বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ৩ ধাপের প্রস্তুতি বাংলাদেশের

February 26, 2020 | 10:44 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) প্রতিরোধে তিন ধাপের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমরা করোনাভাইরাসের পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে অনেক আগে থেকেই কাজ করছিলাম। যদি এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায় তখন কী করা হবে, সেসব প্রস্তুতির খসড়া আমরা তৈরি করেছি। সেটা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আইইডিসিআরের সমন্বয়ে এই প্রস্তুতির খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত আইইডিসিআরের সম্মেলন কক্ষে করোনাভাইরাস নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ৮০ ভাগ মৃদু, ১৪ ভাগ গুরুতর ও ৬ ভাগ বেশি গুরুতর রোগী। যদি বাংলাদেশে কেউ শনাক্ত হয়, সেজন্য তিন স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে হচ্ছে অ্যালার্ট লেভেল। যেহেতু এখন দেশে কোনো রোগী নেই, তাই আমরা এখন সেই কর্মসূচি পালন করছি। দ্বিতীয় ধাপটি বাস্তবায়ন করা হবে যখন বিদেশ থেকে অল্প সংখ্যায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাবে। আর শেষ ধাপে থাকছে যদি বেশি সংখ্যায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেলে তার প্রস্তুতির বিষয়টি। প্রতিরোধের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না। সম্মিলিতভাবে আমরা যে কার্যক্রম নিচ্ছি, তাতে আশঙ্কা করি না যে এ রোগটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।

আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, এখন পর্যন্ত যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট। দেশে এখন পর্যন্ত ৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কারও শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েনি। গত ২৪ ঘণ্টায় চার জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের কারও শরীরেও এই ভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি। দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকের করোনা রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। চীনের উহান থেকে ফেরত আসাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এছাড়া দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে বিদেশি ফ্লাইটগুলোকেও পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হয়েছে।

অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, করোনাভাইরাসের আলাদা কোনো চিকিৎসা নেই। সাধারণ জ্বরের চিকিৎসাই করা হয়ে থাকে এই রোগে। তবে এক্ষেত্রে রোগীকে পৃথক রাখা বেশি জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮০ হাজার ২৩৯ জন। চারটি নতুন দেশ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালিতে নজর রাখা হচ্ছে। চীনের বাইরে ৩৩টি দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, যেসব দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, সেসব দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের খোঁজ-খবর রাখতে দূতাবাসগুলোতে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। চীন থেকে কিট এসেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কিট এসেছে এবং সিডিসি আটলান্টার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও আমরা যোগাযোগ তৈরি করে রেখেছি। কিটের সরবরাহ যেন অব্যাহত থাকে, সেজন্য অনেক জায়গায় আমাদের অর্ডার দেওয়া রয়েছে। এটা আসতে থাকবে। কিটের কোনো ঘাটতি হবে না।

ফাইল ছবি

সারাবাংলা/এসবি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন