বিজ্ঞাপন

যুদ্ধ!

March 23, 2020 | 11:23 pm

আহসান হাবীব

একটা বিদেশি পোস্টার দেখেছিলাম কোথায় যেন, বহু বছর আগে। সেখানে আমাদের নীল পৃথিবীর একটা সত্যিকারের অসাধারণ সুন্দর ছবি ছিল (সম্ভবত স্পেস থেকে তোলা)। তার নিচে ইংরেজিতে ছোট্ট দুইটা লাইন লেখা— ‘লাভ ইট অর লিভ ইট’।

বিজ্ঞাপন

পৃথিবীকে ভালোবাসো, না হলে ত্যাগ করো। আমরা আসলে আমাদের পৃথিবীকে ভালোবাসতে পারিনি। তাই কি ত্যাগ করতে হচ্ছে এখন?... একে একে নিভিছে দেউটি!

মহামারির নানা সব ভয়াবহ ইতিহাস পড়ে আমরা বড় হয়েছি। আর এখন ভয়ংকর এক মহামারি আমরা দেখতে পাচ্ছি চোখের সামনে। এই কিছুদিন আগেও এক দেশ আরেক দেশকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল— আমেরিকা, ইরান, কোরিয়া, সিরিয়া... আর এখন পৃথিবীর বড় বড় ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধানরা মুখ চুন করে বসে আছেন যার যার ঘরে, কোয়ারেনটাইনে। তাদের হাইড্রোজেন বোমা, অ্যাটম বোমা, নিউট্রন বোমা, ড্রোন, মিসাইল— কোনোকিছুই এখন আর কোনো কাজে আসছে না। আরএনএ’র ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটা বল, প্রোটিনের আবরণে ঢাকা কোভিড-১৯— তার কী ক্ষমতা! কোনো হুমকি-ধমকির মধ্যে নাই, আস্তে করে ঢুকে গেছে মানুষের শরীরে... মানুষকে বুঝতেও দেয়নি... তারপর প্যানডেমিক।

বিজ্ঞাপন

সবাই বলছে প্রকৃতি প্রতিশোধ নিচ্ছে। নানা রকম গুজব ছড়াচ্ছে চারদিকে। আর সোস্যাল মিডিয়ার কারণে গুজব ছড়াতে খুব বেশি সময়ও নিচ্ছে না। একটা গুজব দেখলাম এরকম— কোন এক দেশ নাকি বাঘ আর সিংহ ছেড়ে দিয়েছে করোনা আক্রান্ত শহরে! শহরের সবাই সুর সুর করে ঘরে ঢুকে বসে আছে, বাঘ আর সিংহের ভয়ে। একটা ছবিও দিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে— শহরে সিংহ ঘুরে বেড়াচ্ছে। গুজব হলেও বুদ্ধিটা খারাপ না। এমনিতে অনেক শহরে মানুষ ঘরের ভেতরে ঢুকছে না, বাঘ-সিংহের ভয়ে যদি তাও ঢোকে। বিষয়টা গুজব হলেও একটু কল্পনা করা যাক... (আইনস্টাইন বলেছেন, জ্ঞানের চেয়ে কল্পনা জরুরি। অবশ্য তিনি বলে যাননি, গুজবের চেয়ে কল্পনা জরুরি কি না!!!)

... ... ... সেই করোনা আক্রান্ত শহরে সিংহ ঘুরে বেড়াচ্ছে। একটা মানুষও শহরের বাইরে নেই। কিন্তু সিংহ হঠাৎ দেখতে পেল একটা বৃদ্ধ মানুষ বসে আছে রাস্তার ধারে একটা গাছের নিচে। সিংহ জিভ চেটে এগিয়ে গেল তার কাছে। ক্লান্ত-বৃদ্ধ মানুষটি চোখ তুলে তাকাল।

- ‘তোমার কি বাঘ সিংহের ভয় নেই?,’— সিংহ বললো।

- ‘আছে,’— বিড়বিড় করে বললো বৃদ্ধ।

- ‘তাহলে এভাবে বাইরে বসে আছ যে! ঘরে যাওনি কেন অন্যদের মতো?’

- ‘আমার ঘর থাকলে তো যাব!,’— হেসে বললো বৃদ্ধ।

- ‘ওহ!’ সিংহের মনে হয় কিছু মায়া হলো দরিদ্র বৃদ্ধের জন্য, কে জানে। তবু বলে, ‘কিন্তু আমি ক্ষুধার্ত, তোমাকে আমার খেতেই হবে। তার মানে বুঝতে পারছ, তোমার জীবন এখন আমার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে?’

- ‘জানি।’ বৃদ্ধ মৃদু হাসে। দার্শনিকের মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘জীবনকে অত গুরুত্বের সাথে নেওয়ার কিছু নেই। কারণ এই জীবন থেকে আমরা কেউই কোনোদিন জীবিত অবস্থায় বের হতে পারব না।’

কিন্তু না। এই বৃদ্ধের মতো আমরা এখন আর এতটা উদাসীন হতে পারছি না। আমাদের এই অবরুদ্ধ জীবন থেকে বের হতে হবে। কারণ আমরা জানি, একটি দরজা বন্ধ হলেও প্রকৃতির আরেকটি দরজা খুলে যায়। সেই দ্বিতীয় দরজাটি খোলার শব্দ শোনার অপেক্ষায় আছি আমরা, ঘরে বসেই অপেক্ষা করছি। এই ঘরে বসে অপেক্ষাই এখন আমাদের যুদ্ধ...!

২৩ মার্চ, ২০২০

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন