বিজ্ঞাপন

করোনা মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফকে সহায়তার অনুরোধ অর্থমন্ত্রীর

March 25, 2020 | 6:44 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:

বিজ্ঞাপন

ঢাকা: বিশ্বব্যাংক গ্রুপ এবং আইএমএফকে করোনাভাইরাস মোবাবিলায় বৃহত্তর সহযোগিতা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বুধবার (২৫ মার্চ) এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি সংস্থা দুটির সঙ্গে বৈঠকে এ অনুরোধ করেন।

বিজ্ঞাপন

আমরা সবাই জড়ো হয়েছি কিছু উপায় এবং পথ খুঁজে বের করে এই পৃথিবীর মানব সম্প্রদায়ের কাছে আশার আলো প্রদর্শন করার জন্য। এই বাক্য দিয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল বক্তব্য শুরু করেন বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সদর দপ্তরের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে।

রাজধানীর শের-ই বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির নিজ দফতর থেকে এ কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পুরো বিশ্ব সম্প্রদায় এখন একটি ক্রান্তিকাল পার করছে। করোনাভাইরাসের কারণে আজ মানব সম্প্রদায়ের জীবন ও অস্তিত্ব হুমকীর সম্মুখীন হয়েছে। এমন একটি মুহূর্তে এই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের জন্য বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফ-এর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যেমন, বিগত তিন বছর ধরে ধারাবাহিক সাত শতাংশের অধিক হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারাবাহিকতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে আট দশমিক ১৫ শতাংশ, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশসমূহের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ। আমরা এই বছর আট দশমিক দুই শতাংশ আশা করছিলাম। আমাদের এই ঈর্ষণীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রধান চালিকা শক্তি হচ্ছে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সহায়ক রাজস্ব ও মুদ্রানীতি। দুর্ভাগ্যক্রমে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশের জিডিপির এক দশমিক এক শতাংশ ক্ষতি হতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বিশ্লেষণে এই আশংকা ব্যক্ত করেছে। যখন আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্যসমুহ অর্জনসহ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অপেক্ষায় আছি, এমন একটি সময়ে বাংলাদেশসহ বিশ্ব অর্থনীতি করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন।’

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সবাই অবগত আছেন যে, এই মারাত্মক ভাইরাসের সংক্রমণ অতি দ্রুত ছড়ায়। করোনা সংক্রমণ রোধে এক মরিয়া পদক্ষেপ হচ্ছে অভূতপূর্ব লকডাউন, শাটডাউন এবং যোগাযোগ ব্যাহতকরণ। যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিবার্যভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশ্ব শেয়ারবাজার ইতোমধ্যে ২৮-৩৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই মন্দা দীর্ঘকাল স্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এক দশমিক পাঁচ শতাংশে নেমে যেতে পারে। বাংলাদেশও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আমরা উদ্বিগ্ন এই সংকটটি আমাদের অর্থনীতিকে বহুমাত্রিক দিক থেকে আঘাত করতে পারে। ইউরোপ ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের শাট ডাউনের কারণে আমাদের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকের চাহিদা হ্রাসে এ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের অবকাঠামো খাতের প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতিকে অনেকটা চাঙ্গা করে রেখেছে। কিন্তু আমরা উদ্বিগ্ন যে এই করোনা ভাইরাস মহামারিজনিত কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী বিদেশ থেকে ফিরে এসেছেন বলে রেমিটেন্সের ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন। কোনো দেশের একার পক্ষে এরকম একটি দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই এই সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য আমরা আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপকে আমাদের পাশে থাকার অনুরোধ করব। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ এবং আইএমএফকে বিনীতভাবে অনুরোধ করব যে বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তাদের বৃহত্তর সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেজে/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন