বিজ্ঞাপন

সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে চান নাঈম

মার্চ ২৩, ২০২০ | ৪:১৯ অপরাহ্ণ

মহিবুর রহমান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

মানুষটা ছোট। মানে বয়সের কথা বলছি, মাত্র ২০ বছর। কিন্তু তার ব্যাটিং দেখে তা একদমই বোঝার উপায় নেই। দাপুটে ব্যাটে মুহূর্তেই শত্রুর বোলিং লাইন আপ গুঁড়িয়ে দেন! স্ট্রেইট ড্রাইভ, স্লগ সুইপের পসরা সাজিয়ে হয়ে উঠেন বোলারদের ত্রাস। উইকেটে নেমে সেট হতেও খুব বেশি সময় নেন না। এতটুকু মানুষ কিন্তু চকিতেই দলের পরিস্থিতি বুঝে যান! বুঝতে পারেন দলের চাওয়াও। তাতে টিম ম্যানেজমেন্টও তার ওপর ভিত্তি করে অগাধ সাহস পান। আর তাতেই নাঈম শেখ হয়ে উঠেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের রঙিন পোশাকের নিয়মিত মুখ।

বিজ্ঞাপন

সবশেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি বাদ দিলে তার অভিষেকের পর বাংলাদেশ যতগুলো টি-টোয়েন্টি খেলেছে তার প্রতিটিতেই সেরা একাদশে ছিলেন বাঁ হাতি এই ‘হিটম্যান’। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিলেটে হয়েছে তার ওয়ানডে অভিষেক। ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক’ মাশরাফির অধিনায়ক হিসেবে শেষ ওই সিরিজের শেষ ম্যাচে ওয়ানডে ক্যাপ ওঠে নাঈমের মাথায়। যদিও ওই ম্যাচে তার ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি।

মজার ব্যাপার হল, টি-টোয়েন্টি অভিষেকে অবশ্য আলো ছড়াতে পারেননি নাঈম। গেল বছরের নভেম্বর দিল্লিতে ক্রিকেট পরাশক্তি ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২৮ বল খেলে ২৬ রানেই ফিরতে হয়েছিল অভিজ্ঞ যুজবিন্দ্র চাহালের ঘূর্ণি যাদুতে পরাস্ত হয়ে। এরপর অবশ্য আর পেছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। ক্রমাগতেই নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন। রাজকোটে দ্বিতীয় ম্যাচে ৩১ বল থেকে সংগ্রহ করলেন ৩৬ রান। শেষ ম্যাচে তো তার ব্যাট আরো ক্ষুরধার। ৪৮ বলে খেলে দিলেন ৮১ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। তাতে নাগপুরের ওই ভেুন্যতে জয়ানন্দে মাতোয়ারা স্বাগতিক গ্যালারিতে নেমে এসেছিল শ্মশানের নীরবতা। সারি সারি স্তব্ধ মুখ যেন তাকে অভিসম্পাত করে বলছিল -এই পুঁচকে ছেলে, ফিরে যাও।

বিজ্ঞাপন

সেই অভিসম্পাতেই বোধ হয়, ১৯ রান দূরে থেকে ক্যারিয়ারের প্রথম জাদুকরী তিন সংখ্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বাংলাদেশের এই তরুণ টপ অর্ডার সেনশেসন। রোহিতদের কী প্রবল ঝাঁকুনিটাই না দিয়েছিলেন নাঈম। নিজেদের মাঠে ১৭৫ রান করেও তার রান তুবড়িতে এক মুহূর্তের জন্য স্বস্তিতে ছিল না আয়োজক দলটি।

সেই নাঈমের সঙ্গে সারাবাংলা কথা বলেছে। জানতে চেয়েছে তার ছোট্ট ক্যারিয়ারের আদ্যোপান্ত ও ভবিষ্যৎ। আদ্যোপান্ত যেহেতু লম্বা সেহেতু আগে তার ভবিষ্যৎ স্বপ্নটা জানিয়ে রাখছি। এদেশের ক্রিকেটকে রান বন্যায় ভাসাতে চান তরুণ এই টপ অর্ডার। তামিম, সাকিব ও মুশফিককে ছাপিয়ে হতে চান লাল সবুজের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

সারাবাংলার সঙ্গে তিনি কথাগুলো বলেছেন মুঠোফোনে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়ায় সব ধরণের ক্রিকেট স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি। ফলে নাঈমের ছুটি মিলেছে। ডিপিএলে এবারের আবাহনীর হয়ে খেলা এই উইলোবাজ ব্যাটসম্যান এই মুহূর্তে নিজ শহর ফরিদপুরে। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যেভাবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে তাতে ছুটি আর কাটাতে পারছেন কই? ঘরে বসেই কাটছে অস্বস্তির সময়।

না, অস্বস্তির কথা তিনি মুখ ফুটে বলেননি। কিন্তু তার কথাবার্তা ও যাপিত জীবনে তা ছিল স্পষ্ট।

তার যে বয়স ও তারকাখ্যাতি তা জন্মস্থানে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ঘরে থাকার নয়। বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর কথা। যা কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস। ছুটি পাওয়া সত্ত্বেও বাসার চার দেওয়ালের মাঝে প্রাণঘাতী ব্যধিটির সঙ্গে চলছে তার হাইড অ্যান্ড সিক খেলা। সারাবাংলার সঙ্গে যখন কথা বলছিলেন মনটা বেশ ভারী ছিল।

ভারী মন নিয়েই কথা বললেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বপ্নবাজ এই তরুণ।

সারাবাংলা: ক্রিকেটের শুরুটা কিভাবে?

নাঈম শেখ: আমার জন্ম ফরিদপুরে। কিন্তু ক্লাস থ্রি থেকে সিক্স পর্যন্ত নানা বাড়ি বরিশালে থেকেছি। ক্লাস ফাইভে যখন পড়ি তখন থেকেই ক্রিকেট বল নিয়ে টুকটাক অনুশীলন করি। কিন্তু পড়াশোনার ব্যস্ততায় পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারিনি। আব্বা-আম্মাও ক্রিকেট পছন্দ করতেন না। নানা বাড়ি থেকে ক্লাস সেভেনে এসে আবার ফরিদপুরে ভর্তি হই। এসএসসি পরীক্ষা শেষে ভর্তি হই ফরিদপুর ক্রিকেট একাডেমিতে সেখান থেকেই মূলত শুরু।

সারাবাংলা: মানে আপনি জেলা ক্রিকেট খেলে এসেছেন তাই তো?

নাঈম শেখ: জ্বি, অনূর্ধ্ব-১৯ দলে এসেছি অনূর্ধ্ব-১৮ জেলা ক্রিকেট খেলে। ওখানে ভাল খেলেছি তারপরে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে আসা। চ্যালেঞ্জ কাপের সিরিজটা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তো ওইখানে ভাল করাতেই আমি অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। এখানে আসার পর প্রতিটি ম্যাচই ভাল খেলেছি। কখনো গড়ে ৩০ এর নিচে খেলিনি। মাঝে মধ্যে বেশিও ছিল। যতদিন ১৯ এ খেলেছি নিজের জন্য যেমন দলের জন্যও ভাল খেলার চেষ্টা করেছি। জেলা পর্যায়ে অনেক ভাল খেলেছি। জেলা, বিভাগ ও চ্যালেঞ্জ সিরিজে ভাল খেলেই আমার অনূর্ধ্ব ১৯ দলে আসা।

সারাবাংলা: জাতীয় দলে এলেন কী করে ?

নাঈম শেখ: অনূর্ধ্ব-১৯ দলে আমি আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতাম। তবে আমি মনে করি ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সই আমাকে জাতীয় দলে আসতে সাহায্য করেছে। গেল মৌসুমের আগের মৌসুমে প্রথম যখন প্রিমিয়ার লিগে খেলি তখন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে রান সংগ্রাহকের তালিকায় দশ নম্বরে ছিলাম। ১২ ম্যাচে রান ছিল ৫৫৬। দ্বিতীয়বারের লিগে আমি ৮০৭ রান করি। এর মধ্যে ‘এ’ দলে প্রায় ১৫টির মত ম্যাচ খেলেছি। সেখানেও ভাল খেলেছি। প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ প্লাস ছিল আমার গড়। স্ট্রাইক রেটও ভাল ছিল। আমি মনে করি এই পারফরম্যান্সই আমাকে জাতীয় দলে জায়গা করে দিয়েছে।

সারাবাংলা: তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের সঙ্গে ওপেন করেছেন, কার সঙ্গে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?

নাঈম শেখ: ওপেনিংয়ে দুই জনের সঙ্গেই স্বাচ্ছন্দ্য। ব্যাটিংয়ের সময় দুজনই সাহায্য করে।

সারাবাংলা: টি-টোয়ন্টিতে আপনার স্ট্রাইক রেট ১২০ এর কাছাকাছি (১১৯.৬৭)। বাড়ানোর কোন ভাবনা আছে?

নাঈম শেখ: ১১৯.৬৭ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করছি। তো ইচ্ছে আছে ১৩০ এর ওপরে সবসময় রাখা। যত বেশি সম্ভব রাখব। কিন্তু এর নিচে না। কম স্ট্রাইকে খেলা আমার পছন্দ না। কিন্তু দলের স্বার্থে আমি খেলছি। তাছাড়া আমি যেহেতু নতুন বলে ভাল করতে চাই দুই তিনটা বল বেশি খেললেও বোধ হয় সমস্যা নেই।

সারাবাংলা: ওপেনার হিসেবে বাংলাদেশ ইনিংসের টিউন আপনার হাতেই হয়ে থাকে। তো টি-টোয়েন্টি ফর্মেটে একজন ওপেনারের ভাল স্ট্রাইক রেট থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়?

নাঈম শেখ: ওপেনার হিসেবে স্ট্রাইক রেট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে স্ট্রাইক রেট উইকেটের ওপর নির্ভর করে। আবার দলের পরিস্থিতি ও চাহিদাও বুঝতে হয়। মূলত এগুলোর ওপরেই স্ট্রাইক রেট নির্ভর করে। তবে উইকেট যেমনই হোক ভাল খেললে স্ট্রাইকে রেট ভালই থাকে।

সারাবাংলা: আপনার প্রিয় ভেন্যু কেনটি এবং কেন?

নাঈম শেখ: প্রিয় ভেন্যু মিরপুর। যেহেতু দেশের বাইরে খুব একটা খেলিনি। শুধুই ভারত-পাকিস্তানে খেলেছি। তবে মিরপুরের উইকেটই আমার কাছে প্রিয়। কেননা এখানে আমার সবচেয়ে সংগ্রাম করা ম্যাচ খেলেছি। আবার সবচেয়ে ভাল ম্যাচও খেলেছি।

সারাবাংলা: কোন বলের খেলা বেশি উপভোগ করেন?

নাঈম শেখ: সব বলের খেলাই আমি উপভোগ করি। সেটা লাল হোক বা সাদা।

সারাবাংলা: টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে কী ভাবছেন?

নাঈম শেখ: টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আপাতত ভাবছি না। সাদা বলের খেলায় ফোকাস করছি।

সারাবাংলা: ভারতের বিপক্ষে ৮১ রানের ওই ইনিংসটি নিয়ে কিছু বলুন।

নাঈম শেখ: ৮১ রানের ওই ইনিংসটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলতে চাই না। ওটা দলের জন্য আমার ভাল একটি ইনিংস ছিল। এরকম ইনিংস ঘরোয়া ক্রিকেটে আমি আরো খেলেছি। বাকি আট দশটা ইনিংসের মতোই ওটা। হয়ত ওইগুলো মানুষর সামনে হয়নি এটা হয়েছে।

সারাবাংলা: সম্প্রতি আপনারা বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার জাতীয় দলে এসেছেন। ড্রেসিংরুমে আপনাদের ঘিরে পরিবেশটা কেমন থাকে? মানে সিনিয়রদের আচরণের কথা জানতে চাইছি।

নাঈম শেখ: ড্রেসিংরুমের সিনিয়ররা অনেক হেল্পফুল। এটা নিয়ে বললে হয়ত কম হয়ে যাবে। বিশেষ করে মুশফিক ভাইর কথা বলব। উনি আমাকে অনেক পরামর্শ দেন। ভাল খারাপ পরিস্থিতিগুলো খুব সহজেই বুঝিয়ে দেন। তামিম ভাই, রিয়াদ ভাইও।

সারাবাংলা: অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলা আপনার পাঁচ বন্ধু (আফিফ হোসেন, নাইম হাসান, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, সাইফ হাসান, হাসান মাহমুদ) এক সঙ্গে জাতীয় দলে। অনুভূতিটা কেমন?

নাঈম শেখ: আমি, আফিফ, বিপ্লব এক সাথে অনেক ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছি। হাসান ও ছিল (হাসান মাহমুদ)। খুব ভাল লাগে যে আমরা চার বন্ধু এক সাথে জাতীয় দলেও খেলছি। অন্য রকম একটা অনুভূতি। সেই অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯, ইমার্জিং এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ, এস এ গেমস। এখন আবার জাতীয় দলে। দারুণ লাগে।

সারাবাংলা: পছন্দের ব্যাটিং পজিশন কোনটি?

নাঈম শেখ: টপ অর্ডারেই পছন্দ করি। ওপেনিং।

সারাবাংলা: প্রিয় শট?

নাঈম শেখ: স্ট্রেইট ড্রাইভ।

সারাবাংলা: এসএ গেমসে স্বর্ণ জয়ের অনুভূতিটা কেমন ছিল?

নাঈম শেখ: যেহেতু এর আগে কখনো কোন ধরণের ক্রিকেটে স্বর্ণ জিতিনি সেহেতু এসএ গেমসে স্বর্ণ জয় আমার জন্য অনেক বড় একটা অর্জন।

সারাবাংলা: এই পর্যায়ে আসতে আপনাকে কতখানি কষ্ট করতে হয়েছে?

নাঈম শেখ: কোন কিছু সহজে পেলে তার মর্ম বোঝা যায় না। তাই আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। এরপর পেলে মর্মটা বোঝা যায় এবং সেটকে ধরে রাখতে অনেক চেষ্টা করতে হয়। আজকের আমি অনেক কষ্টের ফল। এটাকে ধরে রাখাটা আমার দায়িত্ব।

সারবাংলা: আপনার ব্যাটিং আইকন কে?

নাঈম শেখ: কুমার সাঙ্গকারা। ওর কাট, পুল, ও ড্রাইভের ওপর নিয়ন্ত্রণ অনেক ভাল। তাই ওকে আমার পছন্দ।

সারাবাংলা: অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি বিন মুর্ত্তজার শেষ ওয়ানডেতে আপনার অভিষেক হল। তার মত একজন আইকনিক অধিনায়কের অধীনে খেলাটা কেমন ছিল?

নাঈম শেখ: মাশরাফি ভাই’র অধীনে খেলতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের এত দিনে যা না শিখেছি আমার মনে হয় ওই তিন দিনে তার চেয়েও বেশি শিখেছি।

সারাবাংলা: যতটুকু জেনেছি আপনার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুতে আপনার বাবা, মা ততটা সমর্থন দেননি। এখন ওনারা নিশ্চয়ই গর্ব বোধ করেন?

নাঈম শেখ: প্রথম দিকে ক্রিকেট ওতটা সমর্থন দেয়নি কিন্তু এখন দেয়। জাতীয় দলে খেলি এজন্য আব্বা-আম্মা অনেক গর্ব বোধ করে।

সারাবাংলা: জাতীয় দলে আসার আগের নাইম ও এই নাইমের মধ্যে পার্থক্য কী?

নাঈম শেখ: আগে আর এখন থেকে খুব একটা পার্থক্য নেই। এখন শুধুই সবাই আমাকে চেনে যে আমি ক্রিকেট খেলি। আগে চিনত, এখনো চেনে। পার্থক্য হল, এখন আগের মত ঘোরাফেরা করা যায় না।

সারাবাংলা: ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

নাঈম শেখ: এদেশের সেরা ব্যাটসম্যান হওয়ার ইচ্ছে আছে।

সারাবাংলা: আপনাকে ধন্যবাদ

নাঈম শেখ: আপনাকেও।

সারাবাংলা/এমআরএফ/আইই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন