বিজ্ঞাপন

জীবনের একটা দিন সারাজীবনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকতে পারে

March 8, 2020 | 4:28 pm

আশীষ সেনগুপ্ত

বাংলাদেশের থিয়েটার জগতে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণার নাম রোকেয়া রফিক বেবী। একাধারে অভিনয়শিল্পী, নাট্যনির্দেশক ও সংগঠক হিসেবে নাট্যাঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দলপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেশের অন্যতম নাট্য সংগঠন থিয়েটার আর্ট ইউনিটের। ‘আমিনা সুন্দরী’, ‘ছায়াচক্র’, ‘মর্ষকাম’ মঞ্চে এসেছে তারই নির্দেশনায়।

বিজ্ঞাপন

আজ (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নাট্যসংগঠন ‘স্বপ্নদল’ আয়োজন করেছে নাট্য প্রদর্শনী ও ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস সম্মাননা ২০২০’। এবার এই নারী নাট্যজন সম্মাননা পাচ্ছেন ‘রোকেয়া রফিক বেবী’। ‘নারীজন্ম ধন্য হোক আপনভাগ্য গড়ার অধিকারে’ স্লোগানে সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে এই আয়োজন।

এই সম্মাননা ও বিশেষ এই দিনটি নিয়ে তার একান্ত অনুভূতি জানালেন
সারাবাংলা’র স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট আশীষ সেনগুপ্ত’র সঙ্গে …

বিজ্ঞাপন

• সম্মাননা _

সম্মাননাটা একদিনের, কিন্তু এক জীবনের একটা দিন সারাজীবনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকতে পারে। এটা একটা ক্ষণ। কিছু কিছু ক্ষণ দিয়েই একটা গাঁথা তৈরি হয়। তৈরি হয় একটা জীবন, একটা প্রজ্ঞা, জীবনের মূল্যবোধ, অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতা, প্রতিজ্ঞা, সবকিছুই ক্ষণ থেকেই সৃষ্টি, তাই নয় কি? সুতরাং যে কোন ক্ষণকেই কখনোই ক্ষুদ্র বা দুর্বল বা কি প্রয়োজন- এভাবে না দেখাটাই আমাদের সবার জন্য মঙ্গল।

• প্রসঙ্গ: নারী দিবস _

নারী দিবস কথাটা একটা শ্রেণীর জন্য খুব আনন্দের, আবার আরেকটি শ্রেণীর জন্য কটাক্ষের। আমার অনুভব থেকে বলি, কিছু মানুষের জন্য এটা অত্যন্ত আনন্দের, সংগ্রামের, শক্তির। আর অন্য একটা শ্রেণীর জন্য শুধুই খামাখা-খামাখা-খামাখা। তো যতদিন পর্যন্ত এই বিভক্ত দুই শ্রেণী, দুটো মন, দুটো মেধা, দুটো মনন, সমাজের এক জায়গায় না পৌঁছাবে- ততদিন পর্যন্ত এ ধরণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়াস চলতেই থাকবে। যার যার দলীয় শক্তিতে দলীয় মতের পথে, সংগ্রামে ব্যস্ত থাকবে, নিয়োজিত থাকবে। কেউ কেউ যে এটাকে মাতামাতি বলছে, যদি ঘুরে তাকাই, আজকের বাংলাদেশে নারীর প্রতি যে সহিংসতা, যে অসম্মান, পুরো সামাজিক স্তরে নারীর যে অবস্থান, সে জায়গা থেকে এটাকে মাতামাতি বলাটা আমার কাছে ঠিক বেমানান। মাতামাতি- এটা ভুল শব্দ চয়ন। তাই আমি মনে করি এটা মাতামাতি নয়, এটা জানান দেয়া। এক ধরণের স্বাধিকার আদায়ের প্রকার। তাই আমার মনে হয় হীনমন্যতা থেকেই কিছু মানুষ এটাকে এভাবে ভাবে। তাই এটাকে যদি একটু সার্বজনীন করে ফেলতে পারি আমরা, একটা উৎসবের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি, তবেই সফল হতে পারবো। আমরা যদি দুর্গাকে নিয়ে মাতামাতি করতে পারি, যিনি নারী শক্তির প্রতিক। তাঁকে নিয়ে যদি সমগ্র পৃথিবী মেতে উঠতে পারি, তাহলে কেন নারী দিবসটাকে খাটো করবো? এটা ধর্মীয় ভাবে একটা জায়গায় রয়েছে, ধর্মটাকে ধারণ করে যদি নারীর অবস্থানটাকে সার্বজনীন করতে পারি, তাহলে একদিন নারী স্বাধীনতা সত্যি হবে। নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার চিন্তা ভাবনা বাস্তবায়িত হবে।

• স্বপ্নদলের এই আয়োজন _

আমরা শুধু থিয়েটার করিনা। প্রতিটা দলই একটা উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কেউ সমাজের জন্য, কেউ শিল্প সৃষ্টির জন্য, একেক জনের একেকটা চিন্তা চেতনা থাকে। এরকমই একটা চিন্তা থেকে হয়তো ‘স্বপ্নদল’ এদিনটাকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, আজ থেকে বহুকাল পুর্বেই বাংলা থিয়েটারের জন্য বিনোদিনী দাসীর যে অবদান, সেটা কিন্তু প্রতিষ্ঠা পায়নি। সেই সময়কার সমাজ ব্যবস্থা বা তখনকার শিল্প-সংস্কৃতির ধারক বাহক তাঁকে স্বীকৃতি দেয়নি। আজকে সেই বিনোদিনী দাসীর পথ ধরেই আমি রোকেয়া রফিক মঞ্চে কাজ করছি। তাই আমার কাছে নারীর প্রতি যে ভালোবাসা এবং সম্মান, যেটা ‘স্বপ্নদল’ ধারণ করলো, এটা তো খুবই বড় মাপের একটা কাজ। এটা দিয়ে তারা সমতা ভিত্তিক একটা সমাজ ব্যবস্থা চাইছে বলে আমার মনে হচ্ছে। এক্ষেত্রে স্বপ্নদলের এই কাজটা অসম্ভব শৈল্পিক। তারা চেষ্টা করছে নারী আন্দোলনের সাথে সংস্কৃতি আন্দোলনের যোগসূত্র তৈরির। এই যোগসূত্রেরই একটি ক্ষণ হচ্ছে এই নারী দিবসের সম্মাননা। তারা এটা কাকে দিচ্ছে? একজন নারীকে। যে নারী প্রতিনিয়তই শ্রম দিয়ে যাচ্ছে থিয়েটারে, সেই নারীর শ্রমকেই প্রতি বছর সম্মান জানাচ্ছে তারা। আমি মনে করি এটা খুবই প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ।

• অভিযোগ- আপনাকে আমরা সবসময় পাইনা _

আমি কিন্তু মঞ্চে প্রতিনিয়তই নাটক করছি। গত তিন মাসে প্রায় ছয়টা শো করে ফেলেছি। এছাড়াও আমার নির্দেশিত নাটক প্রতি মাসেই মঞ্চায়িত হচ্ছে। এখনো কি বলবে, আমাকে পাওয়া যায়না (হাসি)। তবে হ্যাঁ আমাকে তোমরা সশরীরে পাওনা। আমি যে এমনই। আজীবন আমি আমার দলের ভেতরেই রয়েছি। আমি সারাক্ষনই চেষ্টা করি আমার নাটকেই ডুবে থাকতে। মহড়া কক্ষটাই যে আমার সবচেয়ে ভালো লাগার জায়গা। বাকি জীবনটা এভাবেই থাকতে চাই। তোমরা আমায় আশীর্বাদ কোরো...

সারাবাংলা/এএসজি/পিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন