বিজ্ঞাপন

ক্যাম্পাসে আধিপত্য রাখতে প্রয়োজনে ’১০ খুন’!

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০ | ১০:২৭ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ‘এখানে ছাত্রলীগ এখনো আছে। সিএমসিতে (চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ) মোট ছাত্র কতজন, জানিস? এক হাজারের ওপর হবে। এক হাজার জনকে ভালোবাসার জন্য যদি ১০ জনকে যদি মেরে ফেলা লাগে, আমি মেরে ফেলতে পারব। আমার কী হবে, তাতে কিছু যায় আসে না। আমার তো একহাজার জনকে ভালোবাসতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

এই বক্তব্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহেদ মুরাদ শাহীনের। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরীর নাসিরাবাদের দুই নম্বর সড়কে চমেকের ছাত্রাবাসে নবাগত ছাত্রদের উদ্দেশে এসব কথা বলেছেন এই ছাত্রলীগ নেতা। এ বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। ওই ছাত্রাবাসে চমেকের ৬২তম ব্যাচে ভর্তি হওয়া নবাগত শিক্ষার্থীরা থাকেন।

ক্যাম্পাসে আধিপত্য বজায় রাখতে চমেক ছাত্রলীগ নেতার দেওয়া এই বক্তব্যের অডিও রেকর্ড সারাবাংলার কাছে সংরক্ষিত আছে।

বিজ্ঞাপন

অডিও রেকর্ডে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে ওয়াহেদ মুরাদ শাহীনকে বলতে শোনা গেছে, ‘এখানে (চমেক ক্যাম্পাস) নাছির (মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন) ভাইয়ের রাজনীতি সবাই করে গেছে। চমেক ছাত্রলীগ পরিবার আজীবন থাকবে। এই ক্যাম্পাসকে সুন্দর রাখার জন্য, ক্যাম্পাসের পরিবেশ ভালো রাখার জন্য যা করা লাগে, আমরা করব।’

নবাগত ছাত্রদের উদ্দেশে এই ছাত্রলীগ নেতা আরও বলেন, ‘এরকম ইতিহাসও আছে যে ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুন্দর রাখার জন্য, জামায়াত শিবিরের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এখানে মার্ডারও হয়েছে। কেন হয়েছে জানিস? শুধু বড় ভাইদের কথা শোনে নাই, আদর্শ থেকে দূরে সরে গেছে, ক্যাম্পাসে অরাজকতা তৈরি করতে চেয়েছে বলে। কিচ্ছু হয়নি। কারা করছে? বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ করছে।’

‘ক্যাম্পাসে ধারা বজায় রাখতে হবে। ছাত্রলীগের কমিটির যতগুলো পোলাইপান (ছেলে) আছে, পার্টি থেকে যারা চলে গেছে, ওনারাও আমাদের পরিবারের সদস্য, আমাদের সিনিয়র ভাই। এটা (ছাত্রলীগ) আজীবন থাকবে,’— রেকর্ডে এমনও বলতে শোনা গেছে শাহীনকে।

ওয়াহেদ মুরাদ শাহীন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ৫৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষে চমেকে ভর্তি হন।

জানা গেছে, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যেন নিজেদের আধিপত্য বজায় থাকে, সেটা বোঝাতে এবং নবাগতদের নজরে রাখার নির্দেশনা দিয়ে জ্যেষ্ঠ্য নেতারা ওয়াহেদ মুরাদ শাহীনসহ ছাত্র সংসদ এবং কলেজ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকে ছাত্রাবাসে পাঠান। সেখানে ওয়াহেদ মুরাদ শাহীন হুমকির সুরে কথা বলেন।

তবে ওয়াহেদ মুরাদ শাহীন হত্যার হুমকির কথা অস্বীকার করেছেন। সারাবাংলার কাছে বক্তব্যের অডিও রেকর্ড আছে বলে জানালে তিনি বলেন, ‘এটা একটু ভুলভাবে নিচ্ছেন আপনারা। একহাজার ছাত্রের জন্য আমাদের ডেডিকেশন বোঝাতে এটা বলেছি। আমরা এখানে ডাক্তার হতে এসেছি, মার্ডার করতে নয়। আমরা চাই না, ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হোক।’

‘ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রেখে সবাই যেন ভালোভাবে পড়ালেখা করে, সেটা বলতে গিয়েছিলাম,’— দাবি করেন এই ছাত্রলীগ নেতা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণে আছে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির ক্রিয়াশীল থাকলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে সেখানে ছাত্রলীগের একক আধিপত্য আছে।

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন