বিজ্ঞাপন

‘সরকার ২ শর্ত মানলে চলতি বছর শেয়ারবাজারে আসবে রবি’

February 22, 2020 | 6:14 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকারের শেয়ারবাজারে আসার আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে রবি’র সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “সরকার যদি রবির দেওয়া দু’টি শর্ত মেনে নেয় তাহলে চলতি বছরের যেকোনো সময়ে তারা শেয়ারবাজারে আসবে।’ শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ‍গুলশান-১ এ রবির করপোরেট অফিসে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রথম বর্তমানে রাজস্বের ওপর টেলিকম কোম্পানির সর্বনিম্ন ট্যাক্স ২ শতাংশ। অথচ অন্যান্য কোম্পানিগুলোর রাজস্বের ওপর ট্যাক্স রয়েছে .৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ রাজস্বের ওপর টেলিকম কোম্পানির ২ শতাংশ ট্যাক্স বাতিল করতে হবে। অন্যথায় অন্যান্য কোম্পানিগুলো রাজস্বের ওপর যে ট্যাক্স দেয় সেটা রাখতে হবে। ’

‘দ্বিতীয়ত করপোরেট ট্যাক্সের ওপর প্রণোদনা দিতে হবে। যেটা গ্রামীণফোন যখন শেয়ারবাজারে এসেছিলো তাদেরও প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিলো। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে যেতে হলে রবিকেও সরকারকে করপোরেট ট্যক্সের প্রণোদনা সুবিধা দিতে হবে। তাহলে চলতি বছরের যেকোনো সময়ে রবি শেয়ারবাজারে প্রবেশ করবে’, বলেন রবি’র সিইও।

বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালে রবি দুই অঙ্কের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি করেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর দেশের শীর্ষ ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী কোম্পানি রবির কর পরবর্তী মুনাফার পরিমাণ ১৭ কোটি টাকা। ২০১৮ সাল জুড়ে তথ্যখাতে রাজস্ব বৃদ্ধির হার ছিলো অভাবনীয় ২৮ শতাংশ। সেই অগ্রগতি কাজে লাগিয়ে ২০১৯ সালে রবির মোট রাজস্বের পরিমাণ ছিলো ৭ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। এছাড়া কর্পোরেট করের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৪৫ শতাংশ, ২০১৯ সালে রবির কার‌্যকর করের পরিমাণ ছিলো ৯০ শতাংশ। নূন্যতম করহার .৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ, সিমকরের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ২০০ টাকা, স্মার্টফোনের ওপর সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ, মোবাইল সেবার সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করায় কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’

মাহতাব উদ্দিন আরও বলেন, ‘ডেটার জন্য কোন ন্যূনতম মূল্য না থাকায় চাপের মুখে পড়েছে কোম্পানি। ডেটা ব্যবহারের মাত্রা লক্ষ্যণীয় পরিমাণে বৃদ্ধি পেলেও ডেটার জন্য নূন্যতম মূল্য না থাকায় এই শিল্পে আত্মঘাতি প্রতিযোগিতা চলছে। ফলে ক্রমবর্ধমান ওটিটি (ওভার দি টপ) সেবার কারণে যে লোকসান হচ্ছে তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, পর্বতসম করের বোঝা সত্ত্বেও ২০১৯ সালে রবি মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া ২০১৯ সালে ২১ লাখ নতুন গ্রাহকসহ রবির মোট গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৯০ লাখ। যা দেশের মোট মোবাইলফোন ব্যবহারীর ২৯.৬ শতাংশ। ২০১৮ সালের তুলনায় গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির হার ৪.৫ শতাংশ। ’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯৭ সালের যাত্রা শুরুর পর থেকে রবি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ২৬ হাজার ৬২১ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। অপরদিকে এশিয়া জুড়ে আজিয়াটা অপারেটিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০১৯ সালে এনালিটিকস আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ম্যাচিউরিটির ক্ষেত্রে সেবা অবস্থানে রয়েছে রবি।’

সংবাদ সম্মেলনে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- রবির চিফ এন্টারপ্রাইজ বিজনেস অফিসার মো. আদিল হোসাইন, চিফ করপোরেট রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ ও সিসিও শিহাব।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসজে/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন