বিজ্ঞাপন

২৫ মাস ১৭ দিন পর ‘ফিরোজা’য় খালেদা

মার্চ ২৫, ২০২০ | ৪:৩০ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দুই বছরেরও বেশি সময়, সুনির্দিষ্টভাবে বললে দুই বছর এক মাস ১৭ দিন পর নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’য় পা রাখলেন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ সাত বছর যে ভবনটি থেকেই বিরোধী দলের রাজনীতির কলকাঠি নেড়েছেন, কারাবন্দি থাকায় দুই বছরেরও বেশি সময় সেই বাড়ি থেকেই দূরে থাকতে হয়েছিল তাকে। সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের মুক্তি পেয়ে সেই ‘ফিরোজা’তেই প্রত্যাবর্তন করলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে গুলশান ২-এর ৭৯ নম্বর রোডের এনইডি-১ নম্বর বাড়ি ‘ফিরোজা’র পথে রওনা দেন খালেদা জিয়া। ঠিক এক ঘণ্টা পর বিকেল সোয়া ৫টায় সেখানে পৌঁছেছেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, যার জিম্মাতেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাকে।  তার প্রাইভেট কারে চড়েই নিজ বাসভবনে যাচ্ছেন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে। গত বছরের এপ্রিল থেকে কারাবন্দি খালেদা এই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- মুক্তি পেলেন খালেদা

শামীম ইস্কান্দার ছাড়াও খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া ডা. হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত মেডিকেল টিমের সদস্যরাও ছিলেন। সবাইকে নিয়ে যখন খালেদা জিয়া ‘ফিরোজা’য় পা রাখেন, সেখানে এক আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এছাড়া খালেদা জিয়ার গাড়ির সঙ্গে হাসপাতাল থেকেই সঙ্গী হন দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা গোটা রাস্তা স্লোগান দিতে থাকেন। পথে কারওয়ান বাজারে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের ওপর মৃদু লাঠিচার্জও করে। তবে সেখানে তেমন একটা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

এর আগে, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে শেষবারের মতো ফিরোজায় ছিলেন খালেদা জিয়া। ওই দিন রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালতে হাজির হয়েছিলেন তিনি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সেদিন তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। সাজা ঘোষণার পর আদালত থেকেই পুরান ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। শুরু হয় সাজার মেয়াদ। ওই দিন থেকেই শূন্য ‘ফিরোজা’, খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন।

আরও পড়ুন- খালেদা জিয়ার জন্য প্রস্তুত ‘ফিরোজা’!

এরপর আদালতের প্রাঙ্গণে দীর্ঘ দুই বছর ঘুরেও জামিন মেলেনি খালেদা জিয়ার। গত বছরের এপ্রিলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তার। ভর্তি করা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার কারণ দেখিয়েও জামিন হয়নি। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় দেশ যখন ১০ দিনের সাধারণ ছুটির পথে, তখন মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঘোষণা এলো, নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত হচ্ছে। দুই শর্তে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা জিয়া।

সেই আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কারা মহাপরিদর্শক ও জেল সুপারের কার্যালয় ঘুরে পৌঁছালো বিএসএমএমইউ’তে। বিকেল ৪টায় হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এলেন খালেদা জিয়া। ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের গাড়িতে চড়ে রওনা হলেন গুলশানে নিজ বাসভবন ফিরোজা’র পথে। সাড়ে ৪টা নাগাদ দুই বছর এক মাস ১৭ দিন পর ফের ফিরোজা’য় পা পড়লো খালেদা জিয়ার।

আরও পড়ুন- ৬ মাসের জন্য মুক্তি খালেদা জিয়ার, থাকতে হবে বাসায়

খালেদা জিয়া না থাকলেও অবশ্য ‘ফিরোজা’কে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেই রেখেছেন— এমন দাবি ভবনটিতে নিয়োজিতদের। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তির খবরে তারা আরও একটু নড়েচড়ে বসেন মঙ্গলবার থেকে।  পুরো বাড়ি ফের ধুয়েমুছে পরিষ্কার করা হয়। খালেদা জিয়া এসে পৌঁছালে তার যেন কোনো সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করেন নিয়োজিতরা। বুধবার দুপুর ১২টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও ‘ফিরোজা’য় গিয়ে সবকিছুর দেখভাল করেন।

আরও পড়ুন-

মুক্তির আদেশ হাসপাতালে, প্রক্রিয়া চলছে দ্রুত গতিতে

আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই খালেদা জিয়ার মুক্তি: কাদের

খালেদার মুক্তির নথি এখনো পৌঁছেনি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে

‘হাসপাতাল ও খালেদা জিয়ার বাসার সামনে ভিড় না করার আহ্বান’

যেকোনো সময় মুক্তি খালেদার, হাসপাতালে অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা

খালেদা জিয়ার মুক্তি: পুরো বিষয়টি জেনে প্রতিক্রিয়া— মির্জা ফখরুল

খালেদার মুক্তি: করোনা ঝুঁকি উপেক্ষা করে হাসপাতালে নেতাকর্মীর ভিড়

সারাবাংলা/এজেড/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন