বিজ্ঞাপন

‘সমাজে ভালোবাসা কমে গেছে, ধর্ষণ বেড়ে গেছে’

February 14, 2020 | 4:59 pm

ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট

ঢাবি: সমাজে অসামাজিক কার্যক্রম বেড়ে গেছে উল্লেখ করে লেখক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেছেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক দুর্বল হয়ে গেছে, বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়েছে। সন্তানদের প্রতিও যত্ন কমে গেছে। সর্বপরি ধর্ষণ বেড়ে গেছে, ভালোবাসা কমে গেছে।’

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার সকালে (১৪ ফেব্রুয়ারি) বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবস নিয়ে সারাবাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমান সমাজের এই প্রবণতাকে একটা ভয়াবহ ব্যাপার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রেম, নারী-পুরুষের সম্পর্ক এই সবটা মিলে পরিবার। এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা প্রয়োজন। জীবন ভালোবাসাময় হোক এটাই চিরকাল কাম্য। প্রেমের যেমন আবেগ, মানসিক ও যৌক্তিক এই তিনটি দিক আছে। এই সব দিক নিয়ে চিন্তা করা দরকার।’

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, ‘নর-নারীর ভালোবাসা প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ চিন্তা করেছে। মানুষ সভ্যতা সৃষ্টি করেছে, পরিবার গড়ে তুলেছে, রাজনীতি, অর্থনীতির প্রচলন করেছে। এটা অন্যকোনো প্রাণীর মধ্যে নেই। মানুষ সভ্যতা সৃষ্টি করেছে। রাজনীতি, অর্থনীতির প্রচলন করেছে। সেই দিক বিবেচনায় মানুষের একটা শ্রেষ্ঠত্ব আছে। এই অবস্থার মধ্যেও পবিরার বিলুপ্ত হয়নি। এখনো যদি গণভোট নেওয়া হয় পরিবার রক্ষার পক্ষেই এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকায় অধিকাংশ মানুষ সায় দেবে। কিন্তু কিছু লোক পরিবার প্রথার বিরুদ্ধে লিখছে তাদের সংখ্যা খুব কম।’

তিনি আরও বলেন, ‘বসন্তের নানান বর্ণনা সংস্কৃত কাব্যে পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে বসন্ত হচ্ছে যৌবন, প্রেম ও আনন্দের প্রতীক। মানুষ কল্পনা দিয়ে একটি সুন্দর সময় তৈরি করেছে। বসন্ত নিয়ে অনেক গান ও কবিতা তৈরি হয়েছে। আমরা চাই যৌবনের, প্রেমের ও সম্প্রীতির এই ধারণাটা থাক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন সঙ্গীতচর্চা খুব দরকার। মানুষ মানবিক গুণাবলি হারিয়ে ফেলছে। টাকা-পয়সা, সম্পত্তি ছাড়া অন্য কিছু মূল্যবান মনে করে না। মানুষের পরস্পরের মধ্যে সম্প্রীতির মনোভাব নেই। শিল্প, সাহিত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞানেও মনোভাব নেই। গান মানুষকে ভেতর থেকে জাগাতে পারে। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সঙ্গীত, লোক সঙ্গীত, আধুনিক বাংলা সঙ্গীত চর্চা করা দরকার। যেগুলো মানুষের চিত্তকে স্পর্শ করতে পারে।’

সারাবাংলা/এসটি/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন