বাস বলেন, ‘তিনি শুধু লেখনির মাধ্যমেই সংগ্রাম করেননি। তিনি মাঠেও সক্রিয় ছিলেন।’

বিজ্ঞাপন

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আহমদ শরীফের চিন্তা সবার সামনে নিয়ে আসতে হবে। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে তার চিন্তার প্রতিফলন ঘটানো জরুরি।’

আগামী বছর আহমদ শরীফের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের জন্য অনুষ্ঠানে একটি কমিটি করা হয়। ১৪ সদস্যের এই কমিটিতে বদরুদ্দীন উমরকে আহ্বায়ক, আবুল কাসেম ফজলুল হককে সম্পাদক করা হয়েছে।

সারাবাংলা/এসটি/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন