বিজ্ঞাপন

কোনো দেশই পারেনি আনতে নারীর সমতা

মার্চ ৮, ২০২০ | ১২:৪৫ অপরাহ্ণ

রোকেয়া সরণি ডেস্ক

ক্যালেন্ডারের পাতা বদলেছে। বছর-ঘুরে আবার এসেছে ৮ মার্চ। দিনটি সারাবিশ্বে পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে থাকে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন। পত্রিকাগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ লেখেন নারী অধিকার কর্মীরা । গুগলে দেখা মিলে বিশেষ ডুডলের। টুইটার-ফেসবুক রঙিন হয় বর্ণিল ‘ইমোজি’তে।

বিজ্ঞাপন

সেই ১৯১৪ সাল থেকে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে পালন করে আসা নারী অধিকার দিনটির শতবর্ষ পেরিয়েছে। তবে নারীর ভাগ্য পরিবর্তনে দিবসটি কতটুকু ভূমিকা রাখতে পেরেছে তাতো প্রশ্ন বটেই! অনুন্নত দেশগুলো নারী স্বাধীনতায় যেমন পিছিয়ে আছে, উন্নত দেশগুলোও  নিশ্চিত করতে পারেনি নারীর সমান অধিকার।

এমনকি ইউরোপের যেসব দেশ নারী ও মানবাধিকার রক্ষায় অন্যান্য দেশের চেয়ে এগিয়ে, তাদেরও বৈষম্য এড়াতে পাড়ি দিতে হবে অনেকটা পথ। নারী বৈষম্য বিলোপে ২০১৫ সালে নির্দিষ্ট করা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো পূরণ করা কোনো দেশের পক্ষেই এখনো সম্ভব হয়নি। ২০৩০ সালের মধ্যেও সেসব বিষয়ে সমতা পূরণ করাও দিবাস্বপ্ন!  এবার জাতিসংঘ ২০২০ সালের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ঘোষণা করেছে, ‘আই অ্যাম জেনারেশন ইক্যুয়ালিটি: রিয়েলাইজিং উইম্যান’স রাইটস।’ খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

বিজ্ঞাপন

সাস্টেইন্যাবল ডেভেলপমেন্ট গোল এর জেন্ডার ইনডেক্সে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৮০ কোটি কিশোরী ও নারীদের ভাগ্য উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না দেশগুলো। এদের মধ্যে সাব-সাহারা আফ্রিকার ৩৩টি দেশ সবচেয়ে বাজে অবস্থায়  রয়েছে। এরপরই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার নারীদের। তারপরেই রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও দ্য ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের অবস্থান। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার নারীরা তুলনামূলক কিছু সুবিধা পেয়ে থাকেন। এশিয়ার কয়েকটি দেশে নারী সমতা রক্ষার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

২০১৯ সালের এক জরিপে দেখা যায়, জেন্ডার ইক্যুইলিটি ইনডেক্সে ডেনমার্ক ১০০ এর মধ্যে ৮৯.৩ পেয়ে শীর্ষে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৭৭.৬ পেয়ে ২৮তম, চীন ৬৪.৭ স্কোরে ৭৪তম। ১২৯ দেশের বৈশ্বিক গড় এক্ষেত্রে মাত্র ৬৫.৭। ২১টি দেশ  ৫০ স্কোরও করতে পারেনি।

ইক্যুয়েল মেজারস-২০৩০ এর ডিরেক্টর অ্যালিসন হোল্ডার এ বিষয়ে বলেন, আমি মনে করি না কোনো দেশই খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী। এমনকি যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ভালো করেছে। এমনি এমনিতেই এই সমস্যা দূর হবে না।

২০৩০ সালের মধ্যে নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য দূর করতে লক্ষ্য নির্ধারণ ও আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। বাল্যবিবাহ বন্ধ ও কর্মক্ষেত্রে নারীর ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে বলা হচ্ছে। নারীর গৃহ-কাজের স্বীকৃতি ও সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো দৃঢ় করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিজ্ঞান শিক্ষা, অর্থব্যবস্থা ও রাজনীতিতে নারীর পদচারণ আরও বিস্তৃত করারও অঙ্গীকার করেছে দেশগুলো।

যদিও এসডিজে এর মতে, এখনো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৭৫ কোটি শিশু-কিশোরী প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ ১৮ বছর হওয়ার আগেই বাল্য বিবাহের শিকার। ১৮টি দেশে স্বামীরা তাদের স্ত্রীদের চাকরি না করতে বাধ্য করতে পারেন, ৩৯ দেশে নারীরা সম্পত্তির সমান অংশীদারিত্ব পান না। গৃহ নির্যাতন বন্ধ করতে ৪৯টি দেশে নেই আইন। বিভিন্ন দেশের সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্বের হার মাত্র ২৩.৭, কৃষি ভূমির মালিকানা মাত্র ১৩ ভাগ। উত্তর আফ্রিকায় কৃষির বাইরে প্রতি ৫টি চাকরির মাত্র ১টিতে নারীদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।

তবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাল্য বিবাহের হার ২০০০ সালের পর শতকরা ৪০ ভাগ কমেছে। ১০০টির বেশি দেশে বৈষম্য বিলোপে অর্থ বরাদ্দ থাকছে বার্ষিক বাজেটে।

সারাবাংলা/এনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন