বিজ্ঞাপন

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্র দরকার: ফখরুল

March 8, 2020 | 4:59 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনলে নারীদের অধিকার ফিরে পাওয়া যাবে না। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্র দরকার। আর সে জন্যই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। খালেদা জিয়া মুক্ত হলেই গণতন্ত্র মুক্তি পাবে।’

বিজ্ঞাপন

রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এ র‌্যালির আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়া নারীদের জন্য বহু কাজ করেছেন। নারী শিক্ষার জন্য সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে কাজটি তিনি করেছেন, সেটি হল নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন। সেই মহীয়সী নারী আজ কারাবন্দি। তাকে মিথ্যায় মামলায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

‘সেই সাথে সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ সমাজ তৈরি করার জন্য নারীদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা দেখেছি আমাদের দেশের নারীরা অত্যন্ত নিষ্ঠাবান। পরিবারগুলোকে তারাই ধরে রাখেন, পরিবারের জন্য তারাই কাজ করে যান নিরলসভাবে’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

মহিলা দলের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকের নারী দিবসে আপনাদের শপথ নিতে হবে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য। কারণ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস শুধু আপনাদের অধিকার আদায়ের জন্য নয়, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্যও আপনাদের লড়াই-সংগ্রাম করতে হবে। গণতন্ত্র যদি না থাকে, তাহলে নারীর অধিকার থাকবে না।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য এবং তাৎপর্যপূর্ণ দিন হওয়া উচিত। নারীদের যে অধিকার, তাদের যে উন্নয়ন, তাদের যে ক্ষমতায়ন— এই বিষয়গুলোর জন্য দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন হয়েছে। আজকের সারা বিশ্বের নারীদের যতোটুকু প্রাপ্তি, তা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এসেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে যখন আপনারা আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করছেন তখনই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।’

র‌্যালিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ, যুগ্ন সম্পাদক হেলেন জেরিন খান ও বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরে আরা সাফাসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

আফরোজা-সুলতানা গ্রুপের মধ্যে হট্টগোলে
এদিকে র‌্যালিতে মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের গ্রুপের মধ্যে হট্টগোল, হাতাহাতি, ঠেলাঠেলির ঘটনা ঘটেছে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, র‌্যালিতে অংশ নেওয়ার জন্য রোববার (৮ মার্চ) সকাল ১১টার পর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহিলা দলের কর্মী-সমর্থকেরা জড়ো হতে শুরু করেন। পরে ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে সেখানে আসেন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ। এসময় সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান উপস্থিত নেতাদের নাম বলছিলেন। সেটা শুনেই সুলতানা আহমেদ ক্ষিপ্ত হয়ে উচ্চ স্বরে বলেন, ‘কর্মসূচি শুরু হওয়া কথা ছিল দুপুর ১২টায়। আর ব্যানার, লিফলেট এবং ফেস্টুন ছাড়াই সোয়া ১১ টায় কেন সমাবেশ শুরু হলো?’ তার কথার কোন জবাব না দিয়ে হেলেন জেরিন খান পরবর্তী বক্তার নাম ঘোষণার সাথে সাথেই সুলতানা আহমেদ তার হাত থেকে মাইক্রোফোন মাটিতে ফেলে দেন।

এই ঘটনার সময় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস সেখানে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বিএনপির অফিসের ভেতরে চলে যান। আফরোজা আব্বাস চলে যাওয়ার পর সুলতানা আহমেদের উদ্দেশে নেতাকর্মীরা বলেন, ‘আপনি সময় দেবেন সকাল ৯টায়। নিজে আসবেন ১১টায়! সেটা তো হয় না।’

এসময় নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন, ‘সুলতানা আপার অত্যাচার, মানি না মানবো না, আফরোজা ভাবির ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই।’

বিজ্ঞাপন

পরে র‌্যালির প্রধান অতিথি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিশেষ অতিথি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে নিয়ে বিএনপি অফিসের নিচে আসেন আফরোজা আব্বাস। তখন পরিস্থিতি শান্ত হয়।

অতিথিদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর নয়াপল্টন থেকে শুরু র‌্যালি শুরু হয়। এটি নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে ফের বিএনপির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালি থেকে মহিলা দলের নেত্রীরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এদিকে মহিলা দলের র‌্যালিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরাও তৎপর ছিলেন।

সারাবাংলা/এজেড/এমও

Tags: , , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন