বিজ্ঞাপন

পেঁয়াজের ঝাঁজ এখন মসলার বাজারেও

February 15, 2020 | 5:24 pm

তুহিন সাইফুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশের বাজারে মসলা পণ্যের দামও হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে পেঁয়াজের পাশাপাশি রসুন, আদা, মরিচ, দারুচিনি, এলাচ প্রভৃতি মসলার দাম বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার এলাকায় মসলা বিক্রেতাদের দোকান ঘুরে জানা গেছে, আমদানি সরবরাহ ঘাটতির কারণেই মূলত মসলার দাম বাড়ছে। এ ছাড়াও দাম বৃদ্ধির পেছনে গুদাম মালিক ও পাইকারদের কিছু কারসাজি রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন তারা।

বাজারিরা জানাচ্ছেন, নিত্য ব্যবহার্য মসলার মধ্যে রসুন, আদা, মরিচ ও হলুদের দাম বেড়েছে। সুগন্ধী মসলা হিসেবে খ্যাত এলাচের দাম ভেঙেছে অতীতের সকল রেকর্ড। এক কেজি ভালোমানের এলাচ কিনতে ছয় হাজার টাকা গুনতে হয়। আর বাজারে সাধারণ এলাচ সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে দারুচিনির দামও। কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দারুচিনি এখন প্রতি কেজি ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আমদানি করা ভারতীয় শুকনা মরিচের দাম ডিসেম্বরে ছিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। এর পরে বেড়ে এই মসলাটি এখন ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা প্রতি কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার থেকে হলুদও কেজিতে ২৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে রসুনের কেজির দাম বেড়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। গতকাল প্রতি কেজি দেশি পুরোনো রসুন ২২০ টাকায় বিক্রি হয়। এক সপ্তাহ আগেও ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা ছিল। দেশি নতুন রসুন বাজারে আসার পরে আগের সপ্তাহে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা ছিল। এখন এরই ১৬০ টাকা কেজি হয়ে গেছে।

আদার দামও কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে বিদেশি আদা ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় উঠেছে। দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমায় দাম ১০০ টাকা ছুঁয়েছে। আর দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতা নাজমুল বলেন, ‘দাম বাড়ায় আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা পাইকার থেকে কিনে বিক্রি করি। ফলে এখানে আমরা অসহায়। তবে এটাও সত্য মসলার যোগান এখন অনেক কম।’

আরেক বিক্রেতা শাহ আলম বলেন, ‘মসলার দাম বেড়েছে সত্যি, তবে সেখানে পাইকারদের হাত নাও থাকতে পারে। কারণ বাইরে থেকে মসলা আসছে না। চীন থেকে মসলা আসা কমে গেছে। সেখানে ব্যবসায়ীরা কী করবে?’

তবে দুই ব্যবসায়ী আত্মপক্ষ সমর্থন করলেও ক্রেতারা দোষ দিচ্ছেন তাদেরই। সুমন আহমেদ নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘যে কোনো ঘটনা ঘটলেই ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। রোগ হয়েছে চীনে, আর মসলার দাম বাড়ছে বাংলাদেশে। এ কেমন কথা! এমন চলতে থাকলে আমরা কোথায় যাব?’

এদিকে টিসিবির মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গত এক বছরে এসব মসলার দাম বেড়েছে ২৭ থেকে ৩২২ শতাংশ পর্যন্ত। দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ঘাটতি এবং উৎপাদন হ্রাসের কথা বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বিকল্প বাজার থেকে এসব মসলা কিনে দেশীয় বাজারে বিক্রি করার কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘আদা ও রসুন নিয়ে চিন্তিত না। কারণ বিকল্প বাজার থেকে এগুলো পাওয়া যাবে। হয়তো একটু বেশি দাম লাগতে পারে। এই মুহূর্তে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে তার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চীন থেকে আসছে। যদি কোনো কারণে আমদানি বন্ধ হয়ে যায়, তাতেও অসুবিধা হবে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘মূল সমস্যা নিজেদের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। নিজস্ব উৎপাদন না বাড়ালে এ সমস্যা থাকবে।’

সারাবাংলা/টিএস/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন