বিজ্ঞাপন

জাতীয় জীবনে অবদান, সম্মাননা পেলেন ৯ নারী

মার্চ ৬, ২০২০ | ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতীয় জীবনে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ‘আনসাং উইমেন ন্যাশন বিল্ডার্স ২০২০’ সম্মাননা পেলেন ৯ নারী। এর মধ্যে সাত জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য এবং দু’জনকে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৬ মার্চ) ঢাকার র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। দ্য ডেইলি স্টার ও আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, খেলাধুলা, আত্মিনির্ভরশীলতা, সাহসিকতা ও উদ্যোক্তা হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য সাত জন এবং মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য আরও দু’জন সংগ্রামী নারীকে বিশেষজ্ঞ জুরি প্যানেলের মাধ্যমে মনোনীত করা হয়। পুরস্কার বিজয়ীরা হলেন— বীরাঙ্গনা টেপরি রানী, বিভা রানী, লাইলী বেগম, কামরুন নাহার মুন্নী, সোনু রানী দাস, কোহিনূর বেগম, মমতাজ মহল বেবি, জয়া চাকমা ও মারজিয়া রাব্বানী শশী। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে দুই লাখ টাকা ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, আজ আমরা যাদের সম্মানিত করছি, তার মাধ্যমে নিজেদেরকেই সম্মানিত করছি। তাদের সাহস, অবদান ও কর্মের কাছে আমরা কিছুই না।

দু’জন মুক্তিযোদ্ধার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া প্রসঙ্গে ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত নির্যাতনের শিকার হয়েও তারা মনোবল হারাননি। কিন্তু তাদের এখনো মুক্তিযোদ্ধা না বলে বীরাঙ্গনা বলা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরিবার আর সমাজ তাদের গ্রহণ করতে না চাইলেও মানসিক দৃঢ়তা দিয়ে সমাজে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। তারা সম্মানের যোগ্য না তো কে?

আইপিডিসি পরিচালক মোমিনুল ইসলাম বলেন, আজ যে ৯ জন অসামান্য ও অসাধারণ নারী এখানে উপস্থিত হয়েছেন, বর্তমান বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতীক তারা। বাংলাদেশের যে নারীরা ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে উদ্যোক্তা হয়েছেন, তাদের এবং ৩৫ লাখ পোশাককর্মীর সবার প্রতিনিধি এই নারীরা। তাদের গল্পটাই বাংলাদেশের বদলে যাওয়ার গল্প। তাদের সম্মানিত করতে পেরে আইপিডিসি সম্মানিত।

সম্মাননা প্রদানের মঞ্চে টেপরি রানী ও বিভা রানী আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। টেপরি রানী বলেন, ‘এত কষ্ট, এত দুঃখ। আমার মতো এত কষ্ট কেউ যেন না পায়।’

বিভা রানী বলেন, আমাদের এখানে আনার জন্য সবাইকে ভক্তিসহকারে প্রণাম। মুক্তিযুদ্ধের এত বছর কেটে গেলেও যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত। আজ এখানে এসে আমার খুব আনন্দ লাগছে। আজ আর কষ্ট নাই। একটানা সংসারের ঘানি টানতে আছি। এর যেন কোনো শেষ নাই।

পরে দরাজ কণ্ঠে ‘মুজিব বাইয়া যাও রে/ দেশের জনগণের নাও বেয়ে যাও’ গেয়ে ওঠেন বিভা রানী। এসময় অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় অনুষ্ঠানস্থলে।

বিভা রানীর একমাত্র সন্তান একটি দুর্ঘটনার পর বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি সবার কাছে ছেলেটির জন্য সাহায্য চান। আইপিডিসির প্রধান ছেলেটির দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।

সবার শেষে প্রধান অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন বলেন, ৯ জন নারীর কাহিনী জেনে নিজেকে খুব ছোট মনে করছি। তাদের দেখে আমরা সবাই উদ্বেলিত। আমরা যা করছি, তা যথেষ্ট নয়। তাদের ত্যাগ দেখে আমি অভিভূত। তারা প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। তাদের প্রত্যেকের জীবন তার চাক্ষুষ উদাহরণ। প্রবল ইচ্ছার কাছে কোনো বাধাই যে বাধা নয়, তা আজ আবার দেখলাম। কোনো বাধাই তাদের দমিয়ে রাখতে পারেনি।

এ বছর দেশ ও সমাজ বিনির্মাণে অসামান্য অবদান রাখা এক হাজারেরও বেশি নারীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞ জুরি প্যানেল দুই মুক্তিযোদ্ধাসহ ৯ নারীকে মনোনীত করেন। জুরি বোর্ডে ছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, গ্লোবাল ক্যাম্পেইন ফর এডুকেশনের নির্বাহী রাশেদা কে চৌধুরী, ব্যবসায়ী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রোকেয়া আফজাল রহমান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. মালেকা বানু এবং ব্র্যাকের কমিউনিটি এম্পাওয়ারমেন্টের পরিচালক আনা মিনাজ।

সারাবাংলা/আরএফ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন