বিজ্ঞাপন

খুলশীতে হোম কোয়ারেনটাইনকে ‘পাত্তা’ই দিচ্ছে না বিদেশিরা

March 24, 2020 | 9:03 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীর অভিজাত খুলশী এলাকায় বসবাসরত বিদেশি নাগরিকরা হোম কোয়ারেনটাইনের নির্দেশনা মানছেনই না। সম্প্রতি নিজ দেশ ঘুরে আসা অন্তত ৩০ বিদেশি নাগরিকের খুলশী এলাকায় ঘোরাঘুরি, রেস্টুরেন্টে বসে আড্ডা দেওয়া, নিয়মিত কর্মস্থলে যাওয়ার বিষয়টি নজরে এসেছে জেলা প্রশাসনের। একাধিক বিদেশি নাগরিক বসবাস করেন— এমন একটি ভবনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাল পতাকা উড়িয়ে স্থানীয় জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া খুলশী থানাকে এসব বিদেশি নাগরিকদের নজরে রাখার জন্য বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নগরীর খুলশীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম। খুলশী থানার টিমও অভিযানে অংশ নেয়।

তৌহিদুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, চীনের মতো দেশ থেকে আসা অন্তত ৩০ নাগরিকের তথ্য পেয়েছি, যারা এই মার্চেই অথবা কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তারা কর্মসূত্রে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীতে বসবাস করেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, তারা কেউই হোম কোয়ারেনটাইন মানছেন না।’

বিজ্ঞাপন

তৌহিদুল বলেন, ‘তারা কর্মস্থলে যাচ্ছেন, বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যাচ্ছেন। খুলশীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে যাচ্ছেন, খাচ্ছেন— একেবারে দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম করছেন। তারা কেউই হোম কোয়ারেনটাইনের বিষয়টিকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। তাদের কারণে খুলশী এলাকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কা আছে। আমরা তাদের গতিবিধি সীমাবদ্ধ করার জন্য থানাকে নির্দেশ দিয়েছি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীর উত্তর খুলশীর ২ নম্বর সড়কের ৬১/সি বাসায় বসবাসরত জাপানের নাগরিক আকিরো সাইতো গত ১১ মার্চ নিজ দেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরেন। তিনি নিয়মিত তার কর্মস্থল সিইপিজেডের সেকশন-৭-এ একটি পোশাক কারখানায় যাচ্ছেন। একই বাড়িতে আরও কয়েকজন জাপানের নাগরিক বসবাস করেন। ওই বাড়িতে লাল পতাকা টানানো হয়েছে। বসবাসরত জাপানের নাগরিকদের নাম-ঠিকানাসহ স্টিকার লাগানো হয়েছে।

খুলশীর ২ নম্বর সড়কে ১২/২ নম্বর ভবনে দিব্যি খোলা আছে দক্ষিণ কোরিয়ানদের একটি রেস্টুরেন্ট। এটি পরিচালনায় জড়িত সি জং কিম গত ১৫ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি নিয়মিত রেস্টুরেন্টে বসছেন। রেস্টুরেন্টে নিয়মিত জাপান, কোরিয়া, চীন থেকে আসা নাগরিকদের আনাগোনা থাকে। রেস্টুরেন্টটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন