বিজ্ঞাপন

ছুটি মেলেনি পোশাক শ্রমিকদের

মার্চ ২৫, ২০২০ | ১১:১০ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেও ছুটি পেলেন না পোশাককর্মীরা। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও রফতানি আয়ের প্রধান এই খাতের শ্রমিকরা ছুটির আওতার বাইরে থাকছেন। শ্রমিক ও পোশাক মালিকরা জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের অপেক্ষায় ছিলেন। ভাষণে রফতানিমুখী শিল্পে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করা হলেও সরকারপ্রধানের বক্তব্যে ছুটির প্রসঙ্গটি স্পষ্ট নয়। ফলে ছুটি নিয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে আসেননি মালিকরা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণে তিনি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে রফতানি খাতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা জানান। সেইসঙ্গে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। বলেন, এই তহবিলের অর্থ দিয়ে কেবল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে।

আরও পড়ুন- রফতানি শিল্পে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা: প্রধানমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক সারাবাংলাকে বলেন, ‘শ্রমিকদের বেতনের সহায়তার জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করায় আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞ। পোশাক খাতে প্রতিমাসে শ্রমিকদের বেতন দেয় ৪ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে রফতানি বন্ধ থাকায় বা রফতানি আদেশ স্থগিত ও বাতিল হওয়ায় এই খাতকে প্রভাবিত করবে, যা কাটিয়ে উঠতে আমাদের হোঁচট খেতে হবে। এই সময়ে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্য এই প্রণোদনা খুবই  স্বস্তিদায়ক। এটি আমাদের জন্য সহায়ক হবে।’

পোশাক কারখানা খোলা বা বন্ধ রাখা বিষয়ে জানতে চাইলে রুবানা হক সারাবাংলাকে বলেন, ‘কারখানা বন্ধ বা খোলা রাখার ক্ষেত্রে সমিতি হিসেবে বিজিএমইএ’র কর্তৃত্ব নেই। এটি সরকারের সাধারণ নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে। সরকার এক্ষেত্রে কারখানাগুলো সাধারণ ছুটির আওতার বাইরে রেখেছে। বর্তমানে প্রতিনিয়ত ক্রয়াদেশ বাতিল হচ্ছে, সকল শ্রমিকের জন্য কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছে, তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে আমরা নজরদারি করছি।’

আরও পড়ুন- ভাষণে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী [পূর্ণাঙ্গ ভাষণ]

এদিকে, সোমবার (২৩ মার্চ) সরকারের পক্ষ থেকে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস জানিয়েছিলেন, পোশাক খাত সাধারণ ছুটির আওতার বাইরে থাকছে। সুরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কারণেও কিছু পোশাক কারখানা খোলা রাখার প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি। পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র পক্ষ থেকে সেদিন বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবেন।

তবে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগেই ২৬ ও ২৭ মার্চ দেশের নিটওয়্যার খাতের কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে নিটওয়্যার খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নিট খাতে করণীয় বিষয়ে বিকেএমইএ সদস্যদের কাছে বুধবার (২৫ মার্চ) চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস সরকারি ছুটি ও ২৭ মার্চ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় ওই দুই দিন শ্রমিকদের সুবিধার্থে (বিশেষ করে তাদের বাজার, ওষুধপত্র কেনা, নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজের কারণে) সম্ভব হলে আপনার কারখানা বন্ধ রাখার জন্য আমরা সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে যথাসময়ে মার্চ মাসের বেতন পরিশোধের বিষয়ে এখনই কারখানা মালিকদের পদক্ষেপ নিতেও আহ্বান জানানো হয়েছে। আর কাজ না থাকলেও কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে বিকেএমইএ।

আরও পড়ুন- ছুটি চান গার্মেন্টস শ্রমিকরা

কারখানা বন্ধের বিষয়ে কিছু না জানালেও কারখানাগুলোর প্রধান কার্যালয় খোলা রাখার প্রসঙ্গে বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বিজিএমএই। বাণিজ্য সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুভার্বের মধ্যেও শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের দিক যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোকে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হয়েছে। করোনাভাইরাসের দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে কারখানা ও কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রয়োজেন কারখানাগুলোর প্রধান কার্যালয়/অফিস খোলা রাখতে হচ্ছে।

তবে সারাবাংলার সঙ্গে আলাপকালে একাধিক শ্রমিক বর্তমান পরিস্থিতিতে সবার মানসিক অবস্থা বিবেচনায় ছুটি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছিলেন, ১৬ কোটি মানুষের বাইরে নন পোশাককর্মীরাও। স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় তাদেরও ছুটি পাওয়া উচিত। একই রকম দাবি ছিল একাধিক শ্রমিক নেতারও। যেকোনো মুহূর্তে ছুটি ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করছিলেন কারখানার মালিকরাও। তবে এখন পর্যন্ত সে সিদ্ধান্তটি স্পষ্ট হলো না।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন