শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ৩ রজব ১৪৪১

বিজ্ঞাপন

চীনে করোনা, সাতক্ষীরায় কুঁচে-কাঁকড়া ব্যবসায় ধস

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০ | ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ

কামরুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

সাতক্ষীরা: চীনে কভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা সাতক্ষীরার কুঁচে ও কাঁকড়া রফতানিতে। রীতিমতো ধস নেমেছে এই ব্যবসায়। কবে নাগাদ চীনের সঙ্গে আবারও রফতানি বাণিজ্য শুরু হবে সেটি যেহেতু নিশ্চিত হয়ে বলা যাচ্ছে না, তাই এই ব্যবসায় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা।

বিজ্ঞাপন

সাতক্ষীরা জেলার উপকূলবর্তী এলাকার প্রান্তিক মানুষের কাছে চিংড়ির পাশাপাশি কুঁচে ও কাঁকড়া চাষ ভীষণ জনপ্রিয়। স্বল্প বিনিয়োগে বেশি মুনাফার আশায় স্থানীয় হাজারও মানুষ এসব চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

শ্যামনগর, আশাশুনি, দেবহাটা ও কালিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে কুঁচে ও কাঁকড়া খামার। দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া, কালিগঞ্জ  উপজেলার উজিরপুর, শ্যামনগর উপজেলার সদর ও একই উপজেলার মুন্সিগঞ্জ বাজারে রয়েছে কুঁচে ও কাঁকড়া ডিপো। এসব ডিপো থেকে আগে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার কাঁকড়া ও কুঁচে বিক্রি হতো। আর এসব কাঁকড়া ও কুঁচের একমাত্র গন্তব্য ছিলে চীন।

বিজ্ঞাপন

তবে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে চীনে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। এই ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট প্রাণঘাতী কভিড-১৯ রোগে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত মারা গেছেন ১৩ শতাধিক মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে ২৫ জানুয়ারি থেকে চীনে কাঁকড়া ও কুঁচে রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। আর যেহেতু দেশের ভেতর এসবের তেমন চাহিদা নেই, তাই ধস নামে ব্যবসায়।

অন্যদিকে চীনের ব্যবসায়ীদের কাছে সাতক্ষীরার ব্যবসায়ীদের পাওনাই রয়েছে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা। সেই টাকাও আনতে পারছেন না। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের পাওনা পরিশোধও করতে পারছেন না। সব মিলিয়ে কাঁকড়া ও কুঁচে ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের অবস্থা এখন শোচনীয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আগে যে কাঁকড়া প্রতি কেজি বিক্রি হতো ২ হাজার টাকা, এখন তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র তিন থেকে চারশ টাকায়।

গত বছরে জেলায় ৩১০ দশমিক ৯ হেক্টর জমিতে কাঁকড়া চাষ হয়। ওই জমি থেকে ২ হাজার ১৯০ দশমিক ৪ মেট্রিক টন ও সুন্দরবন থেকে এক হাজার ১০৯ মেট্রিক টন কাঁকড়া সংগ্রহ করা হয়।

দেশের বাজারে যেটুকু কাঁকড়া প্রয়োজন হয়, তা জোগান দিতে এত বিপুল কর্মযজ্ঞের প্রয়োজন হয় না। যেহেতু সাতক্ষীরা অঞ্চলের কাঁকড়া ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি চীনে রফতারি ওপর নির্ভরশীল, তাই তারা এতদিন অন্য কোনো বাজারের কথা ভাবেননি। ফলে এখন বিপদে পড়েছেন।

অন্যদিকে কুঁচের চাহিদা নেই দেশে। ফলে কুঁচে শিকার করে বা কুঁচে চাষ করে যারা জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারা পড়েছেন সবচেয়ে বিপদে। কাঁচা কুঁচে তো বিক্রিই করতে পারছেন না, উল্টো যেগুলো চাষ করেছেন সেগুলো নিয়ে কী করবেন সেইটাই বুঝতে পারছেন না। ফলে মারা পড়ছে কুঁচেগুলো। উপায় না পেয়ে শুকিয়ে রাখছেন। তবে আদৌ সেগুলো বিক্রি করতে পারবেন কি না— সে বিষয়টি পুরোটাই অনিশ্চিত।

কুঁচে চাষের জন্য বা ব্যবসার জন্য যে ঋণ নিয়েছিলেন সেগুলো শোধ করতে পারার চিন্তায় এখন কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে তাদের। বিশেষ করে যে প্রান্তিক চাষিরা ঋুদ্র ঋণ নিয়ে কুঁচে চাষ করতেন, তারা এখন কোনো উপায়ই দেখতে পাচ্ছেন না।

দেবহাটা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান বলেন, কাঁকড়া ও কুঁচের বাজার চীনের করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চেষ্টা করছেন মধ্যপ্রাচ্যে কাঁকড়া রফতানির। কিন্তু চীন ছিল কুঁচের একমাত্র বাজার। তাই সেটি রফতানি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। এজন্য একটি মাত্র দেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে নতুন বাজার খুঁজে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। তিনি ব্যবসায়ীদের নতুন নতুন বাজার খোঁজার পরামর্শ দেন।

সারাবাংলা/এসএমএন/এসবি

সারাবাংলা/এসএমএন/এসবি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন