বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৭ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

সারপ্রাইজ থেকে সাসপেন্স!

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮ | ৩:১৩ অপরাহ্ণ

ছেলেবেলা কেটেছে কলোনীতে। তো যারা কলোনী কালচারের সাথে পরিচিত তারা জানেন কলোনীতে বড় ভাই আর ছোট ভাইদের গ্রুপ থাকে। এবং ব্যাপারটা খুব টনটনে। বড় ভাইদের গ্রুপ যে পথে হাঁটে ছোটরা সে পথ মাড়ায় না। বড় ভাইরা খেলতে এলে ছোটদের গ্রুপ মাঠ ছেড়ে দেয়। আবার বড় ভাইদের যেসব পছন্দ থাকে বিশেষ করে হৃদয়ঘটিত সেসব দিকে ছোটরা চোখ তুলেও তাকায় না। একমাত্র এই কারণেই আমাদের অনেক সুন্দরী সহপাঠির দিকে আমরা তাকাতামই না। কারণ কোনও এক বড় ভাইয়ের পছন্দ। বড় ভাইদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেয়া নীতিতে বিশ্বাসী আমরা এভাবেই মাঠ ছেড়ে দিয়ে দিয়ে বড় হয়েছি। আবার আমরা যখন বড় হয়েছি তখন সেই সুফল আমরাও ভোগ করেছি একইভাবে। এটাই কলোনী কালচার। ব্যাপারটা অলিখিত হলেও ধারাবাহিকতায় কোনও ছেদ ছিল না। বড় ভাই মানেই বাড়তি সুযোগ বাড়তি ছাড়।

আমাদের সেই অলিখিত ছন্দের প্রথম ছন্দপতনের নাম শ্রীদেবী।

যুগটা ছিল ভিসিআর-এর। ডিস তখনও মাথাচাড়া দেইনি। তবে বলিউডে ততদিনে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছেন শ্রীদেবী নামের এক রূপালী জোছনা। বড় ভাইরা সুযোগ পেলেই ভিসিআর ভাড়া করে হিন্দি ছবি দেখে। আর হিন্দি ছবি মানেই অবধারিতভাবে শ্রীদেবী। বড় ভাইরা দলবেঁধে শ্রীদেবীর ছবি দেখে আর আহা! আহা! করেন। তাদের কারও কারও ঘরে শ্রীদেবীর পোস্টার ঢুকে গেছে ততদিনে। আমরা পর্দার শ্রীদেবীকে পোস্টারে দেখি। আর বড় ভাইদের মুখের উহ! আহ! শুনে ‘পর্দার স্বাদ পোস্টারে’ মেটাই। কারণ তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ভিসিআর তখনও আমাদের কাছে ‘মগডালের পাকা আম’। ইচ্ছে করলেই ছুঁতে পারি না।। গাছেও উঠতে পারি না।

বিজ্ঞাপন

তবে বিশেষ পার্বনের মতো হঠাৎ হঠাৎ আমাদের জীবনেও ভিসিআর আসতো। আমরাও একটা ‘গীতমালা’র সাথে দুটো শ্রীদেবীর ছবির ক্যাসেট নিয়ে বন্ধুর ফাঁকা বাসায় মধ্য দুপুরের স্বাধীনতা উপভোগ করেছি। একই সঙ্গে আবিস্কার করি বড় ভাইদের শ্রীদেবী সংক্রান্ত উহ! আহা! মিথ্যে নয়। এবং সেই প্রথম বড় ভাইদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেবার ব্যাপারে আমাদের মধ্যে দারুণ অনীহা তৈরি হয়। শুরু হয় চাপা ফিসফাস। বড় ভাইদের স্বপ্নের নায়িকা ঢুকে যায় আমাদের স্বপ্নেও।
আমরা গোপণে সিদ্ধান্ত নেই, নাহ, এই বিষয়ে অন্তত কোনও ছাড় চলে না। বড় ভাইদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমরা হয়তো ঘরের দেয়ালে পোস্টার লাগাতে পারি না। কিন্তু শ্রীদেবীর ভিউকার্ড ঠিকই চলে আসে আমাদের পড়ার টেবিলের ছোট্ট ড্রয়ারে। আমরা শ্রীদেবীর ভিউকার্ড জমাই আর জমাই টিফিনের টাকা, পরবর্তী মধ্য দুপুরের স্বাধীনতার আশায়। সেই কৈশোরেই শ্রীদেবী আমাদের শিখিয়ে দেয় ভালোলাগার ব্যপারে কোনও ছাড় নয়।

এরপর অনেক সময় যায়। যায় দীর্ঘ বছর আর যুগ।

অদ্ভুত ভাললাগা নিয়ে আমরা বড় হয়ে উঠি। কিন্তু শ্রীদেবী বড় হন না। তিনি রয়ে যান সেই আগের মতোই। আশির দশকের রুপোলি ফিতায় যেই শ্রীদেবীকে পাওয়া যায় এত এত বছর পরে এসেও বাস্তবের শ্রীদেবীও যেন অনেকটা তাই। একই রকমভাবে স্বপ্ন দেখাতে পারেন তিনি। যে কারণে কয়েকটি প্রজন্ম একই রকমভাবে শ্রীদেবীতে বুঁদ।

সেই শ্রীদেবীর চলে যাবার খবর এখন তিন দিনের বাসি। স্বপ্নের শহর দুবাইয়ে হঠাৎ-ই মারা গেলেন স্বপ্নের এই নায়িকা। তবে মৃত্যুতেও যেন রেখে গেলেন রহস্য। অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করা এই গ্ল্যামার কুইনের শেষটা হলো অনেকটা ছবির কাহিনীর মতো। গণমাধ্যমের খবর বলছে, পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া শেষে একাই দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন শ্রীদেবী। সঙ্গে থাকা স্বামী বনি কাপুর আর সন্তান খুশি ফিরে এসেছিলেন মুম্বাইয়ে। কিন্তু দু’দিন বাদেই স্ত্রীকে সারপ্রাইজ দিতে দুবাই ফিরে যান বনি কাপুর। কিন্তু তাদের সেই ব্যক্তিগত সারপ্রাইজ যে শেষ পর্যন্ত এতবড় বিস্ময় হয়ে ধরা দেবে সকলের কাছে, কে জানতো!

শ্রীদেবী ভক্তরা বিস্ময়ে বিমূঢ়। প্রথমে মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক বলা হলেও এখন জল গড়িয়েছে বাথটাব পর্যন্ত। ফরেনসিক রিপোর্ট জানাচ্ছে, শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়েছে বাথটাবের পানিতে ডুবে!

এ যেন সিনেমার কাহিনী। বাথটাবের হাঁটু জলে ডুবে মারা গেলেন পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চির আস্ত একজন মানুষ! শুরুর সারপ্রাইজ তাই রূপ নিয়েছে সাসপেন্সে। ‘জল’ বোধহয় গড়াবে আরও অনেক দূর। যার আঁচও মিলছে। ইতিমধ্যে মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের সংশ্লিষ্টতার আশংকা করছেন কেউ কেউ। আর মানেই তো অস্বাভাবিকতা।

মৃত্যুর মাধ্যমে যেন এক নতুন কাহিনী রেখে গেলেন শ্রীদেবী। যে কাহিনী সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়।

সারাবাংলা/পিএম/এমএম

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন