বিজ্ঞাপন

স্কুল বন্ধ, ব্যাট-বল নিয়ে মাঠে স্কুল পড়ুয়ারা

March 17, 2020 | 10:21 pm

জাহিদ-ই-হাসান, স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা কমাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা দেওয়ার একদিন পেরুতে না পেরুতেই স্কুল পড়ুয়াদের মাঠে নেমে খেলতে দেখা যাচ্ছে। জনসমাগম এড়িয়ে অতি প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে না যাওয়ার জন্য সরকারের নির্দেশনা গায়ে না মেখেই পরেরদিন থেকে ব্যাট-বল হাতে মাঠে নেমে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। স্কুল পড়ুয়াদের বেশিরভাগই স্কুল বন্ধের কারণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি।

করোনার সংক্রমণ কমাতে এসময় জনসমাগম এড়িয়ে বাসায় থাকার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সংক্রমণ এড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুলে থাকছি না মানে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে থাকতে হবে। বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। স্কুল বন্ধ বলে পার্কে গেলাম, ঘুরতে গেলাম, আত্মীয়-স্বজনের বাসায় গেলাম। সেটির ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। এ সব করা যাবে না। বাড়ির বাইরে শিক্ষার্থীরা বের হতে পারবে না।’

বিজ্ঞাপন

তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মাঠে স্কুলপড়ুয়ারা ব্যাট-বল নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কৃত্রিম টার্ফের মাঠজুড়ে শতাধিক স্কুল পড়ুয়া ফুটবল নিয়ে নেমে পড়েছে। এছাড়াও পল্টনস্থ মাঠেও স্কুল পড়ুয়াদের ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়। এসময় করমর্দনসহ খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরেও উল্লাস করতে দেখা গেছে।

স্কুল পড়ুয়াদের কাছে স্কুল বন্ধের কারণ জানতে চাইলে বেশিরভাগই কারণ সম্পর্কে খুব একটা ওয়াকিবহাল নয় বলে জানা গেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পদ্ধতি নিয়েও সতর্কতা-সচেতনা নেই তাদের মাঝে। অনেকেই বিশ্বে মহামারী ধারণকারী এই ভাইরাসকে ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপরে ছেড়ে দিয়েছেন, কেউ কেউ ছুটিতে খেলার টানেই মাঠে চলে এসেছেন। আবার অনেকের কাছে ভাইরাস সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণাও বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে আরামবাগ এলাকার আরাফাত হোসেন নামের এক স্কুল পড়ুয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘যে কারণেই হোক স্কুল বন্ধ হয়েছে। তাই মাঠে চলে এসেছি।’ টিঅ্যান্ডটি এলাকার শিব্বির নামে এক স্কুল পড়ুয়ার কথায় বুঝতে বাকি নেই করোনাভাইরাস নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে তার, জানায়, ‘২৫ ডিগ্রির ওপরে তাপমাত্রা থাকলে করোনাভাইরাস আক্রমণ করে না। তাই বেরিয়েছি।’

শফিক নামের এক স্কুল পড়ুয়ার কাছে সচেতনার থেকে ধর্মীয় বিশ্বাসটাই মুখ্য হয়ে উঠেছে, ‘আল্লাহ আছেন উপরে। এসব নিয়ে চিন্তা নাই। তিনি আমাদের বাঁচাবেন।’ অনেকেই আবার ভাইরাস সম্পর্কে জেনেও খেলার টানের মাঠে এসেছেন। তারিক নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘জনসমাগত হলে এটা ছড়াতে পারে। তারপরেও ছুটি পেয়েছি। খেলতে ভালো লাগে তাই মাঠে চলে এসেছি।’

বিজ্ঞাপন

স্কুল পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে পরিলক্ষিত হয়- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে কারণে বন্ধ করা হয়েছে সেই জনসমাগম এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই স্কুল বন্ধের মূল কারণ সম্পর্কে অবগত নয়। এমন হতে থাকলে সংক্রমণ ভয়াবহতা রূপ নিতে খুব দেরি হবে। ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে সরকারের দিক-নির্দেশনা মেনে দুই সপ্তাহ বাসার বাইরে না যাওয়াটাই হবে সবচেয়ে উপযোগী প্রদক্ষেপ।

সারাবাংলা/জেএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন