বিজ্ঞাপন

আল মাহমুদ: হারিয়ে যাওয়ার এক বছর

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০ | ২:১৭ অপরাহ্ণ

আসাদুল্লা লায়ন

‘আমাদের সামনে এখন আর কোন পথ নেই। এই নিবিড় অরণ্য এমনি নিরন্ধ্র যে, ঝিঁঝির শিসকেও কেওড়ার কাঁটায় বিদ্ধ প্রজাপতির ঝাপটানি বলে ভুল হয়। ‘মিথ্যাবাদী রাখাল’ কবিতার এই শব্দের গাঁথুনীর আবেদন কখনও ফুরিয়ে যাবে না। তবে আবেগমাখা সেই কবি আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছেন, তার চলে যাওয়ার আজ এক বছর হলো। গতবছর ১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।

বিজ্ঞাপন

কবি আল মাহমুদের পুরো নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার সাধনা হাই স্কুল এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাই স্কুলে পড়ালেখা করেন। মূলত এই সময় থেকেই তার লেখালেখির শুরু।

আল মাহমুদ বেড়ে উঠেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তিনি মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান, বৈষ্ণব পদাবলি, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল প্রমুখের সাহিত্য পাঠ করে ঢাকায় আসার পর কাব্য সাধনা শুরু করেন এবং ষাট দশকেই স্বীকৃতি ও পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেন। প্রথম কবিতার বই ‘লোক লোকান্তর ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয় আরও দুটি কবিতার বই ‘কালের কলস ও ‘সোনালি কাবিন’। এর মধ্যে ‘সোনালি কাবিন’ তাঁকে নিয়ে যায় অনন্য উচ্চতায়।

বিজ্ঞাপন

‘মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো’, ‘অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না’, ‘একচক্ষু হরিণ’, ‘মিথ্যাবাদী রাখাল’ ও ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’ ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ উল্লেখযোগ্য। ‘কাবিলের বোন’, ‘উপমহাদেশ’, ‘ডাহুকি’, ‘আগুনের মেয়ে’, ‘চতুরঙ্গ’ ও ‘পোড়ামাটির জোড়া হাঁস’ ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। ‘পানকৌড়ির রক্ত’সহ বেশ কিছু গল্পগ্রন্থও রচনা করেছেন তিনি। এ ছাড়া ‘যেভাবে বেড়ে উঠি’ ও ‘বিচূর্ণ আয়ণায় কবির মুখ’ তার উল্লেখযোগ্য আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

তার কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, জয় বাংলা পুরস্কার, হুমায়ুন কবীর স্মৃতি পুরস্কার, জীবনানন্দ স্মৃতি পুরস্কার, কাজী মোতাহার হোসেন সাহিত্য পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

কবি আল ১ম মাহমুদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর কাঁটাবনস্থ কবিতা ক্যাফেতে ‘আল মাহমুদ স্মরণ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে ‘ক্বণন শুদ্ধতম আবৃত্তি অঙ্গণ’র আয়োজনে বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণানুষ্ঠান।

সারাবাংলা/এএল/এএসজি

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন