বিজ্ঞাপন

‘বেনারশি কুঠি’র ৪৪ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি, নজরদারিতে ১০ প্রতিষ্ঠান

February 22, 2020 | 8:38 am

শেখ জাহিদুজ্জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মিরপুরের ‘বেনারশি কুঠি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৫ মাসে পণ্য বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা না দিয়ে ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার ২০৭ টাকা ফাঁকি দিয়েছে। এ ঘটনার পর বেনারশি পল্লির আরও ১০টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন যাচাই করা শুরু হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, মিরপুর ১০ নম্বরে বেনারশি পল্লিতে অবস্থিত ‘বেনারশি কুঠি’ নামক প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে অর্থাৎ মাত্র ৫ মাসে তিনটি শোরুমে পণ্য বিক্রি করেছে ৯ কোটি ৮ লাখ ৮৪ হাজার ১৫৫ টাকা। এই পরিমাণ পণ্য বিক্রির বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাটে আসে ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার ২০৭ টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ৫ মাসে সরকারকে পরিশোধ করেছে মাত্র ৯১ হাজার টাকা। অর্থাৎ বেনারশি কুঠি ৫ মাসেই সরকারের ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার ২০৭ টাকা ফাঁকি দিয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার ড. মইনুল খান সারাবাংলাকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটি আমাদের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে আইনশঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। তখন প্রতিষ্ঠানটির ৫ মাসে পণ্য বিক্রির তথ্য জব্দ করা হয়। আর জব্দকৃত তথ্যে তাদের এই ভ্যাট ফাঁকির চিত্র উঠে আসে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট সূত্রে আরও জানা যায়, ‘বেনারশি কুঠি’ ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে পণ্য বিক্রি করেছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৮২ হাজার ৭৬০ টাকার। যার বিপরীতে ভ্যাট রয়েছে ১০ লাখ ৭৯ হাজার ১৩৮ টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট পরিশোধ করেছে মাত্র ১৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে ১০ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠানটি পণ্য বিক্রি করেছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩০ টাকার। যার বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪৬ টাকা ৫ পয়সা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট পরিশোধ করেছে মাত্র ২২ হাজার টাকা। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে ফাঁকি দিয়েছে ৮ লাখ ৪১ হাজার ৮৪৬ টাকা ৫ পয়সা।

মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৯২ হাজার ৩৮০ টাকার। যার বিপরীতে ভ্যাট রয়েছে ৮ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৯ টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি পরিশোধ করেছে মাত্র ১৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ ফাঁকি দিয়েছে ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৯ টাকা। এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি পণ্য বিক্রি করেছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫০ টাকার। যার বিপরীতে ভ্যাট রয়েছে ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৭২২ টাকা। কিন্তু এপ্রিল মাসে পরিশোধ করেছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি ফাঁকি দিয়েছে ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৭২২ টাকা ৫ পয়সা। আর মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি পণ্য বিক্রি করেছে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৫৭ হাজার ৬৩৫ টাকার। যার বিপরীতে ভ্যাট রয়েছে ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮৮১ টাকা। কিন্তু পরিশোধ করেছে মাত্র ১৫ হাজার টাকা। ফলে মে মাসেই বেনারশি কুঠি ফাঁকি দিয়েছে ৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৮১ টাকা ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ মাত্র ৫ মাসে প্রতিষ্ঠানটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার ২০৭ টাকা ফাঁকি দিয়েছে।

আরও জানা গেছে, মিরপুর বেনারসি পল্লিতে ১৩৭টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান নামে মাত্র ভ্যাট দেয়। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালায় কমিশনারেট। ১৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৯টি প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাট নিবন্ধন দিয়েছে ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকির চিত্র দেখে নড়েচড়ে বসে তারা।

ভ্যাট ফাঁকি তদন্তের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে, প্রথমে বেনারশি কুঠিসহ ১০টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য যাচাই করবে কমিশনারেট। আর ব্যাংকে লেনদেনের তথ্য চেয়ে রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেবে কমিশনারেট। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, বেনারশি রূপ সিংগার, গুলশান শাড়িজ, হানিফ সিল্ক, বেনারশি বাজার, বেনারশি কুঠি-১, বেনারশি কুঠি-২, বেনারশি কুঠি-৩, আল হামদ বেনারশি-১, বেনারশি বিগ বাজার ও ওয়েডিং স্টাইল।

এদিকে, ভ্যাট কর্মকর্তাদের অভিযানের প্রতিবাদে বুধবার বেনারশি পল্লির সব দোকান বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামেন বেনারশি পল্লির দোকান মালিকরা। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য বিষয়টি সুরাহা করার আশ্বাস দিলে আন্দোলন স্থগিত করা হয়।

সারাবাংলা/এসজে/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন