বিজ্ঞাপন

ঢামেকে কানাডাফেরত তরুণীর মৃত্যু, করোনা সন্দেহে অবহেলার অভিযোগ

March 15, 2020 | 11:39 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত সন্দেহে চিকিৎসা অবহেলায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কানাডাফেরত নাজমা আমিন (২৪) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি কানাডায় গিয়েছিলেন উচ্চ শিক্ষার জন্য।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল জটিলতায় ঢামেক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নাজমার পরিবারের সদস্যদের দাবি, করোনভাইরাস ছিল বলে সন্দেহ থেকে ডাক্তার-নার্সরা আতঙ্কে চিকিৎসায় অবহেলা করেন। এ কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

নাজমা আমিন ছিলেন কানাডার সাসকাচোয়ানের রেজিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শিক্ষার্থী। তিনি গত সোমবার (৯মার্চ) ঢাকায় ফিরে এসে পেটের ব্যথার কথা পরিবারকে জানান।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ করে তরুণীর বাবা আমিন উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, আমার মেয়ে কানাডাফেরত শুনেই তিন-চার জন ডিউটিরত নার্স ‘করোনা করোনা’ বলে আওয়াজ তোলেন। ওয়ার্ডে শুরু হয় ছোটাছুটি। তার করোনা টেস্ট করা হয়। রিপোর্ট আসার আগে কেউ তার সামনে আসেনি। আমার সামনে মেয়েটা দুপুর ১টার দিকে মারা গেছে। বিকেল ৫টায় যখন আইইডিসিআরের রিপোর্টে তার করোনা নেগেটিভ পাওয়া যায়, তখন তার মরদেহ আমাদের দেওয়া হয়।

এর আগে, শনিবার (১৪ মার্চ) ভোর ৬টায় ঢামেকে আনা হয় নাজমাকে। ঢামেকে সার্জারি বিভাগের ২১৯ নম্বর ওয়ার্ডে অধ্যাপক ডা. এ বি এম জামালের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ বি এম জামাল জানান, যখন জানা গেল মেয়েটি কানাডা থেকে এসেছে, জ্বর-কাশি আর শ্বাসকষ্ট ছিল, তখন ওয়ার্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নার্সরাও প্যানিক (আতঙ্কিত) ছিল। পাশাপাশি ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের স্বজনরাও সেখানে ছোটাছুটি শুরু করেন। এরপর আমরা ডিরেক্টর স্যারকে বিষয়টি জানালে তিনি আইইডিসিআরে ফোন দিয়ে দ্রুত কনসালটেন্ট এনে স্যাম্পল (নমুনা) নিতে বলেন। তারা র‌্যাপিড টেস্ট করিয়ে রেজাল্ট দেয়। রেজাল্ট নেগেটিভ ছিল, অর্থাৎ তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন না। তবে রেজাল্ট আসার আগেই তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নাজমা খেতে পারছিলেন না। প্রতিবার খাওয়ার সময় তার বমি ভাব হয়েছে বা পেটে ভীষণ ব্যথা হয়েছে। ১৩ মার্চ রাতে অসহনীয় ব্যথা হওয়ায় তাকে নেওয়া হয় বাড়ির কাছে মোহাম্মদপুরের একটি হাসপাতালে।

বিজ্ঞাপন

আইসিইউ (ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট) বেড খালি আছে এমন কোনো হাসপাতাল খুঁজে পাচ্ছিলেন না জানিয়ে নাজমার বাবা আমিন উল্লাহ বলেন, হাসপাতাল থেকে বলা হয় তাকে দ্রুত আইসিইউয়ে নেওয়া দরকার। তখন অনেক রাত। পরে নাজমাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি ওয়ার্ডে ভর্তি করে স্যালাইন, অক্সিজেন ও ওষুধ দেওয়া হলে তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করেন।

আমিন উল্লাহ বলেন, তার ব্যথাও কিছুটা কমেছিল। সকালে নার্সদের শিফট বদল হয়। নতুন শিফটের একজন নার্স নাজমার সমস্যা জানতে চান। এসময় নাজমা কানাডা থেকে এসেছে বলতেই তারা তাকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মনে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরপর আর কেউ নাজমার কাছে আসেনি।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ স্টোর) ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, করোনাভাইরাস সতর্কতা হিসাবে হাসপাতাল আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। বহির্বিভাগসহ জরুরি বিভাগে আলাদা ব্যাবস্থা করা হয়েছে।

ডা. আলাউদ্দিন আরও বলেন, জ্বর-ঠান্ডা-কাশি নিয়ে যারা চিকিৎসার জন্য আসবে, তাদের আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হবে। যদি দেখা যায় করোনাভাইরাসের সিমটম তাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তখনই দ্রুত আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারিভাবে নির্ধারিত আলাদা হাসপাতালে পাঠানো হবে।

সারাবাংলা /এসএসআর/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন