বিজ্ঞাপন

৬ মাসের জন্য মুক্তি খালেদা জিয়ার, থাকতে হবে বাসায়

March 24, 2020 | 4:13 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৪০১ ধারার উপধারা-১ অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে দুই শর্তে ছয় মাসের জন্য মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এই ছয় মাস তাকে নিজের বাসায় থাকতে হবে। তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) গুলশানের বাসভবনে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এক ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় নিয়ে ও মানবিক কারণে সদয় হয়ে দু’টি শর্তে তার দণ্ডাদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা ১ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়ার শর্ত দু’টি হচ্ছে— তিনি ঢাকার নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং এ সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। তবে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে পারবেন। হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধা নেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার জন্য নির্বাহী আদেশে মুক্তি চেয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে এর আগেই সরকারের কাছে একটি আবেদন করা হয়েছিল। এরপর খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার, তার বোন সেলিমা ইসলাম এবং তার বোনের স্বামী রফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং সেখানে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে ও তাকে ঢাকার নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়া এবং এ সময় দেশের বাইরে না যাওয়ার শর্তে মুক্তি দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় মতামত দিয়েছে। এই মতামত সম্পর্কিত নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় তাকে মুক্তি দেওয়ার পর থেকে এটি কার্যকর হবে।

ছয় মাসের মধ্যে প্রয়োজন হলে খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি হতে পারবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে নিশ্চয় যেতে পারবেন। কিন্তু হাসপাতালে যদি ভর্তিই হতে হয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে মানস্মত হাসপাতালে তো তিনি ভর্তি আছেনই। সেখানেই তো তার চিকিৎসা চলছে।

ছয় মাস পরে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না— জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, আগে তো ছয় মাস যাক। তারপর দেখা যাবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালত ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। সেদিনই তাকে কারাগারে নেওয়া হয়। সেই থেকে তিনি কারাবন্দি। এ মামলায় হাইকোর্ট ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর এক রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আপিল বিভাগে বিচারাধীন।

এ ছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে ৭ বছর কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। এরপর এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া। এই আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন।

সারাবাংলা/এজেডকে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন