বিজ্ঞাপন

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকটের দায় ধনীদের: গবেষণা

মার্চ ১৭, ২০২০ | ৪:৪৬ অপরাহ্ণ

পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিডসের পক্ষ থেকে ৮৬ দেশের ব্যাপারে গবেষণা করে জানানো হয়েছে, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকটের দায় প্রাথমিকভাবে ধনীদের। সোমবার (১৬ মার্চ) এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।

বিজ্ঞাপন

ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, সম্পদ তালিকার শীর্ষ ১০ জন ওই তালিকার একেবারে তলানীতে থাকা ১০ জনের তুলনায় ২০ গুণ বেশী জ্বালানি ব্যবহার করেন। এছাড়াও, পণ্য পরিবহনের কাজে বহুল ব্যবহৃত উপসাগরীয় রুটের শীর্ষ দশ পরিবহনকারী অন্যান্যদের তুলনায় ১৮৭ গুণ জ্বালানি ব্যবহার করে থাকে বলে গবেষকরা বিবিসিকে জানিয়েছেন।

এদিকে গবেষকরা জানান, বিশ্বের যে কোনো দেশেই যারা ধনী হয়ে ওঠেন তারা স্বভাবতই জ্বালানির ব্যবহার বেশী করেন। অপরদিকে, যারা নিম্নআয়ের মানুষ তারা গণপরিবহন ব্যবহার করেন। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তারা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের সামর্থ্যই অর্জন করেন না।

বিজ্ঞাপন

গবেষকরা বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেন, যদি এখনই গৃহস্থালী ও পরিবহন খাতে জ্বালানি অপব্যবহার রুখতে কোনো দৃশ্যমান নীতি নির্ধারিত না হয়। তাহলে, ২০৫০ সালের মধ্যে এই জ্বলানি ব্যবহারের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

এই প্রথমবারের মতো এ ধরনের একটি গবেষণা চালানো হয়েছে দাবি করে গবেষকরা বিবিসিকে বলেছেন, তারা প্রাথমিকভাবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বিভিন্ন আয়ের মানুষের খরচের ধরন বিষয়ক তথ্য নিয়েছেন। তার ভিত্তিতে দেখা গেছে,  সম্পদের তালিকায় শীর্ষ ১০ ভোক্তাই বছরে মোট ব্যবহৃত জ্বালানির অর্ধেক ব্যবহার করে থাকেন। আগের একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছিল ১৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যের নাগরিক বিশ্বের মোট ফ্লাইটের ৭০ শতাংশ ব্যবহার করে থাকেন। যদিও ৫৭ শতাংশ যুক্তরাজ্যের নাগরিক তাদের জীবদ্দশায় কখনও বিদেশে ভ্রমণের সুযোগই পান না। নতুন ফলাফল আগের গবেষণার সিদ্ধান্তকে আরও জোরাল করেছে।

ইউনিভার্সিটি অব লিডসের ওই গবেষণা প্রকাশ করেছে ন্যাচার এনার্জি নামের একটি জার্নাল। ওই গবেষণায় দেখানো হয়েছে, পৃথিবীতে রান্না ও তাপ সৃষ্টিতে সমান পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

অপরদিকে, এই গবেষণার সহ-রচিয়তা জুলিয়া স্টেইনবার্জার এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের ব্যাপারে বিবিসিকে জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে গণপরিবহন সুবিধা বাড়ানো, ব্যক্তিগত বিলাসবহুল পরিবহনের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ এবং যারা নিয়মিত ছুটি কাটাতে যান, তাদের শুল্ক বাড়িয়ে জ্বালানি অপচয়ে নিরুৎসাহিত করা যেতে পারে।

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন