বিজ্ঞাপন

করোনা নিয়ে গুজব, যুবদল নেতা আটক

মার্চ ২১, ২০২০ | ৬:৩৪ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে এক চিকিৎসককে আটক করেছে পুলিশ। ওই চিকিৎসক চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে নগরীর ও আর নিজাম রোডের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ডা. ইফতেখার মোহাম্মদ আদনান চট্টগ্রাম নগরীর ও আর নিজাম রোডে বেসরকারি ক্লিনিক মেডিকেল সেন্টারে কর্মরত আছেন।

বিজ্ঞাপন

ওসি আবুল কাশেম ভূঁইয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে বলে একটি ভূয়া তথ্য অডিওবার্তার মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ম্যাসেঞ্জারে ছড়িয়ে দেন ইফতেখার। সেটি জনমনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে এবং মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। গুজব ছড়ানোর দায়ে ইফতেখারকে শনাক্ত করে আমরা আটক করেছি।’

এদিকে সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) বিজয় কুমার বসাক জানান, ৩৫ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছবি দিয়ে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ভাইরাল করা হয়েছিল। আটকের পর আদনান জানিয়েছেন, তিনি নিজেই অডিওটি তৈরি করেন। কণ্ঠও তার নিজের। এরপর তিনি সেটি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত তার ভাইয়ের ম্যাসেঞ্জারে পাঠান। পরে সেটি ছড়িয়ে পড়ে।

মালয়েশিয়া থেকে গুজবের অডিও ক্লিপটি ছড়ানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি। সঙ্গত কারণে অনেক যৌক্তিক প্রশ্নের উত্তর আমরা এই মুহুর্তে দিতে পারছি না। অডিও ক্লিপটি দেশে এবং বিদেশ থেকে লাখ লাখ শেয়ার হয়েছে। যারা এটা করেছেন, জেনেবুঝে হোক কিংবা না জেনে হোক, সবাইকে আমরা আইনের আওতায় আনব।’

বিজয় কুমার বসাক আরও বলেন, ‘অডিও বার্তায় আদনান সরকারের বিরুদ্ধে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু নিয়ে তথ্যগোপনের মতো গুরুতর অভিযোগ করেছে, যা পুরোপুরি মিথ্যা। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উৎকন্ঠা সৃষ্টি হয়, এমন কথাবার্তা সেখানে শোনা গেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) শ্যামল কান্তি নাথ জানান, ইউনিভার্সিটি অব সাইয়েন্স এন্ড টেকনোলজি, চট্টগ্রাম (ইউএসটিসি) থেকে এমবিবিএস পাশ করে আদনান বর্তমানে আবুল খায়ের গ্রুপে এবং বেসরকারি মেডিকেল সেন্টারে চাকরি করছে। যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে আদনান সম্পৃক্ত। মহানগর যুবদলের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে আছেন। আটকের পর তিনি জানিয়েছেন, গুজব ছড়িয়ে জনমনে ভীতি তৈরি করে সরকারকে বিব্রত করতে এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েই তিনি অডিও বার্তাটি তৈরি করেন।

নগর পুলিশের উত্তর জোন ও পাঁচলাইশ থানা পুলিশ এবং নগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেছেন বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান ও আশিকুর রহমান, নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) আসিফ মহিউদ্দীন, পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার দেবদূত মজুমদার এবং পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া ছিলেন।

সারাবাংলা/আরডি/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন