বিজ্ঞাপন

বইমেলায় অসুখী সময়…তবু বইই সই!

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০ | ৪:৪৪ অপরাহ্ণ

পার্থ সনজয়

সারাবছর নিয়মিত বই প্রকাশ ও বিপণন করেন। এমনই একজন সিরিয়াস প্রকাশক। মেলা কেমন চলছে? জানতে চাইলে প্রায় ক্ষেপে গেলেন। বললেন, 'বইমেলা এখন আগের মতো নেই। বইয়ের ব্যবসা আর প্রচার-দুটোই চলে গেছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। তারাই এখন প্রকাশ করছে বইমেলার বেস্টসেলার!'

বিজ্ঞাপন

লেখকদের মধ্যেও আছে প্রতিযোগিতা। ফ্যান-ফলোয়ার। মেলায় আসার আগেই বই বিক্রির বায়না হয়ে যাচ্ছে। আরেক উপদ্রব, মোটিভেশনাল স্পিকার থেকে মোটিভেশনাল লেখক। সেই লেখক ঘিরে এক একটা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সামনে ফ্যানদের হুল্লোড় পরে যায়। পুকুরে রাক্ষুসে মাছের মতো গিলে খায় যেন আশপাশের স্টলগুলোকে। বিষন্ন সেইসব প্রকাশনার বিক্রয় কর্মীদের মতোই সাজানো বইগুলোও এই হুল্লোড়ে মনোযোগ না পেয়ে বিষন্ন হয় কি?

তেমনই এক মোটিভেশনাল বই নিয়ে এক পাঠক এলেন অধ্যাপক জাফর ইকবালের কাছে অটোগ্রাফ নিতে। অটোগ্রাফ যখন দিচ্ছিলেন জাফর ইকবাল, তখনই জানতে চাইলাম, এই ফ্যানবাজি বা হুল্লোড়, আপনার কেমন লাগে?
বললেন, 'সারাবিশ্বেই মোটিভেশনাল বইয়ের একটা জায়গা আছে। জনপ্রিয়তা আর সাহিত্য তো এক নয়। সাহিত্য বেঁচে থাকবে। জনপ্রিয়তা নয়।'

বিজ্ঞাপন

গেল কয়েক বছর ধরেই মেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আধিপত্য বাড়ছে। শুধু বিপণন নয়, লেখকও উঠে আসছেন এই মাধ্যম থেকে। অন্যপ্রকাশের সত্ত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম বলছেন, 'সামাজিক মাধ্যম থেকে যে লেখক আসছেন, তিনি কিন্তু ঐ মাধ্যমটিতে পাঠক তৈরি করেই আসছেন। আর সস্তা বই পাঠক একবার কিনবে, বারবার তো কিনবে না।'

অনলাইন, ফ্যান ফলোয়ার, মোটিভেশনাল রাইটার-সব নিয়েই মুখেমুখি হই কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের। বললেন, 'অসুখ সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়। অসুখের দিন একদিন শেষ হয়। আমি হতাশ নই। সামাজিক মাধ্যমে যে কেউ তার সাম্রাজ্য বিস্তার করতে পারে। যদি খারাপ বইয়েরও বিজ্ঞাপন দেয়া হয়, বইটা মানুষ পড়েই বুঝতে পারবে। আর যারা খারাপ বই পড়েন, তারা একটা ভালো বই পড়লেই বুঝবেন যে, কোনটা খারাপ বই। আমি মনে করি, রুচিটা নিজস্ব। তার জন্য শিক্ষা আর সংস্কৃতির পাঠ প্রয়োজন। আমরা দৌড়াচ্ছি। দৌড়াতে গেলে হোঁচট খেতে হয়। তবে শেষ বিচারে আমরা একটা গন্তব্যের দিকে যাচ্ছি। আমি হতাশ নই।'
বলেই সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া একটি বই নিয়ে দেখছিলেন অধ্যাপক মনজুরুল। এরপর যোগ করলেন, ' সামাজিক মাধ্যমটাতো উন্মুক্ত। সেখানে প্রকাশকদের যেমন সুযোগ, লেখকদেরও তাই। তরুণরা এত বইয়ের ভিড়ে তার একটি নতুন বই নিয়ে আলাদা ভাবে ভাবছেন, ফ্যান ফলোয়ার তৈরি করছেন, তার পক্ষে বিপণনের দায়িত্ব নিচ্ছেন, আমি খারাপ কিছু দেখছি না। আমি মনে করি, বই ই তো, আর তো কিছু নয়। বই যেভাবেই পৌঁছাক, মানুষের হাতে-তা অমূল্য। একটা ভালো বই তার মতো করেই জায়গা করে নেয়।'

সারাবাংলা/পিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন