বিজ্ঞাপন

৭০-এ শেখ সাদী খান, বললেন- মনের ভাবনায় সংখ্যা কিছু না

মার্চ ৩, ২০২০ | ৬:৫৭ অপরাহ্ণ

আশীষ সেনগুপ্ত

শেখ সাদী খান- খ্যাতিমান সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার। যাকে বাংলাদেশের সঙ্গীতের জাদুকর বলেও অভিহিত করা হয়। যিনি ২০০৬ সালে ‘ঘানি’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক এবং ২০১০ সালে ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

বিজ্ঞাপন

১৯৬৫ সালে রেডিও পাকিস্তানে বেহালা বাদক হিসেবে সুরের জীবন শুরু করেন শেখ সাদী খান । এরপর ১৯৬৮ সালে বেহালা বাদক হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যুক্ত হন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বাংলাদেশ বেতারে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৭ সালের মার্চে প্রধান সঙ্গীত প্রযোজক হিসেবে বাংলাদেশ বেতার থেকে অবসর নেন। ১৯৭৭ সালে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সারাদেশে খ্যাতি লাভ করেন। প্রথম চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেন ১৯৮০ সালে আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘এখনই সময়’ চলচ্চিত্রে।

শেখ সাদী খান চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতের সঙ্গে নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রেখেছেন। এখনও কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। ২০১৮ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। এখন পর্যন্ত ১০৫টিরও বেশি সিনেমায় সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। সুর করেছেন ৮ হাজারেরও বেশি গান। সর্বশেষ গত বছর শেখ সাদী খান ‘বান্ধব’ ও ‘পদ্মার প্রেম’ সিনেমার সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।

বিজ্ঞাপন

অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা শেখ সাদী খান আজ (৩ মার্চ) পা রাখলেন ৭০ বছর বয়সে। বিশেষ এই দিনটি নিয়ে তার একান্ত অনুভূতি জানালেন সারাবাংলা’র স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট আশীষ সেনগুপ্ত’র সঙ্গে …

• জন্মদিন ও প্রত্যাশা _

জন্মদিন- বিষয়টা নিয়ে আলাদাভাবে কখনোই কিছু ভাবা হয়না। সংখ্যার হিসাবে ৭০- কিন্তু মনের ভাবনায় কিছুই না। আমি এতোটা দিন ধরে আমার মতো করেই কাজ করে চলেছি। আমার আদর্শ, আমার একান্ত চিন্তা-ভাবনা নিয়েই এই সংগীত অঙ্গনে এগিয়ে চলেছি। আগামিতে আরো সুন্দর কিছু কাজ করতে চাই। জীবনটা আস্তে আস্তে বিলীন হওয়ার পথে। একদিন হারিয়ে যাবো- এটাই সত্য। তাই যতটা দিন বেঁচে আছি, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করে যেতে চাই। আমার কর্মক্ষমতাটাকে পুরোপুরি ব্যবহার করতে চাই। সময়টাকে কাজের মধ্য দিয়েই অতিক্রম করতে চাই। জীবনের গতি কার কিভাবে থামবে সেটা কেউ জানেনা, এটাই চিরন্তন সত্য। সবই স্রষ্টার সৃষ্টি, আমাদের দায়িত্ব সেটিকে সুন্দর ভাবে এগিয়ে নেয়া। আমিও এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এটাই আমার উদযাপন। জন্মদিনে একটাই চাওয়া- মানুষের দোয়া, হৃদয়ের ভালোবাসা। যেন শেষদিন পর্যন্ত কিছু সুন্দর কাজ করে রেখে যেতে পারি।

• সাম্প্রতিক ব্যস্ততা _

কাজ করেই যাচ্ছি। টেলিভিশনে আমার নিজের পরিকল্পনায় একটা অনুষ্ঠান করি- ‘স্মৃতিময় গানগুলো’। সৈয়দ আব্দুল হাদির সঞ্চালনায়। পুরানো দিনের প্রতিটা গান বিস্তারিত তথ্যসহ পরিবেশিত হয়। ১৯৬০ সাল থেকে শুরু করে গানের যে বিবর্তন সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি টেলিভিশনের যাবতীয় মিউজিক্যাল শোগুলো আমাকেই সামলাতে হচ্ছে। চেষ্টা করি টেলিভিশনে একটু বেশী সময় দিতে। কারণ এটা আমার ভীষণ প্রিয় একটা কাজের জায়গা। আর বাইরে কাজ তো করতেই হচ্ছে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষ নিয়ে বেশ কিছু কাজ করছি। এদিকে নিয়মিত সেন্সর বোর্ডেও যেতে হয়। যেহেতু ওখানে আমিও একজন মেম্বার। তাই সেন্সরের জন্য জমা পড়া ছবিগুলোও দেখতে যেতে হয়। এই সব মিলিয়েই আছি।

• আক্ষেপ _

যারা সুন্দর মনের মানুষ- তাদের মধ্যে এক ধরণের আক্ষেপ সবসময় থাকেই। বিশেষ করে যখন চারপাশে প্রচুর অনিয়ম দেখতে পাই, তখন কষ্ট লাগে। আমাদের সংগীতে একটা অনিয়ম চলছে। এখন এসব সত্য কথা বলতে গেলে অনেকের হয়তো খারাপ লাগবে। সর্বক্ষেত্রে অনিয়ম। একজন ভালো মিউজিশিয়ান তৈরি হচ্ছেনা। কিন্তু একটা ভালো গান বা সুন্দর সৃষ্টির জন্য একজন ভালো মিউজিশিয়ান ছাড়া সম্ভবই না। গান হচ্ছে কানে শোনার, হৃদয়ে অনুভব করার। কিন্তু এখন গান হয়ে গেছে চোখে দেখার। আমরা যারা এই সেক্টরে কাজ করছি তাদের চিন্তা ভাবনায় সবসময় আগামী দিনের পরিকল্পনা থাকা উচিত। আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য কি রেখে যাচ্ছি। আমাদের একটা নিজস্বতা থাকবে। সেটা ঠিক রেখে একেক জন একেকভাবে কাজ করবে, এটাই হওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু হলনা। যার ফলে বর্তমান সময়ে যে গান গুলো হচ্ছে সেগুলোর স্থায়িত্ব একেবারেই কম। এটা খুবই বেদনার।

• নতুনদের জন্য _

নতুন প্রজন্ম যারা আসছে এবং কাজ করছে, তাদের অনেকেই হয়তো বেসিক শিখে আসতে পারেনি। কেউ কেউ আবার শুধু গানটা শুনে শুনেই বা প্রযুক্তির উপর নির্ভর করেই শিল্পী হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের কাছে আমার একটাই পরামর্শ- তারা এখন যে অবস্থানেই থাকুক না কেন, তারা যেন একজন শুদ্ধ গুরুর কাছে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে গুরুর সান্নিধ্যে গানটা শিখে নেয়। কারন সঠিক পথপ্রদর্শক ছাড়া বেশিদুর এগুনো যায় না। আর এই পথপ্রদর্শকই হচ্ছেন গুরু বা শিক্ষক। তাই আমি মনে করি, শুধুমাত্র অধিক উপার্জনের লোভে এদিক-সেদিক না দৌড়ে নতুনদের গানটা সঠিক ভাবে শেখা এবং নিয়িমিত চর্চা চালিয়ে যাওয়া উচিৎ। আমাদের সংস্কৃতিটাকে যেন শুদ্ধ ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, অন্তরে সেই ভাবনাটা রেখে তারা যেন কাজ করে যায়। সবাই ভালো থাকুক...।

সারাবাংলা/এএসজি/পিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন