বিজ্ঞাপন

শুভ জন্মদিন সাকিব আল হাসান

March 24, 2020 | 7:09 pm

স্পোর্টস ডেস্ক

করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন সাকিব আল হাসান। একদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানাচ্ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্বেচ্ছা হোম কোয়ারেনটাইনে আছেন তিনি। কাছাকাছি থাকা সত্বেও পারিবারের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করছেন না। এভাবেই ৩২ পেরুলেন সাকিব। ৩২ বছর থেকে আজ ৩৩’শে পা রাখলেন বাংলাদেশের বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার। সারাবাংলা ডটনেটের পক্ষ থেকে সাকিবকে ৩৩তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

বিজ্ঞাপন

গত প্রায় এক যুগ ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিজ্ঞাপন তিনি। বছর দশেক ধরে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান, সেরা বোলার এবং অন্যতম সেরা ফিল্ডারও। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ক্রিকেটীয় সামর্থ বিরল। ভারতের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে একবার বলেছিলেন, 'সাকিবের মতো ক্রিকেটাররা একবারই জন্মে।'

বিজ্ঞাপন

বিরল এই প্রতিভার জন্ম ১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ, মাগুরা জেলায়। বাবা মাশরুর রেজা ছিলেন কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা, মা গৃহিনী। বাবা এলাকার নামকরা ফুটবলার ছিলেন। জেলার বিভিন্ন লিগে খেলতেন দাপুটের সঙ্গে। কিন্তু ফুটবলার বাবার সন্তান সাকিব শৈশবে পৌঁছুতেই ঝুঁকে পড়েন ক্রিকেটে। গ্রামাঞ্চলে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে চোখে পড়ে যান এক আম্পায়ারের। সেখান থেকে মাগুরার ইসলামপুর পাড়া ক্লাবে। এভাবেই বিশ্বসেরা হওয়ার সূচনা।

সদ্য সাবেক হয়ে যাওয়া ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্ত্তজার সুপারিশে বিকেএসপিতে ৬ মাসের একটা কোর্সে ভর্তি হন সাকিব। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বিকেএসপিতে আলো ছড়িয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে সুযোগ পেয়ে যান অনূর্ধ্ব-১৯ দলে।

২০০৫ ও ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ১৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ৩৫.১৮ গড়ে রান করেন ৫৬৩ এবং ২০.১৮ গড়ে উইকেট নেন ২২টি।

বাংলাদেশ জাতীয় দল তখন ধুঁকছিল। ২০০৬ সালের নভেম্বরে মুশফিকুর রহিম, ফরহাদ রেজার সঙ্গে ওয়ানডে দলে ডাক পেয়ে যান সাকিবও। প্রথম ম্যাচে ১০ ওভার বোলিং করে ৩৯ রান খরচায় নিয়েছিলেন ১ উইকেট, ব্যাটিংয়ে ৪৯ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত ছিলেন। তারপর থেকে ফর্মের কারণে কখনোই দল থেকে বাদ পড়তে হয়নি বাঁহাতি এই ক্রিকেট জাদুকরকে।

সাকিব

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই টি-টোয়েন্টি অভিষেক ওই বছরেরই নভেম্বরে, খুলনায়। চট্টগ্রামে ভারতের বিপক্ষে টেস্টে আভিষেক ২০০৭ সালের মে’তে। তারপর ৫৬ টেস্টে ৩৯.৪০ গড়ে ৫ সেঞ্চুরি ২৪ হাফ সেঞ্চুরিতে রান করেছেন ৩ হাজার ৮৬২। ৩১ দশমিক ১২ গড়ে উইকেট নিয়েছেন ২১০টি। ম্যাচে দশ উইকেট নিয়েছেন দুবার।

ওয়ানডেতে ২০৬ ম্যাচ খেলে ৩৭.৮৬ গড়ে রান করেছেন ৬ হাজার ৩২৩টি। সেঞ্চুরি ৯টি, হাফ সেঞ্চুরি ৪৭টি। উইকেট নিয়েছেন ২৬০টি। গড় ৩০ দশমিক ২১, ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন দুবার। ৭৬ টি-টোয়েন্টিতে ২৩ দশমিক ৭৪ গড়ে রান করেছেন ১ হাজার ৫৬৭। উইকেট নিয়েছেন ৯২টি। এর মাঝে তিন ফরম্যাটেই আইসিসির বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার হয়েছেন সাকিব।

২০০৯ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডে ফরম্যাটে আইসিসির অলরাউন্ডার র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠে বসেন সাকিব। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিন ফরম্যাটেই অলরাউন্ডার র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠে বসেন তিনি।

গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সেরা পারফরমার ছিলেন সাকিব। সাফল্যের চূড়ায় থাকতেই পড়েছেন নিষেধাজ্ঞার কবলে। আইপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে তা যথাসময়ে সংশ্লিষ্টকে না জানানোর কারণে ক্রিকেট থেকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন। এখনো নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই আছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।

নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার সময় বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবেও ভাবা হচ্ছিল তাকে। সাকিব প্রথম অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন ২০০৯ সালে। ২০১১ সালে তার নেতৃত্বেই দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলেছে বাংলাদেশ। সেবার দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে অধিনায়কত্ব হারিয়েছিলেন। এবার আটকে গেলেন নিষেধাজ্ঞায়। জন্মদিনে প্রত্যাশা, এবার ফিরলে আর কিছুতে আটকাবেন না সাকিব।

সারাবাংলা/এসএইচএস/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন