বিজ্ঞাপন

বিমানবন্দর থেকে প্রান্তিক এলাকা— করোনায় সতর্ক গোটা ভারত

March 7, 2020 | 11:58 pm

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা

বিমানবন্দর থেকে প্রান্তিক এলাকা— করোনায় সতর্ক গোটা ভারত

বিজ্ঞাপন

ঢাকা থেকে শনিবার (৭ মার্চ) সকালে যখন কলকাতার পথে যাত্রা করি, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে করোনাভাইরাস নিয়ে খুব একটা আনুষ্ঠানিক সতর্কতা চোখে পড়ল না। তবে যাত্রীদের অনেককেই দেখা গেল মুখে মাস্ক লাগিয়ে ঘুরছেন। আমার মুখেও একটি মাস্ক ছিল, তবে সেটি চশমা-চোখের মুখে ধরে রাখা বেশ কঠিন কাজ বলেই মনে হলো।

স্পাইস জেটের কর্মী চেক-ইনের সময়ই বলে দিলেন, গত কিছুদিনের মধ্যে যদি আপনি চীন, জাপান, কোরিয়া, ইরান, ইতালি ভ্রমণ করে থাকেন, তবে ভিসা থাকলেও আপনি ভারত যেতে পারবেন না। বোঝা গেল, এই করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯-এর আতঙ্কে বড় রকমের সচেতনায় আছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

কলকাতা বিমানবন্দরে দু’টি ফরম পূরণ করতে হলো— ঘোষণা দিতে হলো আমার জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যাথা বা জ্বর নেই। এখানেও ইমিগ্রেশন কর্তারা বেশ ভালোভাবেই নিশ্চিত হতে চাইলেন যে যাত্রীদের কেউ সম্প্রতি চীন, জাপান, কোরিয়া, ইরান বা ইতালি ভ্রমণ করেছে কি না। অন্য কোনো দেশে গেলেও তার ইতিহাস বেশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংযোগ ফ্লাইটের জন্য লাউঞ্জে অপেক্ষার সময় টেলিভিশনে ব্রেকিং নিউজ চলছিল, করোনা আতঙ্কে কলকাতায় বসন্ত উৎসব স্থগিত। শুধু কলকাতাতেই নয়, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতজুড়েই সমাবেশে রাশ টানতে উদ্যোগী সরকার। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রকোপে বদল করা হয়েছে দিল্লিতে শুটিং বিশ্বকাপের ক্রীড়াসূচি, যা হবে আগামী মে মাসে। একইসঙ্গে টোকিওতে অলিম্পিকের বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতাও বাতিল হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভারতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩১। তাই তাদের উদ্যোগও একটু বেশি। যেমন চেন্নাইয়ে আমাদের হোটেলে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দু’বার থার্মাল ডিটেক্টর দিয়ে আমাদের জ্বর পরীক্ষা করা হলো।

বিজ্ঞাপন

পত্রপত্রিকার দিকে চোখ দিলে দেখা যায়, নানাবিধ খবরের মাঝে করোনা আতঙ্কই বড় খবর। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা যখন লিখছে— অকারণ আতঙ্ক নয়, করোনা ঠেকাতে সতর্কতা মেনে চলুন, তখন চেন্নাইয়েও দ্য হিন্দু বলছে— করোনা আক্রমণ ঠেকাতে বড় বিমানবন্দর বা শুধু বন্দর না, করোনা পরীক্ষা করার সুবিধা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রান্তিক এলাকাগুলোতেও। আর এজন্য তহবিলও ছাড় করা হচ্ছে প্রয়োজন অনুযায়ী।

সংক্রামক হওয়ার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন করোনাভাইরাসে। আর এ কারণেই বিশেষ সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একটা বিষয় বেশ পরিষ্কার, ভারতীয় নাগরিক যারা কাজের সূত্রে চীন, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান বা জাপানসহ নানা জায়গা থেকে দেশে ফিরছেন বা বিদেশ থেকে ভারতে আসছেন, তাদের থেকে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাকে কোনোভাবেই উড়িয়ে দিচ্ছে না দেশটি। আর এ কারণেই কোভিড-১৯ ভাইরাস নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে সম্মিলিতভাবে। দেশের চিকিৎসকদেরও সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পত্রপত্রিকায়ও এক সুর— যেহেতু এই সংক্রমণের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই এবং এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ ভাইরাসকে পরাজিত করতে কোনো টিকাও আবিষ্কৃত হয়নি, তাই উপসর্গভিত্তিক কষ্ট লাঘবের জন্য চিকিৎসা পরামর্শই এখন একমাত্র প্রেসক্রিপশন। উপদেশ হিসেবে বলা হচ্ছে, ভিড়ভাট্টায় না থাকাই ভালো। কাছাকাছি কারও হাঁচি-কাশি হলে নিজের নাক-মুখ চাপা দিয়ে রাখার সঙ্গে সঙ্গে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। সাবান বা জল না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। আর সার্জারি মাস্কও পরতে হবে।

প্রশ্ন হলো— বাংলাদেশ কতটা করছে?

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন