বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর ডাক পেলেন কোভিড-১৯’র টেস্ট উদ্ভাবক ড. বিজন কুমার

মার্চ ২২, ২০২০ | ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

আসাদ জামান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) দ্রুত ও সহজ টেস্ট পদ্ধতির উদ্ভাবক বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীলের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাকে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (২২ মার্চ) বিকেলেই তার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে এদিন তাদের সাক্ষাত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ড. বিজন কুমারকে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরই দুজনের সাক্ষাত হবে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় সারাবাংলাকে এসব তথ্য জানান ড. বিজন কুমার শীল নিজেই। মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডেকেছিলেন। আজ আমার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওখান (প্রধানমন্ত্রীর দফতর) থেকেই আবার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই আমাদের আবার জানানো হবে।’

‘উনি (প্রধানমন্ত্রী) ব্যস্ত মানুষ। সে কারণেই হয়ত সাক্ষাতের দিনক্ষণ পরিবর্তন করা হয়েছে’— বলেন ড. বিজন কুমার শীল।

বিজ্ঞাপন

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ সম্পর্কে জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় সারাবাংলাকে বলেন, ‘একটা জিনিস পেলেই আমরা সবাই অন্যদিকে নিয়ে যাই। এখানে ব্যক্তিপূজা তো মুখ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী তো কেবল ড. বিজন কুমার শীলকে ডাকতে পারেন না। পুরো একটা টিম কাজটি সম্পন্ন করেছে। ডাকলে তো সবাইকে ডাকতে হবে। তাছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র তো একটা প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে কাউকে নিতে হলে তো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এখন পর্যন্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাছে লিখিত কোনো আমন্ত্রণ আসেনি।’

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ড. বিজন কুমার শীল নোভেল (কোভিড-১৯) পরীক্ষার যে দ্রুত পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন সেটা বাস্তবায়নের জন্য রিএজেন্ট আমদানির অনুমোদনের ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগেই করেছেন।

যেহেতু ড. বিজন কুমার শীলের বর্তমান কর্মস্থল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। সেহেতু একটি মহল বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল, যাতে রিএজেন্টগুলো তারা আমদানি করতে না পারে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টির প্রতি নজর রেখে ওই রিএজেন্ট আমদানির অনুমতির ব্যবস্থা করেন। শুধু এই অনুমতি দিয়েই তিনি বসে থাকেননি। করোনাভাইরাসের দুর্যোগ মোকাবিলায় ড. বিজনকে আরও কত বেশি কাজে লাগানো যায় সেজন্য তাকে ডেকেছেন।

সাধারণ ঘর থেকে উঠে আসা ড. বিজন কুমার শীল বারবার দেশকে কিছু না কিছু দেওয়ার চেষ্টা করছেন। নব্বইয়ের দশকে ব্ল্যাক গোটের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেন তিনি। সেটা প্যাটেন্ট করতে পারলে চা রফতানি করে যে অর্থ আসে, তার চেয়ে দ্বিগুণ আয় করতে পারত বাংলাদেশ— এমনটিই ধারণা সংশ্লিষ্টদের। ড. বিজন ডেঙ্গুর কুইক টেস্টও উদ্ভাবন করেছিলেন। সিঙ্গাপুরে গিয়ে তিনি সার্সের কুইক টেস্ট উদ্ভাবন করেন, যা চীন প্যাটেন্ট করে। বর্তমানের এই মহাদুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. বিজনকে নিজ উদ্যোগে খুঁজে নিয়ে কাজে লাগাতে যাচ্ছেন— ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় ফোন দিলে সারাবাংলাকে ড. বিজন কুমার শীল বলেন, ‘আমি এখন ল্যাবে আছি। বেশি কথা বলতে পারব না। আমাদের মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন