বিজ্ঞাপন

১০ কিলো দূরের ফাঁড়িতে ৩ দিনেও পৌঁছায় না ওসির নির্দেশ!

মার্চ ২৪, ২০২০ | ১১:৫১ অপরাহ্ণ

সাদ্দাম হোসাইন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: একজন ভুক্তভোগীকে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র মারধর করে ২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার পেতে ওই ভুক্তভোগী লিখিতভাবে অভিযোগ করেন থানায়। অভিযোগটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজ হাতে গ্রহণ করে তাকে জানিয়ে দেন, থানা থেকে ভুক্তভোগীর এলাকা স্থানীয় সাগরিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে ঘটনাটি তদন্তের জন্য নির্দেশনাপত্র পাঠানো হবে। ভুক্তভোগীকে এ বিষয়ে আশ্বাসও দেন তিনি। সে আশ্বাসে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ফিরে যান ওই ভুক্তভোগী।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, থানা থেকে ওই পুলিশ ফাঁড়ির দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। ওই ভুক্তভোগী তাই আশা করেছিলেন, ওসি যখন বলেছেন, খুব শিগগিরই হয়তো তার অভিযোগটি পৌঁছাবে ফাঁড়িতে। কিন্তু তিন দিন ধরে সকাল-বিকেল ওই ফাঁড়িতে গিয়েও তার কোনো নিদর্শন দেখতে পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী। ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিন দিন পেরিয়ে গেলেও সেই ১০ কিলোমিটার দূরত্ব পেরোতে পারেনি অভিযোগপত্রটি।

এ ঘটনা নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া থানায়। ভুক্তভোগীর নাম মো. শরীফ উদ্দিন (২৪)। তার বাড়ি হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ রেহানিয়ার রহমত বাজার এলাকায়।

বিজ্ঞাপন

থানায় দায়ের করা শরীফের অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, স্থানীয় তাহের নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮০ শতাংশ জমি ২২ লাখ টাকায় কেনার জন্য শরীফের সঙ্গে আলাপ হয়। এজন্য গত ১৯ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শরীফ জমি কেনার জন্য তাহেরের দেওয়া সময় অনুযায়ী স্থানীয় সাগরিয়া বাজারে উপস্থিত হন। জমি বিক্রেতাকে ২ লাখ টাকা দিয়ে জমি কেনার বায়না করবেন বলে বাজারের একটি ফল দোকানের সামনে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এমন সময় আচমকা পাশের এলাকার বাসিন্দা ওসমান নামে এক যুবক ১০-১২ জন নিয়ে এসে শরীফকে এলোপাতাড়ি মারধর করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় শরীফ তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত সাক্ষীদের সহায়তায় স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করেও কোনো প্রতিকার পাননি। আরও দুই দিন অপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ২২ মার্চ থানায় অভিযোগ দেন তিনি। ২২ মার্চের ২৩ ও ২৪ মার্চের সারাদিনও পেরিয়ে গেছে। তবে শরীফ প্রতিকার পাননি।

শরীফ সারাবাংলাকে বলেন, ভেবেছিলাম এ ঘটনায় ওসি স্যার হয়তো দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। তাই লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। উনি (ওসি) বললেন, অভিযোগটা সাগরিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেখানে যোগাযোগ করলেই হবে, থানায় আসতে হবে না— এমনই বলে পাঠিয়ে দিলেন আমাকে।

‘থানায় গিয়েছিলাম মামলা করতে। কিন্তু মামলা তো দূরের কথা, অভিযোগটাই তিন দিন ধরে আমলে নেননি ওসি স্যার। কারণ থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর সাগরিয়া ফাঁড়িতে গিয়ে সকাল-বিকেল খবর নিচ্ছি। ফাঁড়ির পুলিশ জানায়, তারা কোনো নির্দেশই পায়নি,’— বলেন শরীফ।

ভুক্তভোগী শরীফ বলছেন, থানায় মামলা করতে গেলে টাকা দিতে হয় বলে শুনেছেন তিনি। কিন্তু নিজে থানায় গিয়ে কোনো টাকা দেননি বলেই তার অভিযোগ আমলে নেওয়া হচ্ছে না বলে ধারণা তার।

এ বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত সাগরিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। ক্যাম্প ইনচার্জ পুলিশ পরির্দশক দুলাল চন্দ্র ভৌমিক প্রতিবারই জানিয়েছেন, তার কাছে কোনো নির্দেশ পৌঁছেনি।

১০ কিলোমিটার দূরের পুলিশ ফাঁড়িতে এখনো কেন অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনা পৌঁছেনি— মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে এ বিষয়ে জানতে চাই ওসির কাছে। এ ধরনের প্রশ্ন একজন প্রতিবেদক করতে পারেন কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন ওসি আবুল খায়ের। পরে তিনি সারাবাংলার কাছে দাবি করেন, ‘ওই দিনই নির্দেশ পৌঁছে গেছে। আমাদের এখান থেকে সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ চলে যায়।’

সাগরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ক্যাম্প ইনচার্জ জানিয়েছেন, শরীফের অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা তারা পাননি— এ তথ্য জানাতেই ওসি তাৎক্ষণিক কলটি কেটে দেন।

মঙ্গলবার সকালেই বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হয় হাতিয়ার সার্কেলে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) গোলাম ফারুকের কাছে। তিনি ওই ভুক্তভোগীর নামটা জেনে এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি দেখছি। তবে সারাদিন পেরিয়ে গেলেও সাগরিয়া পুলিশ ফাঁড়ি কোনো নির্দেশনা পায়নি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় নোয়াখালীর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আলমগীর হোসেনের কাছে। তিনি অভিযোগপত্রটি তার ইমেইল ঠিকানায় পাঠাতে বলেন। এরপর অভিযোগটি তাকে ইমেইল করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

সারাবাংলা/এসএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন